সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬, ০৯:০১ পূর্বাহ্ন
মার্কিন প্রেসিডেন্ট-নির্বাচিত ডোনাল্ড ট্রাম্পের বড় ছেলে মঙ্গলবার ব্যক্তিগত সফরে গ্রিনল্যান্ডে পৌঁছেছেন। এর ফলে এই ধারণা আবারও উস্কে উঠেছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রশাসন খনিজে সমৃদ্ধ ডেনমার্কের এই অঞ্চলটির উপর নজর দিতে পারে।
ডেনিশ সরকারি সম্প্রচার মাধ্যম জানিয়েছে, ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়রের বিমানটি বরফে ঢাকা অঞ্চলটির রাজধানী নুকে অবতরণ করেছে, যেখানে প্রায় ৫৭ হাজার মানুষ বসবাস করে। স্থানীয় মিডিয়ায় প্রচারিত ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, ট্রাম্প জুনিয়র বরফে মোড়া টারম্যাক দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন।
এক বিবৃতিতে গ্রিনল্যান্ড সরকার জানিয়েছে যে এটি সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত সফর এবং ট্রাম্প জুনিয়রের সাথে কোনো সরকারি বৈঠকের পরিকল্পনা নেই। উল্লেখ্য, গ্রিনল্যান্ড একটি স্বশাসিত অঞ্চল যা ডেনমার্কের অধীনে রয়েছে।
গ্রিনল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী সচিব মিনিংগুয়াক ক্লেইস্ট বলেছেন, এই সফরের বিষয়ে প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। তিনি আরও যোগ করেন যে, ট্রাম্প জুনিয়র গ্রিনল্যান্ডে চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা অবস্থান করবেন এবং তার সফর পরিকল্পনায় কোনো সরকারি বৈঠকের অনুরোধ করা হয়নি।
যদিও এটি একটি ব্যক্তিগত সফর হিসেবে বিবেচিত, রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা এটিকে কৌশলগত গুরুত্বের সাথে দেখছেন। প্রেসিডেন্ট-নির্বাচিত ট্রাম্প পূর্বেও আর্কটিক অঞ্চলগুলোর উপর দৃষ্টি দিয়েছিলেন এবং সেগুলোতে আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। এই অঞ্চলের কৌশলগত গুরুত্ব এখন চীন, রাশিয়া, এবং অন্যান্য শক্তির কাছে বাড়ছে।
গ্রিনল্যান্ড, বিশ্বের সবচেয়ে বড় দ্বীপ, আটলান্টিক এবং আর্কটিক মহাসাগরের মাঝখানে অবস্থিত। এখানে যুক্তরাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি রয়েছে এবং দ্বীপের প্রায় ৮০ শতাংশ বরফে ঢাকা থাকে।
সোমবার রাতে ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম প্ল্যাটফর্মে একটি পোস্টে “মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন” স্লোগানের প্রসঙ্গ টেনে লিখেছেন, “আমি শুনেছি গ্রিনল্যান্ডবাসী ‘ম্যাগা’র ভক্ত। আমার ছেলে ডন জুনিয়র এবং তার সঙ্গীরা সেখানে ভ্রমণ করে অসাধারণ জায়গাগুলো দেখবেন।”
তিনি আরও লেখেন, “গ্রিনল্যান্ড একটি অভূতপূর্ব স্থান এবং যদি এটি যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হয়, তাহলে সেখানকার মানুষ প্রচুর সুবিধা পাবে। আমরা একে বাইরের ক্ষতিকারক প্রভাব থেকে রক্ষা করব এবং ভালোবাসায় রাখব। গ্রিনল্যান্ডকে আবার মহান করে তুলুন!”
এই প্রেক্ষিতে, গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী মুচ্চে এগেদে তার নববর্ষের ভাষণে ডেনমার্ক থেকে স্বাধীন হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন, এটি গ্রিনল্যান্ডকে ঔপনিবেশিক ইতিহাস থেকে মুক্ত করার একটি উপায়। তবে তিনি এও স্পষ্ট করেছেন যে, গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হওয়ার কোনো আগ্রহ রাখে না।
ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেট ফ্রেডেরিকসেন বলেছেন, গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে সেখানকার মানুষ। একই সাথে তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে ডেনমার্কের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
ডেনমার্কের রাজা দশম ফ্রেডরিক উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরের ফ্যারো দ্বীপপুঞ্জ এবং গ্রিনল্যান্ডের উপর তার সার্বভৌম অধিকার বজায় রেখেছেন। ফ্যারো দ্বীপপুঞ্জ, যা নরওয়ে এবং আইসল্যান্ডের মাঝখানে অবস্থিত, একটি স্বশাসিত অঞ্চল।
নববর্ষের ভাষণে রাজা বলেছেন, “আমরা ঐক্যবদ্ধ এবং ডেনমার্ক রাজ্যের প্রতি আমাদের প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।” তিনি যোগ করেন, “এটি গ্রিনল্যান্ড পর্যন্ত বিস্তৃত।”
গত মাসে রাজা তার কোট অফ আর্মসের নকশায় পরিবর্তন এনেছেন, যেখানে গ্রিনল্যান্ড এবং ফ্যারো দ্বীপপুঞ্জের প্রতীক অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। গ্রিনল্যান্ডের প্রতীক একটি সাদা ভালুক যার লাল জিহ্বা। রাজকীয় ঘোষণা অনুসারে, এটি ১১৯৪ সাল থেকে সার্বভৌমত্বের প্রতীক।
২০১৯ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে গ্রিনল্যান্ড কেনার আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। কিন্তু ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার পর তিনি তার নির্ধারিত সফর বাতিল করেন।
গত মাসে, ডেনমার্কের জন্য মার্কিন রাষ্ট্রদূত মনোনীত করার সময়, ট্রাম্প বিষয়টি আবারও উত্থাপন করে বলেন, “জাতীয় নিরাপত্তা এবং বিশ্বব্যাপী স্বাধীনতার স্বার্থে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন।”
ট্রাম্পের বড় ছেলে তার বাবার প্রশাসনে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি প্রেসিডেন্টের ট্রানজিশন টিমে কাজ করেছেন এবং হোয়াইট হাউসের স্টাফ নির্বাচনেও সাহায্য করেছেন।