বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১০:২৮ পূর্বাহ্ন
শ্বাস নিতে না পারা বাস্তবতা, তাড়াশে অক্সিজেন বিভ্রাট!
অনলাইন ডেস্ক,
সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলা ৫০ শয্যাবিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্থাপিত হাইফ্লো নাসাল ক্যানুলাসমৃদ্ধ সেন্ট্রাল অক্সিজেন সাপ্লাই সিস্টেম (সিওএসএম) বিগত ছয় মাসের বেশি সময় ধরে বিকল অবস্থায় পড়ে রয়েছে। প্রতিদিন এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসা অগণিত সংকটাপন্ন রোগী প্রয়োজনীয় সময়ে জীবনরক্ষাকারী অক্সিজেন সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, ফলে বাড়ছে মৃত্যুঝুঁকি—ক্ষোভ আর হতাশায় দিন কাটাচ্ছেন স্বজনরা।
চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, জরুরি মুহূর্তে হাইফ্লো অক্সিজেন দিতে না পারায় শ্বাসকষ্ট, প্রসূতি জটিলতা, হৃদরোগ কিংবা শিশুদের নিউমোনিয়ার মতো প্রাণঘাতী অবস্থায়ও তারা অসহায় হয়ে পড়ছেন। অক্সিজেনের অভাবে এমন করুণ অবস্থায় পড়তে হচ্ছে রোগী ও তাদের পরিবারকে, যা জেলার স্বাস্থ্যসেবার চিত্রে গভীর উদ্বেগের ইঙ্গিত দেয়।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তৃপক্ষ বলছেন, বিকল সেন্ট্রাল অক্সিজেন সিস্টেমের বিকল্প হিসেবে সীমিত মজুতের ছোট অক্সিজেন সিলিন্ডার দিয়ে সাময়িকভাবে সেবা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। কিন্তু তাতে সংকটের পুরোটা মোকাবিলা সম্ভব হচ্ছে না।
জানা গেছে, ২০২১ সালের শুরুর দিকে অবকাঠামো উন্নয়ন উপপ্রকল্প (আইএনএফএসপি) অধীনে প্রায় ১০ লাখ টাকা ব্যয়ে তাড়াশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হাইফ্লো নাসাল ক্যানুলাসমৃদ্ধ আধুনিক সেন্ট্রাল অক্সিজেন সাপ্লাই সিস্টেম স্থাপন করা হয়। এতে শিশুসহ নারী ও পুরুষ ওয়ার্ডে থাকা মোট ৩০টি শয্যায় একযোগে অক্সিজেন পৌঁছানোর ব্যবস্থা ছিল, যা একসময় চিকিৎসকদের হাতে শক্তিশালী অস্ত্র হয়ে উঠেছিল।
কিন্তু সরেজমিনে ‘গণমাধ্যম’-এর অনুসন্ধানে দেখা গেছে, বর্তমানে সিস্টেমটি অকেজো হয়ে পড়ে রয়েছে। অক্সিজেন সিলিন্ডারগুলোতে লিকেজ ও সংযোগে ছিদ্র থাকায় অক্সিজেন অপচয় হয়ে যাচ্ছে। আগে যে ১০টি সিলিন্ডার দিয়ে দেড় থেকে দুই মাস রোগীদের প্রয়োজন মেটানো যেত, এখন তা কয়েক দিনের মধ্যেই নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছে। পরিস্থিতি এতটাই নাজুক যে, এসব সিলিন্ডারে সঠিকভাবে নতুন করে অক্সিজেনও ভরা যাচ্ছে না।
এই ভয়াবহ বাস্তবতার শিকার হচ্ছেন সাধারণ রোগীরা। উপজেলার মাধাইনগর ইউনিয়নের সনগইপাড়া গ্রামের ঋতুপনা জানান, “সোমবার আমার চার বছরের মেয়ে মৌমিতা শ্বাসকষ্টে ভুগছিল। তাড়াশ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, অক্সিজেন নেই। শেষমেষ সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিতে হয়েছে।” সেই মুহূর্তের আতঙ্ক এখনও কাঁপিয়ে দেয় তাকে।
এদিকে তাড়াশ পৌর এলাকার বাসিন্দা মো. শফিউল হক বাবলু বলেন, “আগে যখনই মেয়ের শ্বাসকষ্ট হতো, এই সেন্ট্রাল অক্সিজেন সিস্টেম ছিল আশীর্বাদ। কিন্তু এখন তা বন্ধ থাকায় ছোট অক্সিজেন সিলিন্ডারে কাজ হয় না। বেশি সময় রোগীরা ভোগে, পরিস্থিতি ভয়াবহ।”
সবশেষে, তাড়াশ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা ডা. এরফান আহমেদ সোহেল গণমাধ্যমকে জানান, “বিষয়টি আমাদের জানা আছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে সেন্ট্রাল অক্সিজেন সিস্টেম সচল করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।”
উপজেলাবাসীর প্রাণের দাবিই এখন—স্বাস্থ্যসেবা যেন মুখে নয়, বাস্তবে ফিরে আসে তাদের জীবন রক্ষায়।