রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:৫৮ অপরাহ্ন
চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি
চাঁপাইনবাবগঞ্জের হৃদয়ে জেগে উঠেছে মানবতার মশাল। মহানন্দা দারিদ্র্য বিমোচন সংস্থা এবার শীতার্তদের জন্য যা করলো, তা নিঃসন্দেহে এক দৃষ্টান্ত। চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকার হুজরাপুরে শ্রী কালী মন্দির সংলগ্ন সংস্থার কার্যালয়ে এক অনন্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে শীতার্ত, দারিদ্র, হতদরিদ্র ও প্রতিবন্ধীদের মাঝে কম্বল বিতরণ করা হয়।
২৪ জানুয়ারি, শুক্রবার বিকাল ৪টা। হিমেল হাওয়া যখন জনজীবনকে স্থবির করে তুলেছে, তখনই এ সংস্থার উষ্ণতার স্পর্শে মুখে হাসি ফুটেছে শতাধিক মানুষের।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সংস্থার সভাপতি শ্রী জিতোন চৌধুরী, পরিচালক পলাশ চৌধুরী ও অমিত সাহা গৌরাঙ্গ, হিসাব রক্ষক শ্রী চন্দ্র কর্মকার, প্রচার সম্পাদক রুদ্র সাহা এবং সংস্থার অন্যান্য সদস্যরা।
সংস্থার সভাপতি শ্রী জিতোন চৌধুরী বলেন,
“আমরা শুধু আজ নয়, প্রতিদিন রাতের আঁধারে ছিন্নমূল মানুষদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছি। আমাদের স্বেচ্ছাসেবী টিম রাত ১০-১১টা পর্যন্ত শহর ও ইউনিয়নের বিভিন্ন প্রান্তে শীতার্তদের মাঝে কম্বল পৌঁছে দিচ্ছে। এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো তাদের দুঃখ লাঘব করা।”
তিনি আরও যোগ করেন,
“আমাদের এই সংগঠনটি অরাজনৈতিক এবং সম্পূর্ণ মানবসেবায় নিয়োজিত। সমাজের অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে চাই। এই উদ্যোগকে এগিয়ে নিতে আপনাদের সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।”
সংস্থার হিসাব রক্ষক শ্রী চন্দ্র কর্মকার তার বক্তব্যে সংস্থার অতীত কর্মকাণ্ডের উল্লেখ করে বলেন,
“আমাদের কাজের পরিধি শুধু শীতবস্ত্র বিতরণেই সীমাবদ্ধ নয়। জগন্নাথ দেবের রথযাত্রায় লেবু জল বিতরণ, ঈদুল আযহায় খাদ্যসামগ্রী বিতরণ, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি, দরিদ্র পরিবারের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় আর্থিক সহায়তা, এবং এতিম শিশুদের মাঝে সেলাই মেশিন বিতরণ আমাদের উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ। ভবিষ্যতে আরও বৃহৎ পরিসরে কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে।”
বক্তব্য শেষে ১০০ জন শীতার্ত মানুষের হাতে কম্বল তুলে দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
সমাজে যখন স্বার্থপরতা ও উদাসীনতা বৃদ্ধি পাচ্ছে, তখন মহানন্দা দারিদ্র্য বিমোচন সংস্থার এই উদ্যোগ মানবতার আলোকবর্তিকা হয়ে উঠেছে। এক রাতের জন্য নয়, প্রতিটি শীতের রাতের অন্ধকারকে আলোকিত করতে তারা কাজ করে যাচ্ছে।
মানবতার এই যাত্রায় আরও অনেকে সংযুক্ত হবেন—এটাই প্রত্যাশা।