1. akhi@janatarjagoron.com : আখি আক্তার : আখি আক্তার
  2. foreign@janatarjagoron.com : আন্তর্জাতিক ডেস্ক : আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  3. atau@janatarjagoron.com : Mohammed Ataullah : Mohammed Ataullah
  4. mosharaf.bbadcc@gmail.com : বিনোদন ডেস্ক : বিনোদন ডেস্ক
  5. jonotarjagoron@gmail.com : Editor :
  6. labony@janatarjagoron.com : ক্যাম্পাস প্রতিনিধি : ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
  7. life@janatarjagorn.com : লাইফস্টাইল ডেস্ক : লাইফস্টাইল ডেস্ক
  8. onlinedesk2@janatarjagoron.com : অনলাইন ডেস্ক : অনলাইন ডেস্ক
  9. sohag@janatarjagoron.com : Khan Saiful Sohag : Khan Saiful Sohag
  10. info2@janatarjagoron.com : উপজেলা প্রতিনিধি : উপজেলা প্রতিনিধি
  11. mosharafrobindev@gmail.com : জেলা প্রতিনিধি : জেলা প্রতিনিধি
ভঙ্গুর পুলিশ ব্যবস্থাঃ পুনর্গঠন ছাড়া উপায় নেই - Janatar Jagoron
  • E-paper
  • English Version
  • শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ০৩:২৯ অপরাহ্ন

শিরোনাম
আজ থেকে শুরু নির্বাচনী প্রচার, দলগুলোর কোথায় কখন কর্মসূচি জুলাই গণঅভ্যুত্থান মামলা: জয় ও পলকের বিচার শুরু হাইকোর্টে খারিজ রিট, কুমিল্লা–৪ আসনে প্রার্থী হতে পারলেন না হাসনাতের প্রতিদ্বন্দ্বী আপিল শুনানির প্রথম ঘণ্টায় পাঁচ প্রার্থীর মনোনয়ন চূড়ান্তভাবে বাতিল স্কাইডাইভিংয়ে একসঙ্গে ৫৪ পতাকা উড়িয়ে গিনেস রেকর্ড গড়ল বাংলাদেশ তেজতুরী বাজারে মোসাব্বির হত্যা: রহস্য উদঘাটন, চারজন গ্রেপ্তার নির্বাচনে কোনো দলের জন্য বাড়তি সুযোগ নেই: প্রেস সচিব ইসিতে আপিল শুনানির প্রথম দিনে ১৬ প্রার্থিতা বাতিল ব্যালট পেপারের নিরাপত্তা ও গোপনীয়তায় ইসির নতুন পরিপত্র জারি আগামী বাজেট থেকেই অনলাইনে ভ্যাট রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক

ভঙ্গুর পুলিশ ব্যবস্থাঃ পুনর্গঠন ছাড়া উপায় নেই

  • সর্বশেষ আপডেট: সোমবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৪
  • ১৪৪ বার পঠিত
ভঙ্গুর পুলিশ

ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের ১৫ বছরে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার পুলিশ সদস্য নিয়োগ পেয়েছে, এবং বরাদ্দ বেড়েছে ৪৩৩ শতাংশ। তবে পেশাদার বাহিনী হিসেবে পুলিশকে গড়ে তোলার কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি; বরং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমন করার অস্ত্র হিসেবে পুলিশের ব্যবহার বেড়েছে।

আওয়ামী লীগের অতিরিক্ত নির্ভরতা পুলিশের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোকে ভেঙে দিয়েছে। ফলে ছাত্র ও সাধারণ মানুষের অভ্যুত্থানের পর দেড় মাস পেরোলেও, পুলিশ কার্যকর প্রতিরোধ করতে পারছে না। মহাপরিদর্শকসহ শীর্ষ পর্যায়ে পরিবর্তন আনা হলেও ভঙ্গুর অবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি। এমন পরিস্থিতিতে পুলিশের ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের সংস্কারের দাবি উঠেছে। পুলিশের কার্যক্রমের ওপর কমিশন গঠন এবং অপরাধ তদন্তের জন্য আলাদা অভিযোগ কমিশন প্রতিষ্ঠার দাবি জোরদার হয়েছে।

