সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬, ০৮:২৪ পূর্বাহ্ন
একাধিক ধর্ষণ ও অন্যান্য গুরুতর অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছেন এক যুবক। এর ফলে, আদালত তাকে ৪২ বার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে।
শুক্রবার (০৪ অক্টোবর) বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, অভিযুক্ত যুবক ৯০টি ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছেন। ২০১২ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে তিনি এসব অপরাধ সংঘটিত করেছেন। এমনকি, তার পাশবিকতার শিকার হয়েছে ৯ বছরের এক শিশু।
শুক্রবার জোহানেসবার্গের হাইকোর্ট এই রায় প্রদান করেছেন। অভিযুক্তের নাম কোসিনাথি পাকাথি।
দক্ষিণ আফ্রিকার রাষ্ট্রীয় কৌঁসুলি কর্তৃপক্ষ (এনপিএ) জানায়, ৪০ বছর বয়সী কোসিনাথির অপরাধ ছিল অত্যন্ত নিকৃষ্ট। তিনি অনেক ক্ষেত্রে ধর্ষণের সময় অন্যান্য শিশুদের তা দেখতে বাধ্য করতেন। এছাড়া, কমবয়সী ছেলেদের দিয়ে তিনি মেয়ে বন্ধুদের ধর্ষণে বাধ্য করতেন।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, কোসিনাথি ইকুরুলেনি ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোতে ধর্ষণের ঘটনা ঘটিয়েছেন এবং বিভিন্ন অপরাধ করেছেন। জোহানেসবার্গ হাইকোর্ট তাকে ধর্ষণ, অপহরণ, চুরি এবং নিপীড়নের অভিযোগে ৪২ বার যাবজ্জীবন প্রদান করেছেন।
এনপিএ জানায়, বিচারক এ বিষয়ে একমত হয়েছেন যে, কোসিনাথি তার অপরাধের জন্য কোনো অনুশোচনা প্রকাশ করেননি। এমনকি, তিনি সংশোধিত হওয়ার অবস্থায়ও নেই।
এনপিএর একটি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তার দ্বারা নির্যাতনের শিকার অধিকাংশই ছিলেন স্কুলের ছাত্র। এদের মধ্যে সবচেয়ে কম বয়সী শিশুর বয়স ছিল ৯ বছর, এবং পাশবিকতার শিকার সবচেয়ে প্রবীণ ব্যক্তির বয়স ৪৪ বছর।
এনপিএ জানায়, ভুক্তভোগীদের স্কুল বা কর্মস্থলে যাওয়ার সময় লক্ষ্যবস্তু বানাতেন তিনি। অনেকেই নিজ বাড়িতে তার হাতে নির্যাতিত হয়েছেন। বৈদ্যুতিক মিস্ত্রি সেজে তিনি বিভিন্ন বাড়িতে প্রবেশ করতেন।
২০২১ সালে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার সময়, কোসিনাথি পুলিশের গুলিতে একটি পা হারান। রায় ঘোষণার সময় তিনি ক্রাচের সাহায্যে আদালতে হাজির হয়েছিলেন।
দক্ষিণ আফ্রিকায় ক্রমবর্ধমান সহিংস অপরাধের হার উদ্বেগজনক। এর মধ্যে ধর্ষণ ও হত্যা অন্যতম। পুলিশের তথ্যমতে, চলতি বছরের এপ্রিল থেকে জুনের মধ্যে দেশটিতে ৯ হাজার ৩০০ এর অধিক ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এটি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।