মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:৪৪ অপরাহ্ন
গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (গোবিপ্রবি) বাংলা বিভাগের এক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে স্বামীকে আলাদা কক্ষে আটকে রেখে আত্মহত্যার অভিযোগ উঠেছে।
সোমবার (১৬ মার্চ) বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে গোপালগঞ্জ শহরের ঘোনাপাড়া এলাকায় নিজ বাসভবনে এ ঘটনা ঘটে। পরে স্বামী ও স্থানীয় লোকজন তার মরদেহ উদ্ধার করে গোপালগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে যান।
আত্মহত্যা করা ওই শিক্ষার্থীর নাম দীপা দাস। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। ময়নাতদন্ত শেষে তার মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় গোপালগঞ্জ সদর থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের হয়েছে।
জানা যায়, স্বামীর সঙ্গে দাম্পত্য কলহের জেরে দীপার বাগবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে তিনি স্বামীকে একটি কক্ষে আটকে রেখে পাশের ঘরে গিয়ে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেন। পরে তার স্বামী বাড়ির দারোয়ান ও আশপাশের লোকজনকে ডেকে এনে দরজা ভেঙে পাশের ঘরে স্ত্রীকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক জাকিয়া সুলতানা মুক্তা বলেন, দীপার আত্মহত্যার বিষয়টি আমরা গতকাল বিকেলে জানতে পারি। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও বিভাগের শিক্ষকরা সদর হাসপাতালে গিয়ে তার মরদেহ মর্গে দেখতে পান। আজ বিকেলে আবারও আমরা সেখানে গিয়েছিলাম। জানতে পেরেছি, ময়নাতদন্ত শেষে পরিবার মরদেহ গ্রহণ করেছে।
তিনি আরও বলেন, স্বামীর সঙ্গে পারিবারিক কলহের কারণে তাদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। পরে গতকাল বিকেলে সে বাসার একটি কক্ষে স্বামী ও সন্তানকে আটকে রেখে অন্য কক্ষে গিয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে জানা গেছে।
দীপার সহপাঠী রিফাত ইসলাম বলেন, ‘দীপা দাস ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী শিক্ষার্থী। আমিও শুনেছি স্বামীর সঙ্গে ঝগড়া-বিবাদের কারণেই সে আত্মহত্যা করেছে। এ ঘটনায় আমরা এবং বাংলা বিভাগ পরিবার গভীর শোকাহত।’
গোপালগঞ্জ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) মো. সরোয়ার হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় সদর থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে দাম্পত্য কলহের জেরে স্বামীর সঙ্গে ঝগড়ার পর তিনি আত্মহত্যা করেছেন।