সোমবার, ০৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৯:৩৩ অপরাহ্ন
মিষ্টি ও হালকা টক স্বাদের জন্য পেয়ারা সব বয়সী মানুষের কাছেই প্রিয় একটি ফল। কাঁচা খাওয়া ছাড়াও জুস, জ্যাম, স্মুদি কিংবা ডেজার্ট—নানাভাবে পেয়ারার ব্যবহার দেখা যায়। পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ এই ফলটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো এবং হজমশক্তি উন্নত করার জন্য সুপরিচিত। তবে অনেকের মনেই একটি প্রশ্ন ঘুরপাক খায়—পেয়ারা কি খোসাসহ খাওয়া ভালো, নাকি খোসা ছাড়িয়ে খাওয়াই বেশি স্বাস্থ্যকর?
এই দ্বিধা দূর করতে সম্প্রতি নিজের মতামত জানিয়েছেন ভারতীয় পুষ্টিবিদ দীপসিখা জৈন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে তিনি পেয়ারার খোসাসহ খাওয়ার সুফল ও সতর্কতার দিকগুলো ব্যাখ্যা করেন।
দীপসিখা জৈনের ভাষায়, পেয়ারা নিঃসন্দেহে একটি পুষ্টিকর ফল, তবে কোন উপায়ে খাওয়া হচ্ছে সেটিও স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তিনি জানান, পেয়ারার খোসায় রয়েছে অতিরিক্ত পটাশিয়াম, জিঙ্ক ও ভিটামিন সি, যা ত্বকের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে এবং শরীরের সামগ্রিক পুষ্টি জোগাতে সহায়তা করে। তবে যাদের ডায়াবেটিস বা উচ্চ কোলেস্টেরলের সমস্যা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে খোসাসহ পেয়ারা খাওয়া ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক গবেষণায় দেখা গেছে, পেয়ারার খোসা রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বাড়াতে পারে এবং লিপিড প্রোফাইলের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। সে কারণে উচ্চ রক্তে শর্করা বা কোলেস্টেরল সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য খোসা ছাড়ানো পেয়ারা তুলনামূলকভাবে নিরাপদ বলে মত দিয়েছেন পুষ্টিবিদরা।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে
পেয়ারা ভিটামিন সি-এর অত্যন্ত সমৃদ্ধ উৎস, যা কমলার তুলনায়ও বেশি কার্যকর। এই অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরকে সংক্রমণ থেকে রক্ষা করে এবং সর্দি-কাশি প্রতিরোধে সহায়তা করে। একটি মাঝারি আকারের পেয়ারা থেকেই দৈনিক ভিটামিন সি-এর চাহিদা পূরণ সম্ভব।
হজমে সহায়ক ও আঁশে ভরপুর
খাদ্যআঁশসমৃদ্ধ পেয়ারা হজম প্রক্রিয়া স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা কমায়। আঁশ রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণেও ভূমিকা রাখে, ফলে খোসা ছাড়ানো পেয়ারা ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য ভালো বিকল্প হতে পারে।
ত্বকের যত্নে কার্যকর
পেয়ারায় থাকা লাইকোপিন ও ভিটামিন এ ফ্রি র্যাডিক্যালের ক্ষতিকর প্রভাব কমিয়ে ত্বককে রাখে সতেজ ও উজ্জ্বল। নিয়মিত পেয়ারা খেলে বয়সের ছাপ পড়া ধীর হতে পারে।
হৃদ্স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী
পেয়ারায় থাকা পটাশিয়াম ও ম্যাগনেশিয়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত পেয়ারা খেলে রক্তচাপ কমে এবং লিপিড প্রোফাইলের উন্নতি ঘটে, যা হৃদ্স্বাস্থ্যের জন্য ইতিবাচক।
খোসাসহ বা খোসা ছাড়িয়ে—যেভাবেই খাওয়া হোক না কেন, পেয়ারা একটি শক্তিশালী পুষ্টিকর ফল। নিয়মিত খাদ্যতালিকায় এই সুপারফ্রুট রাখলে সুস্থতা ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বজায় রাখা সহজ হয়।
সূত্র: এনডিটিভি