সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬, ০৮:৪২ পূর্বাহ্ন
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী মন্তব্য করেছেন, বঙ্গভবন থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি নামানো একেবারে সঠিক সিদ্ধান্ত নয়। খন্দকার মোশতাকও বঙ্গবন্ধুর ছবি নামিয়েছিলেন, তবে পরবর্তীতে জিয়াউর রহমান আবার সেই ছবি টাঙিয়েছিলেন।
মঙ্গলবার (১২ নভেম্বর) সকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ৭ নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প ও রক্তদান কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
রুহুল কবির রিজভী আরও বলেন, জাতীয় পর্যায়ে যাদের অবদান রয়েছে, তাদের সম্মান জানানো উচিত। কেউ যদি কোনো অপরাধ করে, তখন তা ইতিহাস ও জনগণ বিচার করবে। আওয়ামী লীগের মত সংকীর্ণমনা দল বিএনপি নয়। মুজিবের ছবি তুলে ফেলা উচিত হয়নি, কারণ বঙ্গভবন থেকে বঙ্গবন্ধুর ছবি সরানো ঠিক হয়নি। খন্দকার মোশতাকও তাঁর ছবি নামিয়েছিলেন, তবে জিয়াউর রহমান আবার সেই ছবি টাঙিয়েছিলেন।
এ সময় তিনি আওয়ামী লীগ সরকারের সমালোচনা করেন। বলেন, শেখ হাসিনার শাসনামলে, ভালো ডাক্তার হওয়া সত্ত্বেও অনেককে পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে শুধুমাত্র বিএনপির সাথে যুক্ত থাকার কারণে। রাজনৈতিক কারণে অনেকেই বঞ্চিত হয়েছেন, তাদের অনেকেই একই পদে ১৫-১৬ বছর কাজ করেছেন।
তিনি আরও বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যদি কম অত্যাচার করতেন, তাহলে তাকে দেশ ছাড়তে হতো না। তিনি জানেন, কাকে কাকে গুম করা হয়েছে এবং কার প্রতি অন্যায় করা হয়েছে। অন্যায় করলে কেউই নিজ দেশে থাকতে পারে না, তাকে পালাতে হয়।
বর্তমান স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও সচিবদের বিষয়ে রিজভী বলেন, আজ যারা এসব পদে আছেন, তাদের কোনো বিশেষ অবদান নেই। তারা গণতন্ত্রের জন্য কোনো আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেননি, বরং আন্দোলন থামানোর চেষ্টা করেছিলেন। ড্যাবের ডাক্তাররা যখন ন্যায্য কথা বলেন, তখন তারা বিরক্ত হন। যেসব ডাক্তাররা আন্দোলনের পক্ষে ছিলেন, তাদের কথা উল্লেখ করে রিজভী বলেন, “আজকের শেখ হাসিনার সরকারের পতন হলে তাদের চাকরি থাকবে না।”
তিনি আরো বলেন, “আপনাদেরকেও চিনে রাখছি। আপনারা শেখ হাসিনার দোসর।”
এদিকে, বঙ্গভবনের দরবার হল থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি সরানোর খবর প্রকাশ পেয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের নতুন উপদেষ্টা মাহফুজ আলম সোমবার তার ফেসবুক পেজে এই তথ্য জানান।