সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:৫৪ অপরাহ্ন
সাদিকা জাহান
শীতকাল বিদায় নিয়েছে, এখন গ্রীষ্মের শুরু। গরম পড়তেই রাস্তাঘাটে চলাচল করা যেন এক মহা যুদ্ধ। সূর্যের প্রখর তাপে ঘাম ঝরে, আর তৃষ্ণায় মন চায় একটু ঠাণ্ডা পানীয়। গ্রীষ্মকালে আখের রস এক অনন্য আরামদায়ক পানীয়। অনেকেই এটি তৃষ্ণা মেটানোর জন্য পান করেন, আবার কেউ কেউ রমজান মাসে ইফতারেও এটি রাখেন।
গরমে আখের রস পান করলে যেন প্রাণটা জুড়িয়ে যায়। তবে প্রশ্ন হলো, আখের রস কি আসলেই শরীরের জন্য ভালো? গত বছর ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিক্যাল রিসার্চ (আইসিএমআর) এ বিষয়ে একটি গবেষণা প্রকাশ করেছে। গবেষণায় দেখা গেছে, আখের রসের মধ্যে থাকা উচ্চ পরিমাণ চিনি স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
১০০ মিলি আখের রসে প্রায় ১৩-১৫ গ্রাম চিনি থাকে। প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য দৈনিক সর্বাধিক ৩০ গ্রাম চিনি গ্রহণের সুপারিশ করা হয়, আর ৭-১০ বছর বয়সী শিশুদের জন্য এই পরিমাণ ২৪ গ্রাম। অর্থাৎ, একবার আখের রস পান করলেই প্রায় অর্ধেক চিনি গ্রহণ হয়ে যায়। তাই অতিরিক্ত আখের রস পান করা স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
তবে গবেষণা বলছে না যে, গরমকালে একেবারে আখের রস পরিহার করতে হবে। কোনো খাবারই অতিরিক্ত খাওয়া উচিত নয়। তাই পরিমিত মাত্রায় আখের রস পান করলে তা উপকারীও হতে পারে।
আখের রসে রয়েছে প্রচুর পুষ্টিগুণ। এতে কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন, আয়রন, পটাশিয়াম, ফসফরাস, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম এবং অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট রয়েছে। গরমে এটি শরীরকে ঠাণ্ডা রাখতে সাহায্য করে এবং হজমের সমস্যাও কমায়। আখের রসে থাকা খনিজ উপাদান দাঁত ও হাড়কে মজবুত করে।
তবে মনে রাখতে হবে, আখের রস পান করার সময় অবশ্যই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার দিকে নজর দিতে হবে। রাস্তার পাশে যেসব জায়গায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে আখের রস তৈরি হয়, সেসব স্থান এড়িয়ে চলাই ভালো। সংক্রমণ এড়াতে পরিষ্কার ও স্বাস্থ্যকর উপায়ে প্রস্তুত করা আখের রস পান করাই শ্রেয়।
পরিশেষে বলা যায়, আখের রস গ্রীষ্মকালে শরীরের জন্য আরামদায়ক হতে পারে, তবে অতিরিক্ত সেবন এবং অস্বাস্থ্যকর প্রস্তুতি থেকে বিরত থাকতে হবে। পরিমিত পরিমাণে এবং স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে পান করলে আখের রস শরীরকে সতেজ রাখতে পারে।