শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ০৩:১৫ অপরাহ্ন
কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর ও ভৈরবের দুটি টোব্যাকো কোম্পানিতে যৌথ বাহিনীর অভিযান চালানো হয়েছে, যার ফলে প্রতিষ্ঠানগুলোকে মোট চার লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পৃথক এই অভিযানে নকল ব্যান্ডরোল (সিগারেটের প্যাকেটে লাগানো ট্যাক্স স্ট্যাম্প) ও সিগারেট জব্দ করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কুলিয়ারচর বাজারে একটি পুরোনো বাদাম মিল রয়েছে। এই মিলের মালিক রফিকুল ইসলাম ২০১৯ সালের ২৮ অক্টোবর সেখানে হ্যারিটেজ টোব্যাকো কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেন, যেখানে পাঁচ ধরনের সিগারেট উৎপাদন করা হয়। কোম্পানিটির সীমানা সংলগ্ন তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবস্থান থাকায় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মাঝে উদ্বেগ ছিল। তাঁরা প্রায়ই বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনের নজরে আনতেন, তবে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।
যৌথ বাহিনী জানিয়েছে, দুপুর থেকে হ্যারিটেজ টোব্যাকো কোম্পানিতে অভিযান শুরু হয়। অভিযানে বিভিন্ন অনিয়ম ধরা পড়ে, বিশেষ করে জাল ব্যান্ডরোল ও ব্যবহৃত ব্যান্ডরোল পাওয়া যায়। পরিবেশগত গুরুতর সমস্যা হিসেবে দেখা যায়, কোম্পানির বর্জ্য নদীতে ফেলা হচ্ছিল, যা নদীর পানির মান ও জনস্বাস্থ্যের জন্য বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অভিযানটি পরিচালনা করেন কুলিয়ারচর সেনা ক্যাম্পের কমান্ডার মেজর মো. সাজ্জাদ, সঙ্গে ছিলেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সামিউল ইসলাম, নরসিংদী কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট বিভাগের উপকমিশনার সোহেল রানা এবং কিশোরগঞ্জ জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আবদুল্লাহ আল মতিন। অভিযানে হ্যারিটেজ টোব্যাকো কোম্পানিকে ১ লাখ ৯৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এ ছাড়া ৪৭ হাজার ব্যবহৃত ব্যান্ডরোল, ১ লাখ ৬০ হাজার সন্দেহজনক সিগারেট ও ১১ লাখ ২৫ হাজার স্ট্যাম্প জব্দ করা হয়।
এর আগে, ভৈরব উপজেলার শম্ভুপুর এলাকায় অবস্থিত তারা ইন্টারন্যাশনাল টোব্যাকো কোম্পানিতে অভিযান পরিচালিত হয়। সেখানে জাল ব্যান্ডরোল পাওয়া গেলে কোম্পানিকে দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়, জানান ভৈরব উপজেলার ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেদোয়ান আহমেদ।
যৌথ বাহিনী জানিয়েছে, কোম্পানিটি জনশূন্য এলাকায় অবস্থিত এবং মালিক লিটন মিয়া। অভিযানে দেখা যায়, কোম্পানি দীর্ঘদিন ধরে রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে আসছে। অভিযানটি চলে বেলা ১১টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত, এবং জাল ব্যান্ডরোলসহ বিপুল পরিমাণ সিগারেট জব্দ করা হয়।
ভারপ্রাপ্ত ইউএনও রেদোয়ান আহমেদ বলেন, কোম্পানিটি জাল ব্যান্ডরোল ব্যবহার করে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি দিয়েছে। অভিযানে বিপুল পরিমাণ সিগারেট ও ব্যান্ডরোল জব্দ করা হয়, এবং পরবর্তীতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির মালিককে দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।