সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬, ০৭:৫৩ পূর্বাহ্ন
সাবেক পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান ২০ দিন কারাবাসের পর বৃহস্পতিবার বিকেলে নিজ বাড়িতে ফিরেছেন।
এদিন বিকেলে সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলায় এম এ মান্নানের গ্রামের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় ঘরভর্তি মানুষের সমাগম। নামাজ শেষে এম এ মান্নান সবার সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন।
এম এ মান্নান জানান, “জুলাই মাসের ২৪ তারিখ থেকে আজ পর্যন্ত আমি শান্তিগঞ্জে অবস্থান করছি। এর মধ্যে ২০ দিন আমি কারাগারে ছিলাম। আমাকে সুনামগঞ্জের একটি মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছিল। ৪ আগস্টে সুনামগঞ্জে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনার কারণে আমিসহ আরও অনেকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। মামলার বিষয়ে আমার কিছু জানা ছিল না। গায়েবি মামলা কি না, জানি না। আমি কারো পরিচিতও নই।”
তিনি আরও বলেন, “গত তিন মাসে আমি একবারও সুনামগঞ্জ শহরে যাইনি। সেখানে আমার কোনো ঘরবাড়ি নেই, আমি সেখানে বাস করি না। আমি সুনামগঞ্জ আওয়ামী লীগের কোনো নেতাও নই। সুতরাং, আমি সুনামগঞ্জ তথা বাংলাদেশের আওয়ামী লীগের কোনো কমিটিতেও নেই। তবে আমি আওয়ামী লীগকে সমর্থন করি। হ্যাঁ, আমি আওয়ামী লীগের এমপি-মন্ত্রী ছিলাম, কিন্তু সুনামগঞ্জের আওয়ামী লীগের সঙ্গে আমার সরাসরি কোনো সম্পর্ক ছিল না। হঠাৎ করেই দেখি আমার বিরুদ্ধে মামলা হলো।”
সাবেক পরিকল্পনামন্ত্রী জানান, “আমি নির্ভয়ে বাড়িতে ছিলাম। পালানোর কোনো কারণ ছিল না। মামলা দায়েরের কিছুদিন পর, ১৯ সেপ্টেম্বর রাত ১১টায় সুনামগঞ্জের এসপি এসে আমাকে গ্রেফতার করলেন। সেদিন থেকেই আমি জেলে ছিলাম। প্রথমে সুনামগঞ্জের জেলে, পরে বাদাঘাটের জেলে ছিলাম। শেষ দুই দিন আমি অসুস্থ হয়ে ওসমানী মেডিকেলে ভর্তি ছিলাম। গতকাল আদালত আমাকে জামিন দিয়েছে।”
এম এ মান্নানকে প্রশ্ন করা হলে, “আপনার সমর্থনে একপক্ষ মানববন্ধন করেছে আবার অন্য একটি পক্ষ আপনার শাস্তি চেয়েছে, এই পরিস্থিতিতে আপনি কী ভাবছেন?” তিনি জানান, “আমার সমর্থকেরা মানববন্ধন করেছে, শুনেছি। তবে আমার কাছে মোবাইল বা এমন কিছু ছিল না যা দেখে জানার সুযোগ পেতাম। প্রথম দিন থেকেই আমার হাতের ঘড়ি ও মোবাইল এসপি সাহেব নিয়ে গেছেন।”
সুস্থতার বিষয় নিয়ে তিনি বলেন, “পুলিশ প্রশাসন ও হাসপাতালের ডাক্তাররা আমার সঙ্গে ভালো আচরণ করেছেন। ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আমি যথেষ্ট ভালো চিকিৎসা পেয়েছি। বড় বড় ডাক্তাররা আমার চিকিৎসা করেছেন। গতকাল থেকে আজ সারাদিন তারা আমাকে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে দেখছেন। তারা মনে করেন, আমি ভালো আছি। তবে শারীরিকভাবে ভালো দেখালেও মানসিকভাবে আমি অবসাদে আছি, বিধ্বস্ত অনুভব করছি।”
তিনি আরও বলেন, “আমি কখনো ভাবিনি আমি জেলে যাব। এটা সম্ভবত আমার ভুল। আমি নির্বোধ ছিলাম, কারণ আমি ভাবিনি আমি জেলে যাব। আমি মনে মনে কষ্ট পেয়েছি যে, কেন আমি জেলে গেলাম। আমি তো কিছু করিনি। আর যে মামলায় আমি জেলে গিয়েছিলাম, সেটি দোয়ারাবাজারের একজন লোক করেছে, যাকে আমি চিনি না। ঘটনার দিন আমি সুনামগঞ্জ শহরেই ছিলাম না।”
জামিন পাওয়ার ব্যাপারে এম এ মান্নান বলেন, “আদালত আমাকে বিবেচনা করেছে এবং জামিন মঞ্জুর করেছে। আমি এজন্য কৃতজ্ঞ। সুনামগঞ্জের সুশীল সমাজ এবং নিজ এলাকার মানুষদের দোয়ায় আমি জামিন পেয়েছি।”