সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ১১:৫৪ পূর্বাহ্ন
বাংলাদেশের রাজনৈতিক অস্থিরতার পটভূমিতে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক উচ্চপর্যায়ের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন উন্মোচিত হয়েছে। বুধবার (৫ মার্চ) বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৬টার পর জাতিসংঘের মানবাধিকার হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক জেনেভায় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন। এতে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণআন্দোলনের সময়কার ভয়াবহ নির্যাতন ও হত্যার চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
জাতিসংঘের ইউটিউব চ্যানেলে সরাসরি সম্প্রচারিত এই উপস্থাপনায় উঠে আসে, কীভাবে শেখ হাসিনা সরকারের বাহিনী আন্দোলন দমনে হিংস্র হয়ে ওঠে। নির্যাতনের শিকার হাজার হাজার মানুষের বেদনাদায়ক অভিজ্ঞতা তুলে ধরে প্রতিবেদনটি। আগেই ১২ ফেব্রুয়ারি জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের (ওএইচসিএইচআর) দপ্তর একটি বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল, যেখানে আওয়ামী লীগ সরকারের দমননীতি এবং ভয়াবহ নিপীড়নের চিত্র তুলে ধরা হয়।
প্রতিবেদনে উঠে আসে, আন্দোলনকারীদের নির্মমভাবে দমন করতে নিরাপত্তা বাহিনী মিলিটারি গ্রেড রাইফেল ও প্রাণঘাতী মেটাল প্যালেট লোড করা শটগানের ব্যবহার করে। এতে প্রায় ১,৪০০ জন নিহত হন, আর হাজার হাজার মানুষ গুরুতর আহত হন। অনেকে চিরতরে কর্মক্ষমতা হারান। আন্তর্জাতিক মহলে এই হত্যাযজ্ঞ নিয়ে ব্যাপক উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
২ মার্চ জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী গোয়েন লুইস ঢাকায় প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাতে জানান, জেনেভায় উপস্থাপিত প্রতিবেদনের আলোকে বাংলাদেশে মানবাধিকার, জবাবদিহিতা ও ন্যায়বিচারের বিষয়টি নিয়ে সদস্য রাষ্ট্র ও সংগঠনগুলোর সঙ্গে আলোচনা করা হবে। অর্থাৎ, আন্তর্জাতিক চাপ আরও জোরালো হতে পারে।
এই প্রতিবেদন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। শেখ হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে কঠোর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা বা আরও পদক্ষেপের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না অনেকে।