বুধবার, ২০ মে ২০২৬, ০৭:১৭ পূর্বাহ্ন
কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে গরু চুরির সময় বাধা দেওয়ায় কলেজছাত্রী ফারজানা আক্তার ওরফে পিংকীকে গাড়ি চাপা দিয়ে হত্যার ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডের এক মাস আট দিন পর, গতকাল রোববার রাতে পুলিশ চোরচক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে।
গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিরা হলেন, নাঙ্গলকোট উপজেলার বাঙ্গড্ডা ইউনিয়নের পরিকোট গ্রামের মো. ইউনুসের ছেলে মো. বখতিয়ার জসীম (৩২) এবং নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার আমানপুর গ্রামের খালপাড় এলাকার প্রয়াত কাবিল মিয়ার ছেলে রুবেল মিয়া (৩৫)।
নাঙ্গলকোট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে ফজলুল হক এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, গতকাল রোববার রাতে চট্টগ্রাম, ফেনী ও নোয়াখালীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে আন্তজেলা গরু চোরচক্রের ওই দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ঘটনার দিন ছিল ১৮ অক্টোবর। দুপুর দেড়টার দিকে নাঙ্গলকোট উপজেলার রায়কোট নতুন বাজার এলাকায় সংঘবদ্ধ একটি চোরচক্র একটি প্রাইভেট কারে করে একটি বাছুর চুরি করে পালাচ্ছিল। এলাকার পুরুষেরা তখন জুমার নামাজে ছিলেন। বিষয়টি টের পেয়ে প্রথমে চোরদের বাধা দেন ফারজানার মা। এতে চোরেরা তাঁকে মারধর করে। মায়ের চিৎকার শুনে ফারজানা আক্তার ঘটনাস্থলে ছুটে এসে গাড়ির সামনে গিয়ে দাঁড়ান। তখন চোরেরা গাড়ি চাপা দিয়ে তাঁকে হত্যা করে এবং বাছুরটি নিয়ে পালিয়ে যায়।
ফারজানা আক্তার রায়কোট গ্রামের নতুন বাজারসংলগ্ন এলাকার আবদুল কাদেরের মেয়ে। তিনি বাঙ্গড্ডা বাদশা মিয়া আদর্শ স্কুল অ্যান্ড কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। পরদিন ফারজানার বাবা আবদুল কাদের নাঙ্গলকোট থানায় অজ্ঞাতনামা তিন থেকে চারজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।
ওসি এ কে ফজলুল হক বলেন, ‘ঘটনাস্থলে কোনো সিসি ক্যামেরা ছিল না। তবে আশপাশের কয়েকটি সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে আমরা পালিয়ে যাওয়া গাড়িটি শনাক্ত করি। গাড়ির নম্বর পরিষ্কার বোঝা না গেলেও, ঘটনাটির পর থেকেই আমরা চক্রটির বিষয়ে খোঁজখবর করতে থাকি। প্রযুক্তির সহায়তায় দীর্ঘ তদন্তের মাধ্যমে অবশেষে চোরচক্রকে শনাক্ত করতে সক্ষম হই। অভিযান চালিয়ে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সোমবার বিকেলে আসামিরা কুমিল্লার আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। আদালত তাঁদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।’
জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা স্বীকার করেছে, দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা গরু চুরি করে আসছিল। ঘটনার দিন চক্রটির চার সদস্য প্রাইভেট কারে ছিলেন। তাঁরা গাড়ি চলন্ত অবস্থায় রেখেই বাছুরটি চুরি করে পালাচ্ছিলেন। ফারজানা তাঁদের সামনে দাঁড়িয়ে চিৎকার করতে থাকেন। নিজেরা বাঁচার জন্য তাঁরা ফারজানাকে গাড়ি চাপা দিয়ে পালিয়ে যান। পরে পাশের পেরিয়া ইউনিয়নের দৌলতপুর গ্রামে চোখ বাঁধা অবস্থায় চুরি করা বাছুরটি ফেলে রেখে চলে যান। ওসি আরও জানান, চক্রের বাকি দুই সদস্য এবং ব্যবহৃত গাড়িটি শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের গ্রেপ্তার ও গাড়ি উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ফারজানার বাবা আবদুল কাদের বলেন, ‘আমার তিন মেয়ে ও এক ছেলের মধ্যে পিংকী ছিল সবচেয়ে বড়। সে খুব মেধাবী ও সাহসী ছিল। কয়েক মাস পর মেয়েকে বিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলাম। কিন্তু তার আগেই সব শেষ হয়ে গেল। আমরা খুনিদের ফাঁসি চাই।’