রবিবার, ৩১ মে ২০২৬, ০৮:১৯ অপরাহ্ন
মধুমতীর ভাঙনে ভেসে যাচ্ছে স্বপ্ন, ঘরবাড়ি, স্কুল-মসজিদ!
অনলাইন ডেস্ক
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার বুক চিরে প্রবাহিত মধুমতী নদী ভয়াল রূপ নিয়েছে। নদীভাঙনের তীব্রতায় হুমকির মুখে পড়েছে অসংখ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্প, ঘরবাড়ি ও হাজারো একর ফসলি জমি। গোপালপুর, টগরবন্দ, পাচুড়িয়া, বানা ও বুড়াইচ—এই পাঁচ ইউনিয়নে নদীর করাল গ্রাসে একের পর এক জনপদ হারিয়ে যাচ্ছে।
২০২৩ সালের ১৬ অক্টোবর প্রায় সাত কিলোমিটার দীর্ঘ নদী রক্ষা বাঁধ নির্মাণকাজের উদ্বোধন করা হলেও এর ধীরগতির কারণে এলাকাবাসী এখন চরম দুর্ভোগে। পাচুড়িয়া, বানা ও বুড়াইচের চরখোলাবাড়িয়া, টগরবন্দের শিকারপুর ও টিটা-পানাইল গ্রামের মানুষ প্রতিদিন আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে।
গোপালপুর ইউনিয়নের স্বপ্ননগর আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাড়িগুলো নদীর খাদের কিনারে দাঁড়িয়ে আছে। আল হেরা দাখিল মাদ্রাসা ও পাশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের রাস্তাও ইতোমধ্যে মুছে গেছে। টগরবন্দ ইউনিয়নের শিকারপুর বাজার, কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও পাড়ার বাড়িগুলো এখন নদী ধ্বংসযজ্ঞের সাক্ষী।
গত ৩০ জুলাই টগরবন্দ ইউনিয়নের শিকারপুর ও টিটা-পানাইল ভাঙন কবলিত এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শনে যান আলফাডাঙ্গা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা রাসেল ইকবাল। তার সঙ্গে ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) এ কে এম রায়হানুর রহমান, উপজেলা প্রকৌশলী মো. রাহাত ইসলাম ও ফরিদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী সন্তোষ কর্মকার।
ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা গণমাধ্যমকে জানান, ইকড়াইল গ্রামের একটি মসজিদ ইতিমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। মাত্র ২০ গজ দূরে দাঁড়িয়ে আছে ইকড়াইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়—ভয়ে অনেক শিক্ষার্থী আর স্কুলমুখো হচ্ছে না। তারা বলেন, যেখানে বাঁধ হওয়ার কথা, সেখানেই ভাঙন; কাজের গতি নেই, দেখভাল নেই, কেবল হাহাকার।
তাদের ভাষায়, পাঁচ গ্রামের অন্তত ১০টি জামে মসজিদ, একটি কলেজ, দুটি হাইস্কুল, চারটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, একটি দাখিল মাদ্রাসা, একটি কমিউনিটি ক্লিনিক, পোস্ট অফিস, হাটবাজার, খামার, ঈদগাহ, কবরস্থানসহ অগণিত স্থাপনা ও ফসলি জমি এখন চরম ঝুঁকিতে।
টগরবন্দ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিয়া আসাদুজ্জামান গণমাধ্যমকে জানান, গত ২৬ মে পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালকের কাছে একটি লিখিত আবেদন জমা দেওয়া হয়েছে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবিতে। কিন্তু বাস্তবায়নের কোনো অগ্রগতি নেই। এখনই উদ্যোগ না নিলে শত শত মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়বে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাসেল ইকবাল বলেন, আমরা পানি উন্নয়ন বোর্ডকে বারবার অনুরোধ জানিয়েছি যেন দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেয়। সময় থাকতে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে না পারলে পরিস্থিতি ভয়াবহ হবে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী সন্তোষ কর্মকার বলেন, বিষয়টি আমরা উচ্চপর্যায়ে জানিয়েছি। শিগগিরই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এলাকা পরিদর্শন করবেন এবং ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন।