মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬, ০৮:৩৬ পূর্বাহ্ন
প্রাকৃতিক দুর্যোগে পাকিস্তানে প্রাণহানির মিছিলে যোগ হচ্ছে প্রতিদিন!
০নলাইন ডেস্ক
পাকিস্তানের একাধিক অঞ্চলে আবারও ভয়াবহ বর্ষণ নেমে এসেছে অভিশাপ হয়ে। পাহাড়ি এলাকাগুলোতে ভূমিধস, হঠাৎ বন্যা ও বজ্রপাতের মতো প্রকৃতির রুদ্র রূপে দেশজুড়ে চলছে তাণ্ডব। এই দুর্যোগে প্রাণ হারালেন অন্তত ২২১ জন—তাদের মধ্যে শিশু ও নারীও রয়েছেন।
গণমাধ্যম জানায়, মঙ্গলবার পাকিস্তানের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (এনডিএমএ) এই মৃত্যুর সংখ্যা নিশ্চিত করেছে।গত ২৪ ঘণ্টায় আহত হয়েছেন আরও ১০ জন, যাদের মধ্যে অধিকাংশই আশঙ্কাজনক। আর পুরো বর্ষা মৌসুমে এখন পর্যন্ত ৫৯২ জন গুরুতর আহত হয়েছেন—যাদের মধ্যে রয়েছেন ৭৭ জন পুরুষ, ৪০ জন নারী ও ১০৪ শিশু।সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শিকার হয়েছে পাঞ্জাব।
সেখানে প্রাণ হারিয়েছেন ১৩৫ জন, আহত হয়েছেন ৪৭০ জন। খাইবার পাখতুনখোয়ায় নিহত ৪০ জন, আহত ৬৯ জন। সিন্ধুতে মৃত্যু হয়েছে ২২ জনের, আহত ৪০। বেলুচিস্তানে প্রাণ গেছে ১৬ জনের। আজাদ কাশ্মীরে এক, ইসলামাবাদে এক এবং গিলগিট-বালতিস্তানে প্রাণহানির সংখ্যা তিন।প্রাণহানির প্রধান কারণ হিসেবে ধসে পড়া ভবন, ডুবে যাওয়া, ভূমিধস, হঠাৎ বন্যা, বজ্রপাত এবং বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়াকে দায়ী করেছে কর্তৃপক্ষ।
এনডিএমএ বলেছে, গত এক দিনে অন্তত ২৫টি বাড়ি ধসে পড়েছে। মারা গেছে পাঁচটি গবাদি পশু। বর্ষার শুরু থেকে এ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৮০৪টি বাড়ি, প্রাণ হারিয়েছে ২০০ পশু।সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতির হিসাবে পাঞ্জাবে আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ির সংখ্যা ১৬৮, কেপিতে ১৪২টি আংশিক ও ৭৮টি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে। সিন্ধুতে ৫৪টি আংশিক ও ৩৩টি পুরোপুরি ভেঙে গেছে।বেলুচিস্তানে ৫৬টি বাড়ি আংশিকভাবে ও ৮টি পুরোপুরি ধ্বংস হয়েছে। গিলগিট-বালতিস্তানে ৭১টি আংশিকভাবে এবং ৬৬টি সম্পূর্ণ ভেঙে গেছে।
আজাদ কাশ্মীরে ৭৫টি আংশিক ও ১৭টি সম্পূর্ণ ধ্বংস এবং ইসলামাবাদে ৩৫টি আংশিক, ১টি সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়েছে।বাবুসারে ঘোষণা করা হয়েছে বন্যা জরুরি অবস্থা। প্রবল বর্ষণে বাবুসার টপ এলাকার আশপাশে ৭-৮ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধস হয়েছে। কমপক্ষে ১৪-১৫টি রুট বন্ধ এবং বিপদে পড়া পর্যটকদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে চিলাস শহরে।কর্তৃপক্ষ সকলকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেছে, বৃষ্টিপ্রবণ এলাকা, নিচু জমি, গিরিখাদ বা পাহাড়ি ঢলের ঝুঁকিপূর্ণ পথ এড়িয়ে চলতে হবে। খোলা জায়গায় না থাকা, বৈদ্যুতিক তার ও খুঁটি থেকে দূরে থাকার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।