বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬, ০৪:০৫ পূর্বাহ্ন
যে ইরানকে যুক্তরাষ্ট্র গড়েছিল, আজ সেখানেই বোমা!
অনলাইন ডেস্ক
নিঃসন্দেহে এ মুহূর্তে বিশ্ব রাজনীতির অন্যতম আলোচিত বিষয় হলো যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাত। আর এই উত্তেজনার মূলে রয়েছে ইরানের বিতর্কিত পারমাণবিক কর্মসূচি।
মূল বিষয় হলো, যুক্তরাষ্ট্র কোনোভাবেই ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্রের মালিক হতে দিতে চায় না। কিন্তু সবচেয়ে চমকপ্রদ তথ্য হলো—এই ইরানের পারমাণবিক যাত্রার সূচনা হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের হাত ধরেই! কীভাবে? কেনই বা যুক্তরাষ্ট্র এখন ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে গিয়ে ইরানের সেই পরমাণু স্থাপনায় হামলা চালায়?
১৯৫৫ সালে যুক্তরাষ্ট্র ‘অ্যাটমস ফর পিস’ নামে একটি কর্মসূচি গ্রহণ করে। এর লক্ষ্য ছিল উন্নয়নশীল দেশগুলোতে সীমিত পরিমাণ বিভাজনযোগ্য পদার্থ রপ্তানির অনুমতি ও পারমাণবিক চুল্লি নির্মাণে সহায়তা প্রদান।
এই উদ্যোগের প্রথম উপকারভোগী ছিল ভারত। পরবর্তীতে দক্ষিণ আফ্রিকা, ইসরায়েল, তুরস্ক, পাকিস্তান, পর্তুগাল, গ্রিস, স্পেন, আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল এবং ইরান—এদের সবাই যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক সহায়তা লাভ করে। এ-সম্পর্কিত ইতিহাস গণমাধ্যম, দ্য নিউইয়র্ক টাইমস, ইরান ওয়াচ ও আর্মস কন্ট্রোল অ্যাসোসিয়েশনসহ বহু আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। ১৯৫৭ সালের ৫ মার্চ, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। তখন ইরানে ক্ষমতায় ছিলেন শাহ মোহাম্মদ রেজা পাহলভি। এই চুক্তিই ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ভিত্তি নির্মাণ করে। যুক্তরাষ্ট্রের দৃষ্টিতে ঠান্ডা যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ইরান ছিল একটি কৌশলগত শক্তি। সংরক্ষিত নথি অনুযায়ী, নিরপেক্ষ ইরানকে সোভিয়েত ইউনিয়নের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ার প্রধান উপাদান হিসেবে বিবেচনা করা হতো এবং পারমাণবিক সহায়তা ছিল পশ্চিমা জোটের প্রতি ইরানকে অনুগত রাখার কৌশল।
১৯৬৭ সালে যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে সরবরাহ করে একটি পাঁচ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন গবেষণা চুল্লি, যার সঙ্গে দেওয়া হয় উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম—চুল্লি পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানি।
তিন বছর পর, ১৯৭০ সালে ইরান পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি (NPT) অনুমোদন করে। এতে তারা পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন বা উন্নয়নের চেষ্টা না করার প্রতিশ্রুতি দেয়।
কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র-ইরান পারমাণবিক বন্ধুত্ব বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। ১৯৭৯ সালে ইসলামী বিপ্লবের মধ্য দিয়ে সবকিছু বদলে যায়। নতুন ইসলামী সরকার প্রাথমিকভাবে শাহের পারমাণবিক প্রকল্প প্রত্যাখ্যান করে এবং বহু প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত বিশেষজ্ঞ দেশ ছেড়ে চলে যায়।
তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বিপ্লবী সরকার বুঝতে পারে পারমাণবিক প্রযুক্তির কৌশলগত গুরুত্ব। তারা শুধু দেশত্যাগী বিজ্ঞানীদের ফিরিয়ে আনতে উদ্যোগ নেয়নি, বরং নিজস্ব গোপন কর্মসূচিও গড়ে তোলে।
আন্তর্জাতিক কূটনীতির জগতে যুক্তরাষ্ট্র বরাবরই দ্বিমুখী আচরণ করেছে। ইসরায়েল গোপনে পারমাণবিক বোমা তৈরি করলেও যুক্তরাষ্ট্র তা উপেক্ষা করেছে। অথচ ইরানের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ বিপরীত আচরণ করে চলেছে যুক্তরাষ্ট্র ও তার পশ্চিমা মিত্ররা।