বর্তমান ও সাবেক পুলিশ সদস্য, সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ এবং সংগঠনের পরামর্শ অনুযায়ী, বাহিনী সংস্কারের দুটি মূল দিক উঠে এসেছে। প্রথমত, সদস্যদের বদলি, পদোন্নতি, নিয়োগসহ কার্যক্রম পরিচালনা এবং কর্মপরিবেশ উন্নত করতে ব্যাপক সংস্কার প্রয়োজন। দ্বিতীয়ত, পুলিশের সেবামুখী কার্যক্রম নিশ্চিত করতে, মামলা, তদন্ত, গ্রেপ্তার ও অভিযান পরিচালনায় শক্তিশালী জবাবদিহিমূলক কাঠামো তৈরি করতে হবে। এজন্য বিদ্যমান আইনগুলোকে সময়োপযোগী করা জরুরি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানাচ্ছে, অতীতে পুলিশের পেশাদারিত্বে ব্যর্থতার কারণ হিসেবে জনবল সংকট, বাজেটের অভাব ও অবকাঠামোর সীমাবদ্ধতাকে দায়ী করা হতো। কিন্তু ২০০৯ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত এই ধারণা বদলেছে। এই সময়ে ৮৩ হাজার ৭০টি নতুন পদ সৃষ্টি হয়, উচ্চপর্যায়ের ১৭৮টি ক্যাডার পদ যুক্ত হয়, এবং ১ লাখ ২০ হাজার জনবল নিয়োগ দেওয়া হয়, যার একটি বড় অংশ রাজনৈতিক ও দলীয় বিবেচনায় নেওয়া হয়। জননিরাপত্তা বিভাগের নভেম্বরের সর্বশেষ তথ্য অনুসারে, দেশে মোট পুলিশের সংখ্যা প্রায় ২ লাখ ১৩ হাজার।

২০০৯-১০ অর্থবছরে পুলিশের বাজেট ছিল ৩ হাজার ৩৩১ কোটি ২৯ লাখ টাকা, যা ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৪৩৩ দশমিক ২৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১৭ হাজার ৭৬৫ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। যদিও এই সময়ে উল্লেখযোগ্য অবকাঠামো উন্নয়ন হয়েছে, তবে তার বড় অংশই অপরিকল্পিত ছিল। এ ক্ষেত্রে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগও উঠেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জনবল, সুযোগ-সুবিধা ও অবকাঠামো উন্নয়ন সত্ত্বেও পুলিশ বাহিনী জনমুখী হতে পারেনি। কারণ, জনকল্যাণের চেয়ে বাহিনীর সদস্যদের খুশি করার প্রচেষ্টাই ছিল বেশি। আওয়ামী লীগকে টানা তিনটি জাতীয় নির্বাচনে ক্ষমতায় আনতে পুলিশের বড় অংশ দলীয় কর্মীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়। দলীয় নেতা-কর্মীদের পরিবর্তে নির্বাচন জিততে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল হয়ে পড়েছিল আগের সরকার।

পদায়ন প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আনা অত্যন্ত জরুরি

পুলিশ সদস্যদের সাধারণত ১৬ থেকে ২০টি ইউনিট, প্রতিষ্ঠান কিংবা কর্মক্ষেত্রে পদায়ন করা হয়। পুলিশের বিভিন্ন স্তরের ব্যক্তিদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, এর মধ্যে মাত্র ৩-৪ ধরনের পদায়নকে ‘ভালো পদায়ন’ হিসেবে দেখা হয়। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অপরাধ বিভাগ, গোয়েন্দা (ডিবি) শাখা, জেলা পুলিশের পুলিশ সুপার ও রেঞ্জের ডিআইজি পদগুলোকে এই তালিকার শীর্ষে রাখা হয়। এছাড়াও পুলিশ সদর দপ্তর, পুলিশের বিশেষ শাখা (এসবি), এবং অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ইউনিটের কয়েকটি পদকেও ভালো পদ হিসেবে ধরা হয়। গত ১৫ বছরে প্রায় একই কর্মকর্তা বারবার এসব ভালো পদায়ন পেয়েছেন।

