সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬, ০৯:১৪ পূর্বাহ্ন
পরিবারের সুখ-স্বপ্নে গার্মেন্টসের চাকরি ছেড়ে অটোরিকশা চালানো শুরু করেছিলেন ফরহাদ মোল্লা। কিন্তু সেই স্বপ্ন দুঃস্বপ্নে পরিণত হলো। নিজের সন্তানের মুখ দেখার আগেই জীবন দিতে হলো তাকে।
শুক্রবার সকালে রাজবাড়ীর সদর উপজেলার ঈশান গোপালপুর ইউনিয়নের দুর্গাপুর গ্রামে এক পুকুরপাড়ের কলাগাছের স্তূপ থেকে তার নিথর দেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
পুলিশের ধারণা, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে দুর্বৃত্তরা তাকে হত্যা করে এখানে ফেলে রেখে যায়।
পরিবারের সদস্যরা জানান, ফরহাদ গোয়ালন্দ উপজেলার পাচুরিয়ার আন্ধারমানিক এলাকার সাত্তার প্রামাণিকের ছেলে। মাত্র এক বছর আগে নতুন সংসার শুরু করেছিলেন। স্ত্রী এখন অন্তঃসত্ত্বা, কিন্তু সেই অনাগত সন্তানের মুখ দেখার সৌভাগ্য হলো না ফরহাদের। ঢাকায় গার্মেন্টসের চাকরি করলেও সংসারে সচ্ছলতা আনতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। কিন্তু যে বাহন তার স্বপ্নের সঙ্গী, সেটাই হয়ে উঠল মৃত্যুর কারণ। প্রতিদিনের মতো অটো নিয়ে বের হলেও আর ফেরেননি তিনি।
কোতোয়ালি থানার এসআই শক্তিপদ মৃধা জানান, প্রাথমিক তদন্তে এটি অটোরিকশা ছিনতাইয়ের জন্য হত্যাকাণ্ড বলে মনে হচ্ছে। তবে তদন্ত শেষ হলেই প্রকৃত কারণ বেরিয়ে আসবে। ফরহাদের পরিবারের আহাজারির মাঝেই থানায় হত্যা মামলা রুজু করে লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে স্বজনদের কাছে।
একটি পরিবারের স্বপ্নভঙ্গের গল্প হয়ে রইলেন ফরহাদ মোল্লা—সন্তানের মুখ দেখা হলো না তার, রয়ে গেল শুধু কান্নার স্মৃতি!