সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬, ০৮:০৩ পূর্বাহ্ন
‘একন হাতে কাজকর্ম তেমন নাই। টুকটাক কাজ করি কিছু টাকা উপার্জন করি। তবে এর বেশিরভাগই বিদ্যুৎ বিল, চাল, ডাল আর ওষুধ কিনতেই চলে যায়। প্রতিমাসে ধারকর্জ করে সংসার চালাতে হচ্ছে। তা–ও ভালো, এখন শাকসবজির দাম কিছুটা কমেছে। মাসখানেক আগে কাঁচা মরিচের সের ছিল ৪০০ টাকা। এখন সেই টাকায় ব্যাগ ভরে শাকসবজি কিনতে পারি।’
আজ (শুক্রবার) বিকেলে গাইবান্ধা জেলা শহরের পুরাতন বাজারে নির্মাণকর্মী রফিকুল ইসলাম আঞ্চলিক ভাষায় এভাবেই বাজারদরের পরিবর্তনের কথা জানালেন। সেখানে গাইবান্ধা শহরের সরকারপাড়ার বাসিন্দা রফিকুল ইসলামের মতো আরও ২৫ জন ক্রেতার সঙ্গে কথা হয় গণমাধ্যমের। তাঁরা সবাই বাজারে শাকসবজির দাম কমায় স্বস্তি প্রকাশ করেন।
পুরাতন বাজারের ক্রেতা ও বিক্রেতাদের মতে, গত এক সপ্তাহে বিশেষত সবজি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। যেমন, যেখানে গত সপ্তাহে প্রতি কেজি ভারতীয় পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৯৫ টাকায়, তা কমে আজ বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকায়। দেশি পেঁয়াজের দাম ১১০ টাকা থেকে কমে হয়েছে ৬০ টাকা। আলুর দাম প্রতি কেজি ৬০ টাকার পরিবর্তে এখন ৪০ টাকা। রসুনের দাম গত সপ্তাহে ২৫০ টাকা ছিল, এখন তা কমে ২২০ টাকায় নেমেছে।
এক সপ্তাহের ব্যবধানে পেঁপের দাম প্রতি কেজি ৪০ টাকা থেকে কমে ২০ টাকায় এসেছে। কাঁচা মরিচের কেজি ৩৮০–৪০০ টাকার বদলে এখন ৩০ টাকা। করলার দাম ৮০ থেকে ৬০ টাকায়, টমেটোর দাম ৮০ থেকে ৫৫ টাকায়, শিম ৮০ থেকে ২০ টাকায়, ফুলকপি ৪০ থেকে ১০ টাকায় এবং বাঁধাকপি ৩০ থেকে ১২ টাকায় নেমেছে। এ ছাড়া বেগুনের দাম ৪৫ থেকে ১৫ টাকায়, গাজর ১০০ থেকে ৪০ টাকায়, মিষ্টিকুমড়া ৫০ থেকে ২২ টাকায় এবং শসার দাম ৮০ থেকে ৩০ টাকায় নেমে এসেছে। মসলার মধ্যে আদার দাম ২৭০ টাকা থেকে কমে ১২০ টাকা হয়েছে।
গাইবান্ধা সদর উপজেলার খোলাহাটি গ্রামের কৃষক মিজানুর রহমান বলেন, ‘অনেক দিন পর বাজারে এলাম। এসে দেখি সবজির দাম কমেছে। কম টাকায় অনেক শাকসবজি কিনতে পারলাম। এতে টাকা সাশ্রয় হওয়ায় ব্রয়লার মুরগিও কিনে ফেললাম।’ একই উপজেলার কুমারপাড়া গ্রামের মজিতন বেগম বলেন, ‘আমরা গৃহস্থের বাড়িতে কাজ করি। কয়েকদিন আগেও সবজি কিনতে পারছিলাম না। এখন দাম কম, তাই বেশ কিছু শাকসবজি কিনেছি।’
সবজি বিক্রেতা এমদাদুল হক বলেন, ‘আগে বেশি দামে সবজি কিনতে হয়েছিল, তাই বেশি দামে বিক্রি করেছি। তবে এখন দাম কমায় আমরা কম দামে বিক্রি করতে পারছি।’
শাকসবজির পাশাপাশি ডিমের দামও কমেছে। এক সপ্তাহ আগে এক হালি ডিম বিক্রি হতো ৫০ টাকা। বর্তমানে তা বিক্রি হচ্ছে ৪৪ টাকায়।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের গাইবান্ধা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক পরেশ চন্দ্র বর্মণ বলেন, ‘নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখতে নিয়মিত বাজার পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এ ছাড়া অভিযানও চালানো হচ্ছে।’