শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬, ১০:০১ পূর্বাহ্ন
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশ ছেড়ে পালাতে কিছুটা সময় লাগলেও, নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলা বিএনপি সভাপতি আজহারুল ইসলাম মান্নান নিজেকে সোনারগাঁওয়ের সর্বেসর্বা ভাবতে দেরি করেননি। গেল বছরের ৫ আগস্ট তার নেতৃত্বে শতাধিক সন্ত্রাসী স্থানীয় এক নারীর তিনটি টিনসেট ঘর ও ১৪ ইউনিট বিশিষ্ট একটি ভবন জোরপূর্বক দখল করে। এমনই অভিযোগ তুলে রোববার (৫ জানুয়ারি) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী তমিজ উদ্দিনের স্ত্রী মমতাজ বেগম, যিনি উপজেলার মেঘনা নিউটাউন সংলগ্ন প্রতাপের চর এলাকার বাসিন্দা।
সংবাদ সম্মেলনে মমতাজ বেগম তার লিখিত বক্তব্যে জানান, গত বছরের ৫ আগস্ট আজহারুল ইসলাম মান্নানের নেতৃত্বে পিরোজপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ঝাউচর গ্রামের সালাউদ্দিনের ছেলে জুয়েল, ইয়াসিনের ছেলে রিপন, হযরত বেপারীর ছেলে আলী নূর, প্রতাপের চর গ্রামের লাল মিয়া বেপারীর ছেলে খোরশেদ, আজমের ছেলে বাবুসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১০০-১৫০ জন সন্ত্রাসী তার বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। পরের দিন ৬ আগস্ট ভুক্তভোগীর ১৪ ইউনিট বিশিষ্ট ৪ তলা ভবনের ১২টি ইউনিটে থাকা ভাড়াটিয়াদের মারধর করে বের করে দেয়। এরপর তাদের উচ্ছেদ করে ভবনটি ভাঙচুরসহ ভেতরের মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, সন্ত্রাসীরা তার বাড়ির মূল গেট ইটের দেয়াল দিয়ে বন্ধ করে দেয়। একই সঙ্গে ভবনের ভেতরের কেচিগেটসহ সব কক্ষ তালাবদ্ধ করে ফেলে। বাড়ির আম, জাম, কাঠালসহ প্রায় ৬০-৭০টি গাছ কেটে নিয়ে যাওয়া হয়। এতো কিছুর পরেও ক্ষান্ত হননি আজহারুল ইসলাম মান্নান। বাড়ির মূল গেট সংলগ্ন ভাড়ায় দেওয়া তিনটি দোকানে ভাঙচুর চালিয়ে সেগুলো বেআইনিভাবে উচ্ছেদ করা হয় এবং দোকানগুলোর সামনে ৭-৮ ফুট উঁচু দেয়াল নির্মাণ করা হয়।
এ বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে গত ১১ আগস্ট সোনারগাঁও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে, ১৮ আগস্ট সোনারগাঁও থানায় এবং ২৩ আগস্ট নারায়ণগঞ্জ সেনা ক্যাম্পে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন মমতাজ বেগম। কিন্তু আজ পর্যন্ত কোনো প্রতিকার না পেয়ে গণমাধ্যমের শরণাপন্ন হয়েছেন বলে তিনি জানান।
বর্তমানে বাড়ি না থাকায় পরিবার নিয়ে খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছেন মমতাজ বেগম। বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রতিকার চেয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তিনি।