পুলিশ সূত্রের মতে, মূলত যে এলাকাগুলোতে অপরাধ, ক্ষমতা, ব্যবসা ও শিল্পপ্রতিষ্ঠান বেশি, সেখানে পদায়নের আলাদা আকর্ষণ থাকে। কারণ এসব এলাকায় অবৈধ আয়ের সুযোগও বেশি থাকে। শুধু ক্যাডার কর্মকর্তারাই নন, কনস্টেবল থেকে শুরু করে পরিদর্শক পর্যন্ত প্রায় সব স্তরের পুলিশ সদস্য এসব জায়গায় পদায়ন পেতে চান।

গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়নের জন্য কোনো নির্দিষ্ট ‘ফিটলিস্ট’ (যোগ্যতার তালিকা) নেই, ফলে যে কেউ যেকোনো সময় যেকোনো জায়গায় পদায়িত হতে পারেন। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে পদায়ন কেন্দ্রিক রাজনীতি শুরু হয়, যা পুলিশের পেশাদারিত্বের প্রধান বাধা হিসেবে কাজ করে।

ভালো পদ পেতে প্রভাবশালী কর্মকর্তাদের সমর্থন নিতে হয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের ইচ্ছা অনুযায়ী পদায়ন হয়। সিন্ডিকেট গড়ে তুলে বদলি-পদোন্নতির পুরো প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করেন কেউ কেউ, যা প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সাথে সখ্যতা গড়ার মাধ্যমে সম্ভব হয়। এতে অবৈধ লেনদেনও বড় ভূমিকা পালন করে। ফলে পদায়নের ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা আসে না।

পদায়নে শৃঙ্খলা আনতে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়নের দাবি জোরালো হয়েছে। প্রথম আলো ১৩ জন পরিদর্শক থেকে ডিআইজি পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে জানতে পেরেছে, প্রশাসন ক্যাডারের মতো পুলিশ সুপার (এসপি) ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পদে পদায়নের জন্য ফিটলিস্ট তৈরি করা জরুরি। বিশেষায়িত অভিজ্ঞতা থাকা কর্মকর্তাদেরই এসব পদে যেতে দেওয়া উচিত।

তাঁরা আরও বলেন, এসপি ও ওসি পদে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য দায়িত্ব পালন এবং অন্যান্য ইউনিটে সবার কাজের বাধ্যবাধকতা নিশ্চিত করতে হবে। তাতে ভালো-খারাপ পদায়নের ধারণা থাকবে না এবং প্রত্যেকেই যেকোনো জায়গায় কাজ করার মানসিকতা অর্জন করবেন।

পদোন্নতিতে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা অত্যাবশ্যক

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, পুলিশের উচ্চপদে পদোন্নতি প্রায়ই ঊর্ধ্বতনদের সুনজর, রাজনৈতিক প্রভাব কিংবা আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে হয়। এর ফলে অনেক পুলিশ সদস্য পেশাদার দায়িত্ব পালনের পরিবর্তে রাজনৈতিক নেতাদের খুশি করার দিকে ঝুঁকে পড়েন। এতে পুলিশ বাহিনী জনগণের সেবামুখী প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে ব্যর্থ হয়।

