শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬, ১০:৫৪ পূর্বাহ্ন
চট্টগ্রামের চন্দনাইশে পারিবারিক কলহের জেরে যুবলীগ নেতা জমির উদ্দীন চৌধুরী (৪৩) তাঁর স্ত্রী বিউটি আকতারকে (৩৫) জবাই করে নির্মমভাবে হত্যা করেছেন। এই মর্মান্তিক ঘটনার পর তিনি ঘরের দরজা বন্ধ করে নিজের মা শামসুন নাহারকেও (৫৮) ছুরিকাঘাত করেন এবং দীর্ঘক্ষণ আটকে রাখেন। জানা গেছে, জমির উদ্দীন মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলেন।
প্রায় ছয় ঘণ্টা পর পুলিশ ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে জমির, তাঁর আহত মা ও স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার করে। শামসুন নাহারকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চন্দনাইশ থানার ওসি। ঘটনা ঘটে গতকাল সোমবার বিকেল পাঁচটার দিকে, চন্দনাইশ উপজেলার হাশিমপুর ইউনিয়নের উত্তর হাসিমপুর ছৈয়দাবাদ গ্রামে। জমির ওই গ্রামের মৃত নাসির উদ্দীন চৌধুরীর সন্তান। স্থানীয়রা জানান, জমির তিন মাস ধরে মানসিক অসুস্থতায় ভুগছিলেন। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তাঁর মানসিক সমস্যা থাকার প্রমাণস্বরূপ কোনো চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র পাওয়া যায়নি।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে আরও জানা গেছে, গতকাল বিকেলে জমির ঘরের দরজা বন্ধ করে প্রথমে তাঁর স্ত্রী বিউটি বেগমকে নির্মমভাবে হত্যা করেন। এ সময় তাঁর মা ছুটে এসে পুত্রবধূকে বাঁচাতে গেলে তাকেও ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত করেন জমির এবং ঘরে আটকে রাখেন।
খবর পেয়ে থানা-পুলিশ, চন্দনাইশের দায়িত্বে থাকা সেনা সদস্য ও ফায়ার সার্ভিসের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। দীর্ঘ ছয় ঘণ্টা ধরে তাঁকে বুঝিয়ে বলার পর রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে পুলিশ দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। এরপর পুলিশ বিউটির মরদেহ উদ্ধার করে এবং আহত শামসুন নাহারকে হাসপাতালে পাঠায়। অভিযুক্ত জমিরকেও আটক করা হয়েছে।
চন্দনাইশ থানার ওসি ইমরান আল হোসাইন প্রথম আলোকে জানান, ঘটনার খবর পেয়ে সেনাবাহিনী ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের সহযোগিতায় পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং বর্তমানে তদন্ত কার্যক্রম চলছে।