সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬, ০৮:২৫ পূর্বাহ্ন
ঋণ গ্রহণ কোনো সাধারণ বিষয় নয়, যাতে মনোযোগহীনভাবে নেয়ার পর সহজেই পরিশোধ করা যায়; বরং এটি এক বড় দায়িত্ব এবং এর পরিণতি মারাত্মক হতে পারে। হাদিসে, রাসুলুল্লাহ (সা.) ঋণকে ‘ভালোবাসা ও সম্পর্কের কাঁচি’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। ঋণ আত্মীয়তা ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনকে দুর্বল করে তোলে, এজন্য আমাদের উচিত যতটা সম্ভব ঋণ থেকে দূরে থাকা এবং অল্পে সন্তুষ্ট থাকা।
আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে ঋণ পরিশোধের ব্যাপারে বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছেন। ঋণগ্রহীতার মৃত্যু পরবর্তী সম্পত্তি বণ্টন করার আগে ঋণ পরিশোধ করার কথা তিনি উল্লেখ করেছেন। (সুরা : নিসা, আয়াত : ১২) অন্য এক আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদেরকে আদেশ দিয়েছেন যে, তোমরা প্রাপ্য আমানতসমূহ তাদের কাছে পৌঁছে দাও।’ (সুরা : নিসা, আয়াত : ৫৮)
ঋণ একটি গুরুত্বপূর্ণ মানবিক দায়বদ্ধতা।
এর পরিশোধ না করা পর্যন্ত ঋণগ্রহীতা কোনোভাবেই এর দায় থেকে মুক্তি পেতে পারেন না। আবদুল্লাহ ইবনে জাহাশ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘আল্লাহর শপথ, যাঁর হাতে আমার প্রাণ! আল্লাহর পথে যে শহীদ হয়, তারপর জীবিত হয়ে শহীদ হয় এবং আবার জীবিত হয়ে শহীদ হয়, তবুও সে জান্নাতে প্রবেশ করবে না, যতক্ষণ না তার ঋণ পরিশোধ হয়।’ (সহিহ বুখারি) রাসুলুল্লাহ (সা.) সব সময় ঋণ থেকে আশ্রয় চাইতেন এবং একে কুফরের সঙ্গে তুলনা করেছেন। হজরত আবু সাইদ খুদরি (রা.) বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) সব সময় ঋণ ও কুফরের হাত থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাইতেন।’
একদিন তাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, হে আল্লাহর রাসুল! উভয় কি সমান? তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ, উভয়ই সমান।’ (মুসতাদরাকে হাকেম) অন্য এক হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) প্রায়ই এই দোয়া পাঠ করতেন—‘হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে গুনাহ এবং ঋণ থেকে আশ্রয় চাই।’ একবার জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, হে আল্লাহর রাসুল! আপনি কেন ঋণ থেকে বেশি আশ্রয় চান? তিনি বললেন, ‘যেহেতু ঋণগ্রস্ত ব্যক্তি মিথ্যা কথা বলে এবং তার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে।’ (সুনানে নাসায়ি)
ঋণ গ্রহণ অত্যন্ত অসম্মানের বিষয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যখন আল্লাহ তাআলা কোনো বান্দাকে অপমানিত করতে চান, তখন তার ঘাড়ে ঋণের বোঝা চাপিয়ে দেন।’ (সুনানে আবু দাউদ)
যদি কোনো ব্যক্তি ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও তা পরিশোধ না করে, তবে এটি এক ধরনের জুলুম এবং এর শাস্তি খুবই কঠিন। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি তার ঋণ পরিশোধ করতে অস্বীকৃতি জানাবে, সে জালিম।’ (সহিহ মুসলিম)
অন্য এক হাদিসে তিনি বলেন, ‘যে ব্যক্তি শক্তি থাকা সত্ত্বেও ঋণ পরিশোধে গড়িমসি করবে, সে প্রতিদিন, প্রতিটি শুক্রবার ও প্রতিটি মাসে জালিম হিসাবে গণ্য হবে।’ (সুনানে তাবরানি)
এ কথা মনে রাখতে হবে যে স্ত্রীর মোহরানাও ঋণের অন্তর্ভুক্ত। যদি কোনো ব্যক্তি বিয়ের সময় মোহরানা নির্ধারণ করে, কিন্তু তা পরিশোধের উদ্দেশ্য না থাকে, তবে সে ব্যক্তি ব্যভিচারী হয়ে মরবে। (সুনানে তাবরানি)
আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে ঋণমুক্ত জীবন দান করুন।