শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬, ১০:৩৬ পূর্বাহ্ন
যুক্তরাজ্যের বিরোধী দল কনজারভেটিভ পার্টির প্রধান কেমি ব্যাডেনোচ দুর্নীতির অভিযোগে টিউলিপ সিদ্দিককে বরখাস্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, তাদের দল প্রশাসনে দুর্নীতিগ্রস্ত কোনো মন্ত্রী দেখতে চায় না।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি রোববার (১২ জানুয়ারি) এক প্রতিবেদনে জানায়, কিয়ার স্টারমারের প্রতি বার্তা দিয়ে কেমি ব্যাডেনোচ টিউলিপকে পদ থেকে সরানোর দাবি জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি পোস্টে কনজারভেটিভ পার্টির এই নেতা উল্লেখ করেন, যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের উচিত অবিলম্বে টিউলিপ সিদ্দিককে বরখাস্ত করা। তিনি তার ঘনিষ্ঠ বন্ধুকে দুর্নীতি প্রতিরোধের দায়িত্ব দিয়েছেন, অথচ টিউলিপ নিজেই দুর্নীতির অভিযোগে জড়িত।
টিউলিপ সিদ্দিক লেবার পার্টির একজন সংসদ সদস্য এবং যুক্তরাজ্যের অর্থ মন্ত্রণালয়ের ইকোনমিক সেক্রেটারি। এই পদে তিনি দেশের আর্থিক খাতে দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের দায়িত্ব পালন করছেন। তবে শেখ হাসিনার সরকারের সঙ্গে তার যোগসূত্র নিয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। জানা গেছে, বাংলাদেশের অবকাঠামোগত প্রকল্পের ব্যয়ের মাধ্যমে ৩.৯ বিলিয়ন পাউন্ড আত্মসাতের বিষয়ে তদন্তে টিউলিপের নাম উঠে এসেছে। পাশাপাশি, আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে সন্দেহজনকভাবে ফ্ল্যাট পাওয়ার অভিযোগও উঠেছে।
কেমি ব্যাডেনোচ আরও বলেন, টিউলিপ সিদ্দিক এখন একটি বিতর্কিত বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছেন। সরকারের উচিত দেশের অর্থনৈতিক সমস্যার সমাধানে মনোযোগ দেওয়া, কিন্তু তারা টিউলিপের বিষয়টি নিয়ে সংকটে পড়েছে। এদিকে, শেখ হাসিনার শাসনের সঙ্গে টিউলিপের যোগাযোগ নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে।
বৃহস্পতিবার (৯ জানুয়ারি) দ্য টাইমস-এর এক প্রতিবেদনে উঠে আসে যে, ডাউনিং স্ট্রিট ইতোমধ্যেই টিউলিপ সিদ্দিকের বিকল্প খুঁজছে। তার সম্ভাব্য উত্তরসূরিদের একটি তালিকা তৈরি করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগের প্রেক্ষিতে তাকে পদত্যাগে বাধ্য করা হতে পারে। যদিও টিউলিপ নিজেকে নির্দোষ বলে দাবি করেছেন এবং তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন, তবু যুক্তরাজ্যের শাসক দল তার কারণে চাপে রয়েছে।
দ্য টাইমসের তথ্যানুযায়ী, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমারের শীর্ষ কর্মকর্তারা টিউলিপের বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে তাকে সরিয়ে দেওয়া হতে পারে। এমন সম্ভাবনার কারণে টিউলিপের বিকল্প হিসেবে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। তবে স্টারমার প্রকাশ্যে টিউলিপের প্রতি তার আস্থা জানিয়েছেন এবং বলেছেন, তিনি টিউলিপের ওপর পূর্ণ আস্থা রাখেন।
ডাউনিং স্ট্রিটের মুখপাত্র বলেছেন, টিউলিপের বিকল্প খোঁজা হচ্ছে বলে যে তথ্য প্রকাশিত হয়েছে, তা ভিত্তিহীন। তবে টাইমস জানায়, প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ের কেউ কেউ টিউলিপের উত্তরসূরিদের বিষয়ে অনানুষ্ঠানিক আলোচনা করছেন।
উল্লেখ্য, শেখ হাসিনার পতনের পর টিউলিপ সিদ্দিকের নামও আওয়ামী লীগ সরকারের দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত বলে উঠে আসে। সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে প্রকাশিত হয়, আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ এক ব্যক্তির কাছ থেকে বিনামূল্যে দুটি ফ্ল্যাট পেয়েছেন টিউলিপ। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম এই বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেছে।