বুধবার, ২০ মে ২০২৬, ০৭:২১ পূর্বাহ্ন
বৈবাহিক সম্পর্ক কিংবা রোমান্টিক সম্পর্কে যুক্ত রয়েছেন, এমন মার্কিন নাগরিকদের মধ্যে ৬৭ শতাংশই সঙ্গীর সঙ্গে ব্যক্তিগত তথ্য-উপাত্ত, যেমন সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইলের পাসওয়ার্ড, শেয়ার করেন। এই তথ্য উঠে এসেছে ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান পিউ রিসার্চ সেন্টারের এক জরিপ থেকে। এদের মধ্যে ২৭ শতাংশ সঙ্গীর কাছে নিজেদের ই–মেইল অ্যাকাউন্ট এবং ১১ শতাংশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রোফাইল শেয়ার করে থাকেন।
সঙ্গীর কাছে পাসওয়ার্ড শেয়ার করে নিজের ই–মেইল, ফেসবুকসহ অন্যান্য অ্যাকাউন্টে তাঁকে প্রবেশাধিকার দেওয়াকে বর্তমান প্রজন্ম বিশ্বাসের একটি প্রতীক হিসেবে দেখছে। কিছু মানুষ আবার সঙ্গীর নাম বা তার সঙ্গে সম্পর্কিত কোনো শব্দ মিলিয়ে নিজেদের পাসওয়ার্ড তৈরি করেন। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে—সঙ্গীর সঙ্গে পাসওয়ার্ড শেয়ার করা কতটা নিরাপদ?
সঙ্গীকে কি আপনার পাসওয়ার্ড শেয়ার করবেন?
বিশ্বাসের প্রতীক হিসেবে পাসওয়ার্ড শেয়ারিং দেখানো হলেও মনোবিজ্ঞানী ও সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা এটিকে ‘উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। কারণ, যেকোনো রোমান্টিক সম্পর্ক হঠাৎ করে ভেঙে যেতে পারে। আর আপনার ই–মেইল, ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপ বা অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট বন্ধ করা সহজ নয়। এগুলো একপ্রকার আপনার জীবনের অংশ।
সম্পর্কের ইতি ঘটলে বা বিচ্ছেদ হলে, পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে ‘প্রাক্তন’ আপনার ব্যক্তিগত ছবি বা ভিডিওর নাগাল পেতে পারেন। সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পর অনেকেই আবেগের বসে প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে ওঠার ঘটনা রয়েছে অগণিত। এরকম অবস্থায়, সঙ্গীর পাসওয়ার্ড জানার কারণে তা আপনার জন্য হতে পারে বিপদের কারণ।
মনোবিজ্ঞানীদের পরামর্শ
সঙ্গীর প্রতি বিশ্বাসের জন্য নিজের পাসওয়ার্ড শেয়ার করার প্রয়োজন নেই বলে মনে করেন মনোবিজ্ঞানীরা। তাঁদের মতে, সম্পর্কের মধ্যে স্বাধীনতা এবং একটি ব্যক্তিগত সীমানা থাকা উচিত। যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক কেলি ক্যাম্পবেল বলেন, ‘সঙ্গীর কাছে যতটা কম আত্মপ্রকাশ করবেন, ততই মানসিকভাবে ভালো থাকবেন, সুখে থাকবেন। তবে, সফল দম্পতিদের মধ্যেও কিছু গোপনীয়তা থাকা প্রয়োজন।’
পাসওয়ার্ড শেয়ার করার পরেও কীভাবে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা বজায় রাখবেন?
সঙ্গীর কাছে পাসওয়ার্ড শেয়ার করা বা একাধিক অ্যাকাউন্টে একই পাসওয়ার্ড ব্যবহার—এ দুটোই ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকে দুর্বল করে ফেলতে পারে। এর সমাধান হিসেবে পাসওয়ার্ড ম্যানেজার ব্যবহার করা যেতে পারে। এতে যা হবে—
• প্রতিটি অ্যাকাউন্টের জন্য আলাদা পাসওয়ার্ড থাকবে।
• প্রতিটি পাসওয়ার্ড সুরক্ষিতভাবে সংরক্ষিত থাকবে।
• আপনার সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে। সম্পর্ক শেষ হয়ে গেলে, পাসওয়ার্ড ম্যানেজার ব্যবহার করে আপনি সঙ্গীর প্রবেশাধিকার বন্ধ করতে পারবেন।
সূত্র: বেস্ট রিভিউজ