শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০৭ অপরাহ্ন
মৃত্যুকে জয় করে মানবতার পাঠ দিলেন সাহসিনী মাহেরীন
অনলাইন ডেস্ক
ঢাকার উত্তরায় ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় শিক্ষিকা মাহেরীন চৌধুরী নিজের জীবন দিয়ে অন্তত ২০ শিক্ষার্থীর প্রাণ রক্ষা করেছেন। মৃত্যুর মুখোমুখি হয়েও তিনি পিছিয়ে যাননি, একচুলও সরেননি দায়িত্ব থেকে। তার আত্মত্যাগে স্তব্ধ হয়ে গেছে গোটা দেশ। চারদিকে যখন ধোঁয়ার কুন্ডলী আর আতঙ্কের ছায়া, তখন সন্তানের মতো শিক্ষার্থীদের বাঁচাতে ঝাঁপিয়ে পড়ে নিজেই হারিয়ে গেলেন না-ফেরার দেশে। মাহেরীন চৌধুরীর এই বীরত্বগাঁথা মৃত্যুতে আবেগমথিত শোক জানিয়ে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিয়েছেন জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী আসিফ আকবর।
সেখানে তিনি লিখেছেন, ‘দৌড়াও, ভয় পেও না আমি আছি। প্রয়াত শিক্ষিকা মাহেরীন চৌধুরী নিজের দুই সন্তানের টান ছাড়াও ছাত্রছাত্রীদের প্রতি রেখেছিলেন অমোঘ ভালোবাসা। হেরে গেলেন মা মাহেরীন, কিন্তু জিতে গেলেন সাহসিনী শিক্ষিকা মাহেরীন ম্যাডাম। জিতিয়ে দিলেন শিক্ষকতার মর্যাদাকেও।’ তিনি আরও লেখেন, অনিয়মের এই দেশে মাইলস্টোন ট্র্যাজেডির চেয়ে আরও ভয়ানক দৃশ্য আসবে সামনে, এটাই যেন আমাদের নিয়তি। ভবিষ্যতের আলোকবর্তিকা জ্বালিয়ে রেখে নিজেই পাড়ি জমালেন পরপারে ম্যাডাম মাহেরীন।
তার আবেগঘন ভাষায়, ‘নিয়তির নির্মমতাকেও হার মানিয়ে মা, বাবা আর শিক্ষক—এই তিন পরিচয়কেই একাকার করে দিলেন দ্য সিক্রেট সুপারস্টার ম্যাডাম মাহেরীন। বিনম্র শ্রদ্ধা ও শোককে রূপান্তর করা হোক দুর্জয় শক্তিতে। ঝড়ে ঝরে পড়া সব ফুল জান্নাতের বাগানে ফুটুক নতুন আলোয়—আমিন।’
উল্লেখ্য, সোমবার (২১ জুলাই) দুপুর ১টার পর রাজধানীর উত্তরায় দুর্ঘটনার কবলে পড়ে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান। সেটি উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের একটি ভবনে গিয়ে আছড়ে পড়ে এবং মুহূর্তেই দাউদাউ করে আগুন ধরে যায়। যে ভবনে বিমানটি বিধ্বস্ত হয় সেখানে শতাধিক শিক্ষার্থী অবস্থান করছিল, যাদের অনেকে হতাহত হয়েছে বলে গণমাধ্যমে উঠে এসেছে।