শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬, ০৯:৪৮ পূর্বাহ্ন
বিএনপি নেতারা দাবি করেছেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সহযোগীদের রক্ষা করতেই সচিবালয়ের ৭ নম্বর ভবনে পরিকল্পিতভাবে আগুন লাগানো হয়েছে এবং তারা উচ্চপর্যায়ের একটি কমিটি গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন ঘটনার তদন্তের জন্য।
বৃহস্পতিবার (২৬ ডিসেম্বর) ঢাকা শহরের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে এসব মন্তব্য করেছেন দলের নেতারা।
সচিবালয়ে আগুনে গুরুত্বপূর্ণ নথি পুড়ে যাওয়া কোন সাধারণ ঘটনা নয়- রাজধানীর ডিআরইউতে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে শেখ হাসিনার আমলের নথি চাওয়ার পরেই এসব নথি গায়েব করতে আগুন লাগানো হয়েছে। তিনি নিরপেক্ষ রাষ্ট্রীয় তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
রিজভী আরও বলেন, জাতীয় পার্টির প্রয়াত চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের চেয়েও বেশি নিষ্ঠুরতা শেখ হাসিনা দেখিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন, ভারত সব জানার পরেও শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দিয়েছে এবং গণমাধ্যমের মাধ্যমে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।
গুম, খুন ও ক্রসফায়ারের মতো অপরাধ যাদের দ্বারা করা হয়েছে, তাদেরকে সমর্থন করছে ভারত- এমন অভিযোগ করেন রিজভী। তিনি জানান, হাসিনার মাধ্যমে ভারতের উপনিবেশ কায়েমের চেষ্টা চলছে এবং এটি বাস্তবায়নে তারা কাজ করছে। তবে তিনি আশা প্রকাশ করেন, জনগণ চূড়ান্ত গণতন্ত্রের পথে এগিয়ে যাবে।
রিজভী বলেন, “আমরা শুনছি, এক নতুন রাজকীয় দলের পরিকল্পনা চলছে। যদি গোয়েন্দারা ঠিক করে দেন কে কোন দল করবেন, তাহলে শেখ হাসিনার সঙ্গে পার্থক্য কোথায়? দেশের মানুষ এসব মেনে নেবে না।” তিনি প্রশ্ন তোলেন, বর্তমান সরকারের মধ্যে যা কিছু চলছে, তা কি দেশের জনগণের জন্য ভালো ফল বয়ে আনবে?
তিনি আবারও জানান, ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট এবং সাইবার সুরক্ষা আইনের মধ্যে তিনি কোনো পার্থক্য দেখতে পান না। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, সাইবার সুরক্ষা-২০২৪ যদি বর্তমান সরকার পরিচালনা করে, তবে বাকস্বাধীনতা পুনরায় সংকুচিত হবে এবং সংস্কারের সঠিক রূপরেখা অনিশ্চিত হবে।
এদিকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “এ সরকারকে আমরা প্রতিষ্ঠা করেছি। যেই গণতন্ত্রের জন্য আমরা লড়াই করেছি, সেটি প্রতিষ্ঠার জন্য নির্বাচন আয়োজন করতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “যারা সমালোচনা করেন তারা তো কিছুই করেননি, তারা সমালোচনা করার যোগ্যতা অর্জন করতে হবে। রাজনীতি করে দেখাতে হবে।”
জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে একটি প্রতিবাদ সভায় বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদীন ফারুক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দোসরদের সমালোচনা করে বলেন, “যারা ১৬ বছর গণতন্ত্রকে হত্যা করেছেন, তারা এখনো কীভাবে সচিবালয়ে বসে আছেন?”
তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দোসরদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
গণতন্ত্র ফোরামের বক্তারা শেখ হাসিনা ও তার সহযোগীদের দুর্নীতির বিরুদ্ধে শ্বেতপত্র প্রকাশের দাবি জানান এবং দ্রুত নির্বাচন আয়োজনের মাধ্যমে জনগণের ক্ষমতা জনগণের হাতে ফিরিয়ে দেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন।
এদিকে, মধ্যরাতে সচিবালয়ের ৭ নম্বর ভবনে আগুন লাগে। এতে এক ফায়ার সার্ভিস কর্মী নিহত হন এবং আরো একজন আহত হন। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ওয়েবসাইটে জানানো হয়েছে, সচিবালয়ের ৭ নম্বর ভবনে ৬টি মন্ত্রণালয় ও একাধিক বিভাগের অফিস রয়েছে।
আগুনের ঘটনায় ১৯টি ফায়ার ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। সেনাবাহিনী ও পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তবে প্রাথমিকভাবে আগুন লাগার কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।