শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ০৯:০০ অপরাহ্ন
গাইবান্ধা সদর উপজেলার খোলাহাটি ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মোস্তাক আহমেদ (৪৫) নিহত হয়েছেন। পরিবারের দাবি, পরিকল্পিতভাবে মোস্তাককে হত্যা করা হয়েছে। তবে প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ ধারণা করছে, সড়ক দুর্ঘটনায় গতকাল বৃহস্পতিবার গভীর রাতে মোস্তাক আহমেদের মৃত্যু হয়।
মোস্তাক আহমেদ খোলাহাটি ইউনিয়নের উত্তর আনালেরতাড়ি গ্রামের বাসিন্দা ও মৃত সিরাজুল হকের পুত্র। তিনি একই ইউনিয়ন পরিষদের ২ নম্বর ওয়ার্ডের নির্বাচিত সদস্যও ছিলেন।
মোস্তাকের মৃত্যুর বিষয়ে তার স্ত্রী মিনারা বেগম গাইবান্ধা সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন যে, ব্যবসা ও রাজনীতির শত্রুতার জেরে পূর্বপরিকল্পিতভাবে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি তার স্বামীকে হত্যা করেছে। তিনি তার স্বামীর হত্যার ন্যায়বিচার দাবি করেছেন। আজ শুক্রবার বিকেল চারটায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত থানায় কোনো মামলা রুজু হয়নি।
পুলিশ, স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবারের সদস্যদের সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মোস্তাক আহমেদ বাড়ি থেকে বের হয়ে রাত দুইটার দিকে একই উপজেলার কাবিলের বাজার থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। তিনি মোটরসাইকেলে জুয়েল রানা ও বাবু মিয়ার সঙ্গে ছিলেন। জুয়েল রানা মোটরসাইকেল চালাচ্ছিলেন, আর মাঝখানে বসে ছিলেন মোস্তাক। জুম্মাপাড়া এলাকায় পৌঁছানোর পর মোটরসাইকেল থেকে পড়ে মোস্তাকসহ তারা তিনজন আহত হন।
খবর পেয়ে স্থানীয়রা ও স্বজনেরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মোস্তাককে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় এক পল্লী চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান। পরে তাকে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়, সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তার মাথা ও গলায় আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়।
এলাকার মানুষ জানায়, জুয়েল রানা ও বাবু মিয়া সামান্য আঘাত পেয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন। কিন্তু শুক্রবার সকালে তাদের আর এলাকায় দেখা যায়নি।
মোস্তাকের লাশ রাতেই পরিবারের লোকজন বাড়িতে নিয়ে যান। পরে আজ শুক্রবার সকালে পুলিশ এসে তার লাশ উদ্ধার করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
গাইবান্ধা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুদ রানা বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, মোস্তাক আহমেদ সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন। তার সঙ্গে থাকা জুয়েল ও বাবু মিয়া আহত হন। তবে বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে এবং রিপোর্ট পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।