সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬, ০৮:৪৬ পূর্বাহ্ন
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ঢাকা কলেজ শাখার আহ্বায়ক কমিটির বিষয়ে অরাজকতা সৃষ্টির প্রতিবাদে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল করেছে।
বুধবার (২৫ ডিসেম্বর) রাত ৯টার দিকে কলেজের নর্থ হলের সামনে থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। পরে মিছিলটি হলপাড়া প্রদক্ষিণ করে নাইমের গলি হয়ে কলেজের মূল ফটকে শেষ হয়।
এ সময় তারা ‘আবু সাইদ মুগ্ধ শেষ হয়নি যুদ্ধ’, ‘সন্ত্রাসীদের ঠিকানা, ঢাকা কলেজে হবে না’, ‘আদু ভাইয়ের ঠিকানা, ঢাকা কলেজে হবে না’, ‘সন্ত্রাসীদের কালো হাত ভেঙে দাও গুঁড়িয়ে দাও’, ‘জ্বালো জ্বালো, আগুন জ্বালো’, ‘জেগেছে রে জেগেছে, ছাত্র সমাজ জেগেছে’, ‘ক্যাম্পাসে হামলা কেন? প্রশাসন জবাব চাই,’ ইত্যাদি স্লোগান দেন।
সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মোহাম্মদ রাকিব বলেন, গত দুই দিন ধরে ছাত্রদলের পদবঞ্চিত ও পদধারী দুই গ্রুপের কিছু নেতাকর্মী ককটেল বিস্ফোরণের মতো ঘটনা ঘটিয়ে ছাত্র সমাজের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করেছে, যা অত্যন্ত লজ্জাজনক। তিনি বলেন, “আমরা ২ হাজার শহীদের বিনিময়ে ৭৫ সালের ফ্যাসিবাদী সরকারকে হটিয়ে গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করেছি, কিন্তু এখন যে ঘটনা ঘটানো হচ্ছে, তা সেই একই পথে ধাবিত।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা গর্বিত যে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মাধ্যমে ৫ আগস্টের পর ঢাকা কলেজে নিরাপদ ক্যাম্পাস গড়েছি। কিন্তু যদি আপনারা এই ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করেন, তবে ঠিক যেমন আমরা দেশ থেকে শেখ হাসিনাকে চলে যেতে বাধ্য করেছি, তেমনি ছাত্রদলকেও হল ছাড়তে বাধ্য করা হবে।”
আরেক সমন্বয়ক গাজী হোসাইন বলেন, জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের ফলে অর্জিত স্বাধীন বাংলাদেশে অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, “কিছুদিন আগে ঢাকা কলেজে ককটেল বিস্ফোরণ করা হয়েছে, যা সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তাহীনতায় ফেলেছে। যারা ককটেল বিস্ফোরণ করছে, তাদের চিহ্নিত করা হয়েছে। তারা তারেক জিয়াকে সমর্থন করে স্লোগান দেয় এবং গণমাধ্যমের মাধ্যমে দেখা গেছে তারা ছাত্রদলের সাথে জড়িত।”
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার (২৪ ডিসেম্বর) ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের ৩৬ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়, পরে পদবঞ্চিত নেতাকর্মীরা সন্ধ্যায় বিক্ষোভ মিছিল ও সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেন। এরপর রাত ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত থেমে থেমে কলেজের বিভিন্ন স্থানে ৭টি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।