রবিবার, ৩১ মে ২০২৬, ০৮:১৯ অপরাহ্ন
জাতীয় মঞ্চে বড়লেখা কলেজ, সৃজনশীলতায় প্রথম স্থান!
অনলাইন ডেস্ক
জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস ২০২৫ উপলক্ষে আয়োজিত ‘২৪-এর রঙে গ্রাফিতি ও চিত্রাঙ্কন’ প্রতিযোগিতায় জাতীয় পর্যায়ে প্রথম হয়ে ইতিহাস গড়েছে মৌলভীবাজারের বড়লেখা সরকারি ডিগ্রি কলেজ।
সোমবার (৪ আগস্ট) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের পাঠানো এক সরকারি পত্রে এই সাফল্যের ঘোষণা আসে, যা এলাকায় ব্যাপক উচ্ছ্বাস ও গর্বের আবহ সৃষ্টি করে।
জানা যায়, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ প্রতিযোগিতার লক্ষ্য ছিল শিক্ষার্থীদের চিন্তা-সৃজনশীলতা ও গণতান্ত্রিক চেতনা জাগিয়ে তোলা। এতে অংশ নেয় দেশের শতাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।
জাতীয় মূল্যায়ন কমিটির অনুমোদনে চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হয় রোববার (৩ আগস্ট)। এতে কলেজ পর্যায়ে শীর্ষস্থান দখল করে বড়লেখা সরকারি ডিগ্রি কলেজ, স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে এনে দেয় সম্মানের মুকুট।
প্রতিযোগিতায় কলেজটির প্রতিনিধিত্ব করেন দ্বাদশ শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের তিন প্রতিভাবান শিক্ষার্থী—মোয়াজ্জমা লাবিবা বিনতে হামিদ, আমিনা সুলতানা ও নুসরাত জাহান রিয়া।
এ কৃতিত্বের জন্য মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসন কলেজ কর্তৃপক্ষকে আনুষ্ঠানিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছে, আর স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো এ সাফল্যকে লাল গালিচায় বরণ করে নিয়েছে।
প্রতিযোগিতা নিয়ে কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মো. নিয়াজ উদ্দীন বলেন, “আমার শেষ কর্মস্থলের শিক্ষার্থীরা জাতীয় পর্যায়ে প্রথম—এটা শুধু কলেজের নয়, সমগ্র বড়লেখার গর্ব। এমন অর্জন ভবিষ্যতের জন্য আমাদের আশাবাদী করে।”
প্রতিযোগিতায় প্রথম হওয়ার প্রতিক্রিয়ায় কলেজের একাডেমিক কাউন্সিলের সেক্রেটারি মো. আবদুস সবুর বলেন, “এই সাফল্য একক নয়, বরং এটি আমাদের পুরো কলেজ পরিবারের দলগত প্রচেষ্টার ফসল। শিক্ষার্থীদের প্রতিভা, প্রস্তুতি আর আত্মনিয়োগ ছিল নজরকাড়া।”
তিনি আরও বলেন, “শিক্ষার্থীরা গ্রাফিতির প্রতিটি আঁচড়ে যে দৃষ্টিভঙ্গি ফুটিয়ে তুলেছে, তা বিস্ময়কর। অধ্যক্ষ স্যারের দিকনির্দেশনায় তাদের আত্মবিশ্বাস কয়েক গুণ বেড়ে যায়। বড়লেখার নাম জাতীয় পর্যায়ে যেভাবে উঠে এসেছে, তা আমাদের জন্য গর্বের।”
অধ্যক্ষ মো. তোফায়েল আহমদ বলেন, “এ সাফল্য শুধু কলেজের নয়, এটি বড়লেখাবাসীর গর্ব। জাতীয় পর্যায়ের একটি মর্যাদাপূর্ণ প্রতিযোগিতায় প্রথম হওয়া শিক্ষার্থীদের মেধা, সৃজনশীলতা ও মূল্যবোধের অনন্য প্রকাশ।”
তিনি আরও বলেন, “এই সাফল্যের নেপথ্যে রয়েছে শিক্ষার্থীদের নিষ্ঠা, শিক্ষকদের কঠোর পরিশ্রম আর অভিভাবকদের সহযোগিতা। আমি বিশ্বাস করি, এই অর্জন ভবিষ্যতের জন্য পথ দেখাবে। বড়লেখা সরকারি কলেজ এখন জাতীয় আলোচনায়—এটাই আমাদের প্রেরণার বাতিঘর হয়ে থাকবে।”