এই অবস্থায় বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো, পদোন্নতির ক্ষেত্রে যোগ্যতার নির্দিষ্ট কিছু মানদণ্ড স্থাপন করা উচিত। বার্ষিক গোপনীয় অনুবেদন (এসিআর) যথাযথভাবে মূল্যায়ন করতে হবে। ‘চেইন অব কমান্ড’ রক্ষায় এসিআর প্রদানের ক্ষমতা এককেন্দ্রিক না রেখে পরিদর্শক, সহকারী পুলিশ সুপার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এবং পুলিশ সুপারের পর্যায়ক্রমিক মূল্যায়নের মাধ্যমে বিন্যস্ত করতে হবে, যাতে পদোন্নতিতে প্রকৃত দক্ষতা বিবেচনায় আসে।

থানাগুলোতে ব্যাপক সংস্কার ও পুলিশের প্রশিক্ষণ বাড়ানো জরুরি

সাধারণ মানুষ দীর্ঘদিন ধরেই থানায় পুলিশের হয়রানির অভিযোগ করে আসছে। মামলা, সাধারণ ডায়েরি (জিডি), তদন্ত, টহল বা অভিযান—সবক্ষেত্রেই পুলিশের অসহযোগিতা ও হয়রানির অভিযোগ সাধারণ। এসব ক্ষেত্রে অর্থ লেনদেনের প্রচলন অনেক থানায় অলিখিত নিয়মে পরিণত হয়েছে। ফলে থানাগুলো জনগণের আস্থা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে। তাই সারা দেশের ৬৩৯টি থানা (মেট্রোপলিটন এলাকার ১১০টি ও জেলা পর্যায়ের ৫২৯টি) সংস্কার করার সুপারিশ করেছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

পুলিশের বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে কিছু কার্যকর পরামর্শ পাওয়া গেছে। যেমন, প্রতিটি থানায় পুলিশের কর্মকাণ্ড তদারকির জন্য জেলাগুলোতে একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নেতৃত্বে একটি পৃথক দল গঠন করা উচিত। এই দলটি প্রতিদিন থানার কর্মকাণ্ডে কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না তা পর্যবেক্ষণ করে সরাসরি এসপি ও রেঞ্জ ডিআইজিকে প্রতিবেদন দেবে। পাশাপাশি, নির্দিষ্ট সংখ্যক সেবাপ্রত্যাশীর সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের হয়রানির শিকার হয়েছেন কি না তা যাচাই করে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

কনস্টেবল নিয়োগ, পদোন্নতি ও প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রেও বড় ধরনের পরিবর্তনের সুপারিশ এসেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মামলার তদন্তকারী এসআইদের অর্ধেক সরাসরি নিয়োগ পেলেও বাকিরা কনস্টেবল থেকে পদোন্নতি পান। কিন্তু কনস্টেবল নিয়োগের সময় তাঁদের মামলার তদন্তের মতো জটিল কাজের জন্য উপযুক্তভাবে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় না। পরে পদোন্নতির মাধ্যমে এসআই হলে তাঁরা তদন্তের দায়িত্ব পান, কিন্তু মানসিক প্রস্তুতি না থাকায় তদন্তের ক্ষেত্রে প্রত্যাশিত দক্ষতা দেখাতে ব্যর্থ হন। তাই নিয়োগ ও পদোন্নতির আগেই তাঁদের তদন্তের উপযুক্ত করে গড়ে তোলার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

