রবিবার, ৩১ মে ২০২৬, ০৯:৩২ পূর্বাহ্ন
হাসিমুখে স্কুলে এসেছিল, দুপুরেই নিথর হয়ে গেল!
অনলাইন ডেস্ক
রাজস্থানের সিকার জেলার ডান্তা শহরের একটি বিদ্যালয়ে নয় বছরের এক শিক্ষার্থীর অপ্রত্যাশিত মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সোমবার দুপুরে ক্লাস চলাকালীন সময়েই হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে পড়ে সে। চিকিৎসকদের ধারণা, হৃদরোগই এই ট্র্যাজেডির মূল কারণ।
প্রচি কুমাওত নামের এই শিক্ষার্থী সকালেই প্রার্থনায় অংশ নেয়, ছিল অ্যাসেম্বলিতেও। একেবারে সুস্থ ও চঞ্চল ছিল বলে জানায় সহপাঠীরা। কিন্তু দুপুরের খাবার খাওয়ার সময় টিফিন খোলার পরপরই সে হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে পড়ে।
বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা সঙ্গে সঙ্গেই প্রচিকে নিকটবর্তী কমিউনিটি হেলথ সেন্টারে নিয়ে যান। কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, মেয়েটিকে যখন আনা হয় তখন তার কোনো নাড়ির গতি ছিল না, রক্তচাপ ছিল শূন্য এবং শ্বাস-প্রশ্বাসও বন্ধ। সিপিআর, অক্সিজেন ও ইনজেকশনের মাধ্যমে চেষ্টার কোনো কমতি ছিল না।
কিছুটা সাড়া পাওয়ার পর তাকে দ্রুত অ্যাম্বুলেন্সে করে জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়। তবে দুঃখজনকভাবে হাসপাতাল পৌঁছানোর আগেই মেয়েটি প্রাণ হারায়।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জানান, প্রচি গত কয়েক দিন ধরে সর্দি-কাশিতে ভুগছিল, তাই স্কুলে আসেনি। কিন্তু সেদিন সে একেবারেই সুস্থ ছিল বলে মনে হয়েছে।
গণমাধ্যমকে দেওয়া এক বিবৃতিতে চিকিৎসকরা জানান, শিশুদের মধ্যে হৃদরোগজনিত মৃত্যু অত্যন্ত বিরল ঘটনা। জন্মগত হৃদরোগ, বৈদ্যুতিক সংকেতের ত্রুটি বা হঠাৎ হার্ট ফেইলিওর হতে পারে এই মৃত্যুর কারণ।
তারা জানান, প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে প্রচিকে বাঁচানোর জন্য চিকিৎসা চালানো হয়। ময়নাতদন্ত ছাড়া সুনির্দিষ্ট কারণ জানা না গেলেও লক্ষণগুলো দেখে মনে হয়েছে এটি হৃদজনিত সমস্যার ফলেই হয়েছে।
ভাগ্যক্রমে প্রচির মৃত্যুর আগে স্কুলের অ্যাসেম্বলিতে তোলা একটি হাস্যোজ্জ্বল ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে দেখা যায়, সে নিজের নাম বলছে এবং আনন্দিত ভঙ্গিতে পরিচয় দিচ্ছে।
পরিবার প্রচির মরদেহ বাড়িতে নিয়ে গেছে এবং ময়নাতদন্তে রাজি হয়নি। পরিবারের দাবি, মেয়েটির আগে কোনো গুরুতর শারীরিক জটিলতা ছিল না। তাদের এই হঠাৎ শোকের ভার ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয় বলে জানান তারা।