মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬, ০১:৩৬ পূর্বাহ্ন
“আপনি সন্তানের সাফল্য চান, কিন্তু আপনার আচরণ কি তাকে নিঃশ্বাস নিতে দিচ্ছে?”
অনলাইন ডেস্ক
আনমনে সন্তানের পিছু পিছু ছুটছেন, তার প্রতিটি ভুলে নিজেকে লজ্জিত ভাবছেন, অন্যদের সামনে সন্তানকে ‘সেরা’ প্রমাণ করতে গিয়ে দিনশেষে বকা দিচ্ছেন। আপনার এই যত্নের আড়ালে কি লুকিয়ে আছে ‘পিকক প্যারেন্টিং’-এর বিষাক্ত ছায়া?
অনেক অভিভাবকই সন্তানকে সফল ও পারফেক্ট দেখতে চান—এটি স্বাভাবিক। কিন্তু সমস্যা হয় তখনই, যখন এই চাওয়া রূপ নেয় নিজের আত্মপ্রেমের প্রতিফলনে। এই ধরনের ‘পিকক প্যারেন্ট’ নিজের সন্তানকে নিজেরই অর্জনের প্রতিচ্ছবি ভাবেন। তাঁর চোখে সন্তান হয়ে ওঠে এক ধরনের প্রদর্শনযোগ্য ট্রফি। সন্তানকে নিয়ে প্রতিযোগিতা, অন্যদের চেয়ে সেরা বানানোর চাপ এবং নিজের ভাবনার বাইরে কিছু না শুনতে চাওয়ার প্রবণতা—এসবই পিকক প্যারেন্টিংয়ের লক্ষণ।
– সন্তানের প্রতিটি অর্জনে নিজের কৃতিত্ব খোঁজা
– সন্তানের আবেগের চেয়ে নিজের ভাবমূর্তিকে গুরুত্ব দেওয়া
– সব সময় সেরা হওয়ার চাপ দেওয়া
– অন্য অভিভাবকের উপদেশকে তাচ্ছিল্য করা
– সন্তানের ওপর অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ প্রয়োগ
সন্তান হয়ে পড়ে চরম মানসিক চাপে। ছোট থেকেই নিজের আনন্দ ভুলে শুধু বাবা-মায়ের প্রত্যাশা পূরণের চেষ্টায় ক্লান্ত থাকে। ক্রমাগত তুলনা, হীনম্মন্যতা এবং ব্যর্থতার ভয় তার ভিতরে গেঁথে যায়। সেই শিশুটি বড় হয়ে আত্মবিশ্বাসহীন, সম্পর্ক-সংকটে জর্জরিত ও আবেগীভাবে দূরে সরে যেতে পারে।
ভয় পাবেন না, এটি কোনো মানসিক রোগ নয়। বরং এটি একটি আচরণগত ধারা, যা আপনি চাইলে বদলাতে পারেন। মনে রাখবেন—সন্তানকে ভালোবাসা মানেই তাকে নিজের মতো করে বেড়ে উঠতে দেওয়ার সাহস রাখা।
তবে তাঁর ভুল ধরিয়ে দিন নম্রভাবে, কোনো তর্কে না গিয়ে। কোমল ভাষায় বলুন, ‘এইভাবে না বলে ওভাবে বললে হয়তো ওর মনটা ভালো থাকত’। পাশাপাশি সন্তানের মনের যত্ন নিন। কথা বলার সময় তাকে গুরুত্ব দিন। যেন বুঝতে পারে, তার অনুভূতিগুলো মূল্যবান।
– নিজের প্রত্যাশা ও সন্তানের বাস্তবতা মেলাতে শিখুন
– অন্য অভিভাবকদের অভিজ্ঞতা শুনুন
– সন্তানকে স্বাধীনভাবে ভাবতে শেখান
– প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞ বা কাউন্সেলরের সাহায্য নিন
শেষ কথা, সন্তানকে মানুষ করার চেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ নেই। তাকে শুধুই সফল নয়, একজন সুখী ও সুন্দর মানুষ হিসেবে গড়ে তুলুন। কারণ, সন্তানের হাসিমুখই হবে আপনার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।