সোমবার, ০৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৯:২৪ অপরাহ্ন
একই বছরে দুইবার হজ এবং তিনটি ঈদ পালিত হওয়ার বিরল ঘটনাটি ঘটতে যাচ্ছে হিজরি (চন্দ্রবর্ষ) ও গ্রেগরিয়ান (সৌরবর্ষ) ক্যালেন্ডারের মধ্যকার সময়গত পার্থক্যের কারণে—এমনটাই জানিয়েছেন সৌদি আরবের খ্যাতনামা জলবায়ু ও জ্যোতির্বিজ্ঞান বিশেষজ্ঞ ড. আবদুল্লাহ আল-মিসনাদ।
তিনি ব্যাখ্যা করেন, ইসলামী হিজরি বর্ষপঞ্জি চাঁদের গতির ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় এর একটি বছর হয় ৩৫৪ বা ৩৫৫ দিনের। বিপরীতে গ্রেগরিয়ান বা ইংরেজি ক্যালেন্ডার সূর্যভিত্তিক, যার দৈর্ঘ্য ৩৬৫ বা ৩৬৬ দিন। এই ব্যবধানের কারণেই হিজরি বছর প্রতি বছর গ্রেগরিয়ান বছরের তুলনায় প্রায় ১০ থেকে ১১ দিন এগিয়ে আসে।
এই হিসাব অনুযায়ী, ২০৩৯ সালের ৬ জানুয়ারি প্রথম হজ মৌসুমের সমাপ্তি ঘটবে। দিনটি হবে হিজরি ১৪৬০ সনের ১০ জিলহজ, অর্থাৎ পবিত্র ঈদুল আজহা। এরপর হিজরি বর্ষপঞ্জি প্রায় পূর্ণ এক বছর ঘুরে আবারও একই গ্রেগরিয়ান বছরের মধ্যেই দ্বিতীয়বার হজ সম্পন্ন হবে। ফলে ২০৩৯ সালের ২৬ ডিসেম্বর আবারও পালিত হবে ঈদুল আজহা, যা হবে হিজরি ১৪৬১ সনের ১০ জিলহজ। অর্থাৎ একই ইংরেজি বছরে দুটি পৃথক হজ অনুষ্ঠিত হবে—যা ইতিহাসে অত্যন্ত বিরল ও তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা।
এই দুই ঈদুল আজহার আগেই দুটি পৃথক আরাফার দিন পালিত হবে। আরাফার দিন হজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যেদিন বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে আসা হাজিরা আরাফাতের ময়দানে একত্রিত হয়ে দোয়া ও ইবাদতে মগ্ন থাকেন।
এই দুই কোরবানির ঈদের মাঝামাঝি সময়ে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় উৎসব আসছে। হিসাব অনুযায়ী, ২০৩৯ সালের ১৯ অক্টোবর ঈদুল ফিতর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে সে বছর মুসলমানরা রমজান, রোজা, হজ, কোরবানি ও ঈদের নামাজ—সব মিলিয়ে এক অনন্য ধর্মীয় চক্রের সাক্ষী হবেন।
চন্দ্রবর্ষের এই সময়গত সরে আসার প্রভাব শুধু হজ ও ঈদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। পবিত্র রমজান মাসও একই বছরে দুইবার আসতে যাচ্ছে। জ্যোতির্বিদদের হিসাব অনুযায়ী, ২০৩০ সালে একবার জানুয়ারিতে এবং আরেকবার ডিসেম্বর মাসে রমজান শুরু হবে। এর আগে সর্বশেষ এমন ঘটনা ঘটেছিল ১৯৯৭ সালে, প্রায় ৩৩ বছর আগে।
বিশেষজ্ঞরা জানান, এই ক্যালেন্ডারগত পার্থক্যের কারণেই নির্দিষ্ট সময় পরপর এমন ব্যতিক্রমী ও কৌতূহলোদ্দীপক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়—যখন একই বছরে একাধিক রমজান, হজ কিংবা ঈদ দেখা যায়। ধর্মীয় ও জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক উভয় দিক থেকেই এসব ঘটনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।