শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ১১:২৭ পূর্বাহ্ন
দুই দিনের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। এবার ভরিতে ১ হাজার ৬৮০ টাকা কমিয়ে নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে ভালো মানের অর্থাৎ ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম এক লাখ ৩৪ হাজার ৫০৯ টাকায় দাঁড়িয়েছে, যা আজকের (বৃহস্পতিবার) দাম এক লাখ ৩৬ হাজার ১৮৯ টাকা থেকে কম।
বৃহস্পতিবার (১৪ নভেম্বর) বাজুসের মূল্য নির্ধারণ ও মূল্য পর্যবেক্ষণ স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান মাসুদুর রহমান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
বাজুস জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবী স্বর্ণের দাম কমেছে। সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে স্বর্ণের নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। আগামী শুক্রবার (১৫ নভেম্বর) থেকে এই নতুন দাম কার্যকর হবে। এর আগে ১২ নভেম্বর সর্বোচ্চ ২ হাজার ৫১৯ টাকা কমিয়ে স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল।
নতুন মূল্য তালিকা অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম এক লাখ ৩৪ হাজার ৫০৯ টাকা, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ ১ লাখ ২৮ হাজার ৩৯৭ টাকা, ১৮ ক্যারেটের স্বর্ণ ১ লাখ ১০ হাজার ৬১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণ ৯০ হাজার ২৩৩ টাকায় বিক্রি হবে।
স্বর্ণের দাম কমলেও রূপার দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। ক্যাটাগরি অনুযায়ী ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রূপার দাম ২ হাজার ৫৭৮ টাকা, ২১ ক্যারেটের রূপা ২ হাজার ৪৪৯ টাকা, ১৮ ক্যারেটের রূপা ২ হাজার ১১১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রূপার দাম ১ হাজার ৫৮৬ টাকায় নির্ধারিত রয়েছে।
এর আগে ১২ নভেম্বর বাজুস স্বর্ণের দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছিল, যা ১৩ নভেম্বর কার্যকর হয়েছিল। সেই মূল্য তালিকা অনুযায়ী আজ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ ১ লাখ ৩৬ হাজার ১৮৯ টাকা, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ২৯ হাজার ৯৯৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের স্বর্ণ ১ লাখ ১১ হাজার ৪২৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণ ৯১ হাজার ৪১১ টাকায় বিক্রি হয়েছে।
এদিকে ডলারের মান শক্তিশালী হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম কমতে শুরু করেছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার (১২ নভেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি আউন্স (২৮.৩৫ গ্রাম) স্বর্ণ ২ হাজার ৫৯৭ দশমিক ৯১ ডলারে বিক্রি হয়। স্বর্ণের বাজার পর্যবেক্ষণকারী সংস্থাগুলোর তথ্যানুযায়ী, স্বর্ণের দাম দশমিক ৯ শতাংশ কমেছে, যা গত দুই মাসে সর্বনিম্ন। ২০ সেপ্টেম্বরের পর প্রথমবার এই দামে বিক্রি হলো স্বর্ণ।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বাজার বিশ্লেষক সংস্থা কেসিএম ট্রেডের শীর্ষ বিশ্লেষক টিম ওয়াটেরার গণমাধ্যমকে জানান, সাম্প্রতিক প্রেসিডেন্ট নির্বাচন এবং তার ফলাফল ডলারের মানকে শক্তিশালী করেছে। স্বর্ণের দাম কমার পেছনে বড় কারণ হিসেবে ডলারের মান বৃদ্ধি কাজ করেছে। ডলারের মান বৃদ্ধিতে বিটকয়েনের অবদানও উল্লেখযোগ্য। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বিজয়ী ডোনাল্ড ট্রাম্প বাণিজ্যিক লেনদেনের মাধ্যম হিসেবে বিটকয়েন ব্যবহারের পক্ষে ছিলেন।