সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬, ০৭:০৯ পূর্বাহ্ন
সাভারের একটি দুর্ঘটনায় অ্যাম্বুলেন্স এবং দুটি বাসে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এক পরিবারের ৪ সদস্যের মৃত্যু হয়েছে। নিহতরা সবাই অ্যাম্বুলেন্সে ছিলেন। তাদের বাড়ি টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলায়। ফারুক হোসেন সিদ্দীক তার অসুস্থ ছেলে ফুয়াদ সিদ্দীক (১৪), স্ত্রী মহসিনা সিদ্দীক এবং স্ত্রীর বড় বোন সীমা আক্তার (৩৮) নিয়ে চিকিৎসার উদ্দেশ্যে ঢাকার পথে রওনা দিয়েছিলেন। কিন্তু ঢাকা পৌঁছানোর আগেই তাদের যাত্রা থেমে যায়। বর্তমানে স্বজনরা মরদেহ গ্রহণের অপেক্ষায় আছেন, আর বাড়ির উঠানে চারটি খাটিয়া প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
ফারুক হোসেন সিদ্দিকীর ছোট ভাই মামুন সিদ্দীকী বলেন, তাদের চার ভাই-বোনের মধ্যে একজন বোন সবার বড়, যিনি ইতালিতে প্রবাসী। বড় ভাই ফারুক সিদ্দিকী ভবনদত্ত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছিলেন। তার বড় ছেলে ফুয়াদ সিদ্দীক স্থানীয় ভবনদত্ত গণ উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র। সম্প্রতি সে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং শরীরে রক্তের পরিমাণ কমে যায়। যদিও থ্যালাসেমিয়া ধরা পড়েনি। চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে গত রাত ১১টার দিকে টাঙ্গাইলের গোপালপুর থেকে ফুয়াদ, তার মা এবং খালাকে নিয়ে অ্যাম্বুলেন্সে রওনা দেন ফারুক সিদ্দিকী। ঘাটাইল উপজেলার হামিদপুরে এসে তিনি অ্যাম্বুলেন্সে ওঠেন।
মামুন আরও জানান, রাতে বড় ভাই তাকে ফোন করে সবার কাছে দোয়া চেয়েছিলেন। এরপর তাদের আর কোনো কথা হয়নি।
ফারুক সিদ্দিকীর সহকর্মী মো. রুবেল মিঞা বলেন, তিনি অত্যন্ত নীতিবান ও সৎ একজন শিক্ষক ছিলেন। তার মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এমন গুণী শিক্ষক আর হবে না। তিনি সবসময় সহকর্মীদের পাশে থাকতেন।
নিহতের চাচাতো বোন ও সহকর্মী সোমা সিদ্দিকী বলেন, স্যারের ছোট ছেলে ফাহিম সিদ্দীক (১১) হোস্টেলে থেকে মাদ্রাসায় পড়াশোনা করে। এখনও সে জানে না, তার বাবা, মা এবং ভাই আর বেঁচে নেই।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান রুহুল আমিন হেপলু বলেন, রাতে তিনি নিজে ফারুক সিদ্দিকীকে অ্যাম্বুলেন্সে তুলে দিয়ে বাড়ি ফিরেছিলেন এবং একসঙ্গে চা পান করেছিলেন। তিনি বলেন, এমন ভালো মানুষ গ্রামে আর নেই। তার মৃত্যুর খবর শুনে পুরো গ্রামের মানুষ কাঁদছে।