শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬, ০৯:০৮ পূর্বাহ্ন
নোয়াখালীর হাতিয়ায় বিএনপির রাষ্ট্র মেরামতের ৩১ দফা বাস্তবায়নে আয়োজিত গণসমাবেশে একটি অপ্রত্যাশিত স্লোগান নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। সমাবেশে বিএনপি নেতা আবুল বাসার ফুল মিয়ার ‘জয় বাংলা’ উচ্চারণ ঘিরে ব্যাপক আলোচনা চলছে।
শুক্রবার (৩১ জানুয়ারি) বিকেলে উপজেলা বিএনপি, পৌরসভা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের উদ্যোগে প্রকৌশলী মোহাম্মদ ফজলুল আজিম আদর্শ মহিলা কলেজ মাঠে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন জেলা বিএনপির সদস্য খোন্দকার মো. আবুল কালাম এবং সঞ্চালনায় ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. ইকবাল উদ্দিন রাশেদ। সমাবেশের প্রধান অতিথি ছিলেন সাবেক সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় বিএনপির নেতা প্রকৌশলী মোহাম্মদ ফজলুল আজিম।
সমাবেশে বিএনপির অঙ্গসংগঠনের নেতারা বক্তব্য দেন। এরই মধ্যে হাতিয়া পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আবুল বাসার ফুল মিয়া তার বক্তব্যের শেষ মুহূর্তে ‘জয় বাংলা’ বলে ফেলেন, যা নিয়ে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনাটি দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়ে এবং সমালোচনার ঝড় ওঠে।
এ নিয়ে গণমাধ্যমকে আবুল বাসার ফুল মিয়া বলেন, ‘আমি জয় বাংলা বলিনি। এটা আমাদের শত্রুর স্লোগান, আমাদের পরিবারের শত্রু। আমি কেন এটা বলব? আমি তো তারেক জিয়া জিন্দাবাদ বলেছি। পাশ থেকে কেউ জয় বাংলা বলে থাকতে পারে।’
তবে হাতিয়া পৌর যুবদলের আহ্বায়ক নিজাম উদ্দিন ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, ‘বক্তব্য সংক্ষিপ্ত করতে বলা হয়েছিল। আবুল বাসার ভাই “জয় হোক বাংলাদেশ, চিরজীবী হোক” বলতে গিয়ে ভুলক্রমে জয় বাংলা বলে ফেলেছেন। তবে তিনি জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু বলেননি। মানুষ মাত্রই ভুল করে।’
অন্যদিকে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উপজেলা বিএনপির কয়েকজন নেতা বলেন, ‘আওয়ামী লীগ গত ১৭ বছর ধরে জয় বাংলা স্লোগানের নামে আমাদের ওপর দমন-নিপীড়ন চালিয়েছে। শেখ হাসিনা ক্ষমতা ছাড়ার পর কিছু সুবিধাবাদী বিএনপিতে ঢোকার চেষ্টা করছে। আবুল বাসার ফুল মিয়া আওয়ামী লীগের ক্ষমতার সময় সুবিধা নিয়েছেন, এখন বিএনপির মঞ্চে জয় বাংলা বলছেন। এটা মেনে নেওয়া যায় না।’
জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, ‘বিএনপির কেউ নিষিদ্ধ স্লোগান দিতে পারবে না। সংগঠনবহির্ভূত কাজ করলে যেই হোক, তদন্ত করে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’