রবিবার, ৩১ মে ২০২৬, ০৮:১৯ অপরাহ্ন
উমরাহর নামে ছদ্মবেশী প্রতারকের অভিনব ফাঁদ ভেঙে গেল!
অনলাইন ডেস্ক
চাতুর্যে পরিপূর্ণ এক প্রতারক। কখনো মানবাধিকারকর্মী, কখনো ইমিগ্রেশন অফিসার, আবার কখনো ডিবি সদস্যের ছদ্মবেশে মানুষের বিশ্বাস অর্জন করাই যার দক্ষতা। ছলনার আশ্রয়ে প্রতারণা করাই যার পেশা। সেই বহুরূপী প্রতারক কামাল হোসেন ওরফে ইমন (৩৭), অবশেষে শ্বশুরবাড়িতে লুকিয়ে থেকেও পুলিশের হাত থেকে রক্ষা পেলেন না।
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী রেজিস্ট্রার আশরাফুল ইসলামের করা প্রতারণার মামলায় সোমবার (৪ আগস্ট) রাতে নাটোরের নলডাঙ্গা থেকে গ্রেপ্তার হন কামাল। পীরগঞ্জ থানা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে এবং মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) আদালতে হাজির করলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
জানা গেছে, আশরাফুল ইসলাম তার বাবা-মা ও খালাকে নিয়ে পবিত্র উমরাহ পালনের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এ সময় অনলাইনে পরিচয় হয় কামালের সঙ্গে, যিনি নিজেকে ইমিগ্রেশন অফিসার এবং একটি হজ এজেন্সির মালিক বলে পরিচয় দেন। এই পরিচয়ের আড়ালে শুরু হয় প্রতারণার জাল। উমরাহর যাবতীয় খরচ বাবদ তিনি ৩ লাখ ২০ হাজার টাকা অগ্রিম নেন। এরপরই গায়েব হয়ে যান কামাল—ফোন বন্ধ, ঠিকানা ভুয়া। তখনই আশরাফুল বুঝতে পারেন—তিনি এক বড় ফাঁদে পা দিয়েছেন।
ঘটনার পর ৫ ফেব্রুয়ারি পীরগঞ্জ থানায় একটি মামলা করেন আশরাফুল ইসলাম। তদন্তে নামে পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় এবং ব্যাংক লেনদেন বিশ্লেষণ করে নিশ্চিত হয় প্রতারণার মূল হোতা কামাল হোসেন। এরপর পীরগঞ্জ থানার একটি বিশেষ টিম নাটোরের নলডাঙ্গা থানার ঠাকুর লক্ষ্মীকুল গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে। সেখানে তিনি শ্বশুরবাড়িতে আত্মগোপনে ছিলেন।
পুলিশ জানিয়েছে, কামাল কেবল একা নন, তিনি একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের সক্রিয় সদস্য। ধর্মীয় অনুভূতিকে কাজে লাগিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই এমন প্রতারণা চালিয়ে যাচ্ছিলেন। কখনো মানবাধিকারকর্মী, কখনো আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য সেজে সহজ-সরল মানুষদের টার্গেট করাই ছিল তার মূল পন্থা।
পীরগঞ্জ থানার ওসি শফিকুল ইসলাম বলেন, কামাল দীর্ঘ সময় ধরে বিভিন্ন ছদ্মবেশে অসংখ্য মানুষকে প্রতারিত করেছেন। তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চক্রের অন্য সদস্যদের খোঁজে তৎপর রয়েছে পুলিশ—তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।