শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ০৩:২৬ অপরাহ্ন
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, “দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্যি, কিছু কিছু বক্তব্য উঠে আসছে যে বিএনপি নাকি সংস্কার চায় না, তারা কেবল নির্বাচন চায়। এই বক্তব্য সঠিক নয়। আমরা এমন একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন করতে চাই, যার জন্য ন্যূনতম প্রয়োজনীয় সংস্কারগুলো করা হবে।”
শুক্রবার (২৭ ডিসেম্বর) রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত “ঐক্য কোন পথে” শীর্ষক জাতীয় সংলাপে অংশ নিয়ে মির্জা ফখরুল এই মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, “বাংলাদেশ বর্তমানে এক অত্যন্ত জটিল রাজনৈতিক বাস্তবতার মধ্য দিয়ে অগ্রসর হচ্ছে। আজকের আলোচনায় ঐক্য, সংস্কার এবং নির্বাচন নিয়ে যে প্রশ্নগুলো উঠে এসেছে, সেগুলো আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি আমাদের দুর্ভাগ্য যে স্বাধীনতার ৫৩ বছর পরও আমরা এ ধরনের বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে বাধ্য হচ্ছি। এটি খুবই ভালো হতো, যদি স্বাধীনতার পরপরই আমরা এ ধরনের সমস্যাগুলো সমাধানের পথে অগ্রসর হতে পারতাম।”
মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়ের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, “আমাদের মনে রাখতে হবে, একাত্তরের গৌরবময় অধ্যায় কখনো ভুলে যাওয়া উচিত নয়। একাত্তরের পর থেকে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার যে ধারাবাহিক সংগ্রাম চলছে, সেই সংগ্রামে যারা আত্মত্যাগ করেছেন, তাদের প্রতিটি অবদান আমাদের স্মরণে রাখা উচিত। ছাত্রসমাজের যে লড়াই এবং আত্মত্যাগ, সেটিই আমাদের আজকের অবস্থানে পৌঁছাতে সহায়তা করেছে।”
তিনি আরও বলেন, যারা সংস্কার কমিশনের দায়িত্বে রয়েছেন, তাদের জনগণের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমি শুনেছি তারা তাদের সুপারিশ তৈরি করে সরকারের কাছে উপস্থাপন করবেন এবং পরে সরকার রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করবে। তবে আমার মনে হয়, যদি তারা রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আগে থেকে বসতেন, তাহলে এটি আরও কার্যকর হতে পারত। এখন সরকার যখন বসবে এবং আলোচনা শুরু হবে, তখন আরও অনেক সময় প্রয়োজন হবে। যত বেশি সময় গড়াবে, সমস্যাগুলো তত গভীর হতে থাকবে। মূল সমস্যা কিন্তু অন্য জায়গায়। আপনি যাদের দিয়ে এগুলো বাস্তবায়ন করবেন, তারাই তো বড় প্রশ্ন।”
বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, “আপনার প্রশাসন এবং সরকার ব্যবস্থাপনা এখনো পুরোপুরি ফ্যাসিবাদী কাঠামোর মধ্যে বন্দী। এই কাঠামোতে এতটুকুও পরিবর্তন আসেনি। শুধু ওপর থেকে চাপিয়ে দিলেই কোনো সমস্যার দ্রুত সমাধান হবে না। কাঠামো ঠিক না হলে আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলো কার্যকর হবে না। তাই প্রথমে আমাদের কাঠামোগত সংস্কার করতে হবে। প্রতিষ্ঠানগুলোকে গণতন্ত্রের উপযোগী করে গড়ে তুলতে হবে। এই প্রতিষ্ঠানগুলোর সঠিক গঠনের মাধ্যমেই আমরা প্রকৃত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে পারব।”