শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ০৩:৩২ অপরাহ্ন
চলতি বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক বিদ্রোহের ফলে বাংলাদেশ থেকে ভারতে পালিয়ে যান সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর পর থেকে দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা বিরাজ করছে। এই অস্থিরতা ভারতের তৈরি পোশাক (আরএমজি) খাতের জন্য লাভের সুযোগ সৃষ্টি করেছে। এ অবস্থায় বৈশ্বিক পোশাক বাজারে বাংলাদেশের স্থান ভারতের হাতে চলে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ইউনাইটেড স্টেটস ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড কমিশনের (ইউএসআইটিসি) সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে এই উদ্বেগ আরও জোরালো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারত তৈরি পোশাক শিল্পে ক্রমশ বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন করছে। ভারতের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আমেরিকান ক্রেতাদের আকর্ষণ করছে, যা একটি বড় কারণ হিসেবে উঠে এসেছে।
ইউএসআইটিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিদেশি ব্র্যান্ডগুলো রাজনৈতিকভাবে স্থিতিশীল দেশগুলো থেকে উচ্চ মূল্যের ফ্যাশন সামগ্রী আমদানি করতে বেশি আগ্রহী। ভারতের ক্ষেত্রে তারা নিশ্চিত যে দেশটি উৎপাদন ও রপ্তানি করতে সক্ষম হবে।
প্রতিবেদনে বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া ও কম্বোডিয়াসহ শীর্ষ পোশাক রপ্তানিকারকদের সঙ্গে ভারতের তুলনা করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, চীনের বাজার শেয়ার গত এক দশকে উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে এবং সেই শেয়ার ভিয়েতনামসহ অন্যান্য দেশগুলোর দখলে এসেছে। ২০১৩ সালে মার্কিন বাজারে চীনের শেয়ার ছিল ৩৭ দশমিক ৭ শতাংশ, যা কমে এখন ২১ দশমিক ৩ শতাংশে নেমেছে। একই সময়ে ভারতের শেয়ার ৪ শতাংশ থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ৫ দশমিক ৮ শতাংশে পৌঁছেছে।
গত বছর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ভারতের পোশাক রপ্তানি বেড়ে ৪ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। যদিও মার্কিন বাজারে ভারতের অবস্থান শক্তিশালী হয়েছে, ভিয়েতনাম এখানে সবচেয়ে বড় বিজয়ী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। ভিয়েতনামের মার্কেট শেয়ার ১০ শতাংশ থেকে বেড়ে ১৭ দশমিক ৮ শতাংশ হয়েছে।
ভারতের তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক সংগঠন অ্যাপারেল এক্সপোর্ট প্রমোশন কাউন্সিলের (এইপিসি) চেয়ারম্যান সুধীর সেখরি বলেছেন, বিশ্বজুড়ে সংকট ও অব্যাহত মুদ্রাস্ফীতির মধ্যেও ভারতের তৈরি পোশাক রপ্তানিতে উচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জন হয়েছে। অন্যদিকে, প্রধান পোশাক রপ্তানিকারক দেশগুলো সাম্প্রতিক মাসগুলোতে রপ্তানি প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্রে স্থবিরতা অনুভব করছে।
এইপিসি’র সেক্রেটারি জেনারেল মিথিলেশ্বর ঠাকুর ভারতের এই সাফল্যকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ভারতের টেক্সটাইল ও পোশাক খাত দীর্ঘদিন ধরে নেতিবাচক ধ্যানধারণার শিকার হয়েছে। ইউএসআইটিসির সমীক্ষা সেই ভুল ধারণা ভেঙে দিয়েছে।
বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ রপ্তানিকারক হিসেবে পরিচিত। কিন্তু সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে দেশের কিছু কারখানা সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যদি রাজনৈতিক অস্থিরতা এক-দুই চতুর্থাংশের বেশি স্থায়ী হয়, তবে রপ্তানিকারকরা সময়মত ডেলিভারি দিতে চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে পারেন।
এই পরিস্থিতিতে, ভারত প্রতি মাসে ২০০ থেকে ২৫০ মিলিয়ন ডলারের অতিরিক্ত রপ্তানি আদেশ পেতে পারে। তৈরি পোশাক খাতে তাদের দক্ষতার কারণে ভারতীয় রপ্তানিকারকরা বাংলাদেশের বাজারের শেয়ার স্থায়ীভাবে নিজেদের করে নিতে পারে।
ভারতের রপ্তানিকারকরা এই সুযোগ কাজে লাগাতে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মেলায় অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা করছে। এ বিষয়ে এইপিসি চেয়ারম্যান সুধীর সেখরি জানিয়েছেন, ‘ভারত টেক্স-২০২৫’ আয়োজনের পরিকল্পনাও রয়েছে। এটি ভারতের তৈরি পোশাক খাতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মেলা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
সূত্র: বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড (ভারত), টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়া