সোমবার, ০৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৯:১৮ অপরাহ্ন
নির্বাচন কমিশনে (ইসি) জমা দেওয়া পঞ্চগড়-১ (সদর–তেঁতুলিয়া–আটোয়ারী) আসনের প্রার্থী সারজিস আলমের আয় সংক্রান্ত নথিতে অসঙ্গতির অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট ও বস্তুনিষ্ঠ তথ্য পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা জানান দুদকের মহাপরিচালক (প্রতিরোধ) মো. আক্তার হোসেন।
তিনি বলেন, পঞ্চগড়-১ আসনের প্রার্থী সারজিস আলমের দাখিল করা হলফনামায় যদি সুনির্দিষ্ট তথ্য ও প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে কমিশন বিষয়টি গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখবে। যথাযথ অভিযোগ পেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) ডেইলি স্টার বাংলার এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া সারজিস আলমের হলফনামা ও আয়কর রিটার্নে আয়ের তথ্যে গরমিল রয়েছে। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এই প্রার্থীর ঘোষিত আয়ের পরিমাণের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য দেখা গেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২৭ বছর বয়সী ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী সারজিস আলম হলফনামায় নিজের পেশা ‘ব্যবসা’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। সেখানে তিনি বার্ষিক ব্যবসায়িক আয় দেখিয়েছেন ৯ লাখ টাকা। তবে ২০২৫-২৬ করবর্ষের আয়কর রিটার্নে তার আয় উল্লেখ করা হয়েছে ২৮ লাখ ৫ হাজার টাকা, যা হলফনামায় দেখানো আয়ের তুলনায় তিন গুণেরও বেশি। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো—এই দুই ধরনের আয়ের তথ্যই তিনি হলফনামায় অন্তর্ভুক্ত করেছেন।
সম্পদের হিসাবেও অসামঞ্জস্য দেখা গেছে। আয়কর রিটার্নে সারজিস তার মোট সম্পদের পরিমাণ উল্লেখ করেছেন ৩৩ লাখ ৭৩ হাজার টাকা। কিন্তু হলফনামায় তার সম্পদ বিবরণীতে তুলনামূলকভাবে অনেক কম অঙ্কের তথ্য দেওয়া হয়েছে।
হলফনামা অনুযায়ী, সারজিসের অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ৫ লাখ ৬১ হাজার টাকা। এর মধ্যে নগদ অর্থ ৩ লাখ ১১ হাজার টাকা, ব্যাংকে জমা ১ লাখ টাকা এবং ইলেকট্রনিক সামগ্রী ও আসবাবপত্রের মূল্য ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা। স্থাবর সম্পদের ক্ষেত্রে তিনি উপহার হিসেবে পাওয়া ১৬ দশমিক ৫ শতাংশ কৃষিজমির কথা উল্লেখ করেছেন, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ধরা হয়েছে ৫ লাখ টাকা।
২০২৫-২৬ করবর্ষে তিনি ৫২ হাজার ৫০০ টাকা আয়কর পরিশোধ করেছেন বলেও নথিতে উল্লেখ রয়েছে।
নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাব অনুযায়ী, সারজিস জানিয়েছেন যে চারজন শুভাকাঙ্ক্ষীর কাছ থেকে (যারা আত্মীয় নন) তিনি উপহার হিসেবে মোট ১১ লাখ টাকা পাওয়ার প্রত্যাশা করছেন। পাশাপাশি একজন ব্যক্তির কাছ থেকে ২ লাখ টাকা ঋণ নেওয়ার কথাও উল্লেখ করেছেন।
এ ছাড়া নথিপত্রে দেখা যায়, তিনি শ্বশুর-শাশুড়ি এবং চাচা-মামাদের কাছ থেকেও উপহার হিসেবে অর্থ পাচ্ছেন। তবে ইসি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত স্ক্যান কপিতে টাকার প্রথম অঙ্ক অস্পষ্ট হওয়ায় সঠিক পরিমাণ নির্ধারণ করা যায়নি।
দৃশ্যমান সংখ্যার ভিত্তিতে ধারণা করা হচ্ছে, প্রত্যেকের কাছ থেকে তিনি কমপক্ষে ১ লাখ টাকা করে পাচ্ছেন। পাশাপাশি শ্যালকের কাছ থেকে ঋণ হিসেবে অন্তত ১ লাখ টাকা নেওয়ার তথ্যও হলফনামায় উল্লেখ রয়েছে।