বিশেষায়িত জনবলের প্রয়োজনীয়তা

সময়ের সাথে অপরাধের ধরন ও তা প্রতিরোধের কৌশলে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। বিশেষ করে সাইবার অপরাধ এবং উগ্রবাদের মতো নতুন চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলায় পুলিশের উপর বাড়তি চাপ পড়েছে। যদিও এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সাইবার ক্রাইম ইউনিট, সোয়াট, অ্যান্টি-টেররিজম ইউনিট (এটিইউ) এবং কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট গঠিত হয়েছে, সেখানে এখনও যথাযথ বিশেষায়িত জনবল নিয়োগ দেওয়া হয়নি। অনেক পুলিশ সদস্যকে এসব ইউনিটে পদায়ন দিয়ে দেশ-বিদেশে প্রশিক্ষণ দেওয়া হলেও, কিছুদিন পর তাঁরা বদলি হয়ে অন্যত্র চলে যান। ফলে তাদের দক্ষতা পূর্ণমাত্রায় কাজে লাগানো সম্ভব হয় না।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশেষায়িত ইউনিটগুলোতে প্রথমে কনস্টেবল ও এসআই পদে বিশেষায়িত জনবল নিয়োগ করা উচিত। এই জনবলকে উন্নত প্রশিক্ষণ দিয়ে নিয়মিত পদোন্নতির মাধ্যমে পুরো ইউনিটকে দক্ষ জনবল দিয়ে পূর্ণ করা যেতে পারে। তদন্তকেন্দ্রিক ইউনিটগুলোর জন্যও নির্দিষ্ট মানদণ্ড নির্ধারণ করা প্রয়োজন। এ ছাড়া ট্যুরিস্ট পুলিশ, রেল পুলিশ, শিল্প পুলিশ, নৌ পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ এবং প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটসহ প্রতিটি ইউনিটে বিশেষায়িত জনবল নিয়োগের পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার কাঠামো গড়ে তুলতে হবে

পুলিশ সদস্যদের অনেক অপরাধের পেছনে রয়েছে ঘুষ ও অবৈধ লেনদেন। এ ছাড়াও আচরণগত সমস্যা, ব্যক্তিগত কৃতকর্ম এবং দায়িত্বে অবহেলার জন্য পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠে। তবে বড় কোনো আলোচিত ঘটনা না হলে অধিকাংশ অভিযোগের ক্ষেত্রে পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে তদন্ত হয় না। এমনকি যেসব তদন্ত হয়, সেগুলো পুলিশের ভেতরেই সীমাবদ্ধ থাকে। ফলে প্রায়শই বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে অপরাধ করে লঘু শাস্তি পেয়ে যান অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যরা।

সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতে, পুলিশের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে একটি শক্তিশালী কাঠামো গড়ে তোলা জরুরি। তাঁরা কার্যকর পুলিশ অভিযোগ কমিশনের মাধ্যমে বাহিনীর সব সদস্যকে জবাবদিহির আওতায় আনার পরামর্শ দিয়েছেন। এই কমিশন পুলিশের প্রতিটি অপরাধ, অনিয়ম ও অপকর্মের তদন্ত করবে। শুধু দৃশ্যমান অপরাধ নয়, প্রতিটি মামলা ও তদন্তের জন্যও পুলিশ সদস্যদের জবাবদিহি করতে হবে। পাশাপাশি, প্রতিটি পুলিশ সদস্য ও তাঁদের পরিবারের সম্পদের বিবরণী জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করা উচিত, এবং সম্পদ ও আয়ের উৎসে কোনো অসামঞ্জস্য থাকলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে হবে।

পুলিশ সংস্কারের প্রস্তাব নতুন নয়। ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার একটি উদ্যোগ নিলেও পরবর্তী সরকার তা বাস্তবায়ন করেনি। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, অতীতের সরকারগুলো পুলিশকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করেছে। তাই অন্তর্বর্তী সরকারকেই এসব সংস্কার কার্যকরভাবে শুরু করতে হবে। যেসব পরিবর্তন বাস্তবায়নে দীর্ঘ সময় লাগবে, সেগুলোও নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার আওতায় এনে দ্রুত শুরু করা উচিত।

সাবেক আইজি খোদা বখশ চৌধুরী বলেছেন, সময়ের চাহিদা অনুযায়ী পুলিশের সংস্কার প্রয়োজন এবং এ প্রক্রিয়া দীর্ঘমেয়াদী হওয়া উচিত। তবে এ সংস্কারের পুরো সুফল পেতে হলে ফৌজদারি বিচারব্যবস্থা এবং কারাগার ব্যবস্থাপনারও সংস্কার অপরিহার্য।

পোস্টটি শেয়ার করুন

এই বিভাগে আরও খবর..