মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ১১:১৫ অপরাহ্ন
‘ভোট কেন্দ্রে আগে তো আপনারা অনেক কুকুর দেখিয়েছেন টেলিভিশনে, আজ কেন্দ্রের ধারের কাছে কুকুর দেখছি না। আগে দেখিয়েছেন মাঠ খালি, কুকুরের ছবি দিয়ে টেলিভিশনে, পত্রপত্রিকায় দেখিয়েছেন। আজ কুকুর তো খুঁজে পাবেন না। এখন সব মানুষ আর মানুষ।’
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন রাজধানীর ইস্কাটন গার্ডেন হাইস্কুল কেন্দ্রে ভোট প্রদান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব মন্তব্য করেন।
নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনের প্রতি জনআস্থা ফিরবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, ইসির ওপর আস্থা ইতোমধ্যেই ফিরে এসেছে। তা না হলে কেন্দ্রে এত ভোটার উপস্থিতি দেখা যেত না। রাজনৈতিক দলগুলোও আস্থা রেখেছে, তারা প্রকাশ্যে যা-ই বলুক না কেন। অতীতের নির্বাচনের অভিজ্ঞতা আপনাদের জানা আছে। আমাদের ওপর আস্থা আছে বলেই আজ এত গণমাধ্যমকর্মী ক্যামেরা নিয়ে উপস্থিত হয়েছেন।
এ এম এম নাসির উদ্দিন জানান, তিনি টেলিভিশনে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ভোট পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছেন। পঞ্চগড়ের মতো দূরবর্তী এলাকাতেও নারীরা ঘন কুয়াশা উপেক্ষা করে সকাল থেকেই লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দিচ্ছেন। তিনি বলেন, দেশের তরুণ সমাজ ও নারীরা আমাদের শক্তিতে পরিণত হবে, ইনশাল্লাহ।
ভোটের পরিবেশকে ঈদের আমেজের সঙ্গে তুলনা করে সিইসি বলেন, আমরা একটি বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন উপহার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম। সারা দেশে শান্তিপূর্ণ ও সুন্দর পরিবেশে ভোটগ্রহণ চলছে। শেষ পর্যন্তও তা সাফল্যের সঙ্গে সম্পন্ন হবে বলে আশা করছি। বাংলাদেশ গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রায় এগিয়ে যাচ্ছে। নির্বাচন কমিশন কারও পক্ষ বা বিপক্ষে নয়। এ দেশে আর সাজানো নির্বাচন বা কেন্দ্র দখলের সংস্কৃতি চলবে না। ইসির উদ্দেশ্য কখনোই পাতানো নির্বাচন নয়।
গণমাধ্যমকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনারা নির্ভুল ও সত্য তথ্য তুলে ধরবেন। মূলধারার গণমাধ্যমকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে। কিছু ব্যক্তি ভিন্ন উদ্দেশ্যে সামাজিক মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে থাকে। যারা দেশের মঙ্গল চায় না, তারাই অপপ্রচার চালায়। এসব তথ্য মুহূর্তেই হাজারোবার শেয়ার হয়। তাই শেয়ার করার আগে অবশ্যই সত্যতা যাচাই করা জরুরি।
তিনি আরও বলেন, মানুষ এখন উপলব্ধি করেছে যে সুষ্ঠু নির্বাচন ছাড়া কমিশনের অন্য কোনো উদ্দেশ্য নেই। গ্রামাঞ্চলের বিভিন্ন কেন্দ্রের চিত্র তিনি টেলিভিশনে দেখেছেন। বিশেষ করে নারীদের সক্রিয় উপস্থিতি তাকে আনন্দিত করেছে। পঞ্চগড়ে নারীরা ভোর থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দিয়েছেন। তরুণ প্রজন্ম ও নারীদের অংশগ্রহণ জাতির শক্তিকে আরও দৃঢ় করেছে।
নির্বাচন ঘিরে গুজব ও অপপ্রচার প্রসঙ্গে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি ভুয়া কনটেন্ট বর্তমানে বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমরা নানা প্রস্তুতি নিয়েছি, তবুও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হচ্ছে না। সম্প্রতি কানাডার হাইকমিশনারও জানিয়েছেন, তারাও এআই–সৃষ্ট বিভ্রান্তি পুরোপুরি শনাক্ত করতে পারেননি। প্রায় অর্ধেক অপতথ্যের উৎস দেশের বাইরের সীমান্তের বাইরে, যেখানে আমাদের নিয়ন্ত্রণ নেই। তবে সঠিক তথ্য দ্রুত প্রচারের মাধ্যমে অপপ্রচার মোকাবিলায় কৌশল গ্রহণ করা হয়েছে। গণমাধ্যমকে এ ক্ষেত্রে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।