শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ১২:৫৩ অপরাহ্ন
অনলাইন ডেস্ক,
সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে অবস্থিত শান্তিপুর নদী উপজেলার হাওরগুলোর জন্য আগাম বন্যার হুমকির উৎস হিসেবে পরিচিত। প্রায় ৩৭ বছর আগে পাহাড়ি ঢলে ভেসে আসা বালু ও পলি নদী মুখে জমে গিয়ে হাওরবাসী আগাম বন্যা থেকে রক্ষা পেয়েছিলেন।
কিন্তু বিগত এক বছরে নদী থেকে শত কোটি টাকার বালু লুট করেছে একটি প্রভাবশালী মহল। এই অবৈধ বালু উত্তোলনের ফলে উপজেলার বৃহত্তম শনি ও মাটিয়ান হাওর ভয়ঙ্কর ঝুঁকির মুখে পড়েছে। বিশেষ করে আগাম বন্যার আশঙ্কায় কৃষকরা অতিরিক্ত দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।
হাওরপাড়ের কৃষকরা জানান, ১৯৮৮ সালের ভয়াবহ বন্যার আগে প্রতিবছর ফাল্গুন মাসে শান্তিপুর নদীর মুখে বিকল্প ফসল রক্ষা বাঁধ দেওয়া হতো। পরে পাহাড়ি ঢলে ভেসে আসা বালু নদীর মুখ প্রাকৃতিকভাবেই ভরাট হয়ে যাওয়ায় আর বাঁধ দেওয়ার প্রয়োজন হয়নি।
কৃষকরা অভিযোগ করেন, এক বছর ধরে বালুদস্যুরা নদীমুখ থেকে বিপুল পরিমাণ বালু তুলেছে। এতে শনির ও মাটিয়ান হাওরের ফসল রক্ষাবাঁধ আবারও ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
মাটিয়ান হাওর পাড়ের বড়দল গ্রামের ইউপি সদস্য জুয়েল মিয়া বলেন, শান্তিপুর নদী উপজেলার বৃহত্তম হাওরের প্রবেশমুখ। একবার নদীর মুখ পুরোপুরি খুলে গেলে প্রতিবছর আগাম বন্যায় ফসল তলিয়ে যাবে।
স্থানীয় পরিবেশকর্মী আবুল হোসেন, রফিকুল ইসলাম ও মুজিবুর রহমান অভিযোগ করেছেন, বিগত সময়ে কেউ নদী থেকে বালু তুলতে সাহস পেত না। কিন্তু বর্তমানে ইজারা ছাড়াই বালু লুটের উৎসব চলছে। প্রভাবশালী একটি চক্র প্রতিদিন অবাধে নদী থেকে বালু উত্তোলন করছে, যা হাওরাঞ্চলের কৃষি, প্রকৃতি ও পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি।
তারা আরও জানিয়েছেন, প্রশাসনের নাকের ডগায় প্রতিদিনই বালুখেকো চক্র ছোট নৌকায় বালু উত্তোলন করে দক্ষিণ বড়দল ইউনিয়নের টাকাটুকিয়া, কামারকান্দি, রামেরশ্বরপুর, তাহিরপুর সদর ইউনিয়নের চিকসা, জামলাবাজ, গাজিপুর এবং উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নের বালিয়াঘাট ও তেলিগাঁও এলাকায় মজুদ রাখে। পরে রাতে ১০–১৫ হাজার ঘনফুট ধারণক্ষমতা সম্পন্ন বাল্কহেডে লোড করে দেশের বিভিন্ন জেলায় পাচার করা হয়।
অবৈধ বালু উত্তোলন প্রসঙ্গে তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী হাসান মানিক বলেন, “আমি এখানে নতুন এসেছি। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি অভিযান পরিচালনা করেছি। অনেককে জেল ও জরিমানা করা হয়েছে। অবৈধভাবে বালু উত্তোলন কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।”