রবিবার, ৩১ মে ২০২৬, ০৫:৩৫ অপরাহ্ন
একটি শব্দ, অসীম ভালোবাসা—জানুন মা দিবসের গভীর গল্প।
অনলাইন ডেস্ক
‘মা’—তিন অক্ষরের ছোট্ট একটি শব্দ, কিন্তু এর গভীরতা যেন সীমাহীন! কবি কাজী কাদের নেওয়াজের বিখ্যাত কবিতা ‘মা’-তে যেমন বলা হয়েছে, “মা কথাটি ছোট্ট অতি, কিন্তু জেনো ভাই, ইহার চেয়ে নাম যে মধুর তিন ভুবনে নাই।” ছোটবেলায় পাঠ্য সেই কবিতা এখনো মনের গভীরে গেঁথে আছে অনেকেরই। কারণ ‘মা’ শব্দেই মিশে থাকে স্নেহ, ত্যাগ আর নিঃস্বার্থ ভালোবাসার সর্বোচ্চ রূপ।
শৈশবের দোলাচলে আনন্দ-বেদনা, ভয় কিংবা সাহস—সব অনুভবেই যেন মায়ের ছায়া। পৃথিবীতে মানুষ যতদূরই যাক, তার শেষ আশ্রয় থাকে সেই চিরচেনা মা নামের স্নেহময় নারীর আঁচলেই। একটু কষ্ট পেলেই কিংবা চমকে উঠলে অজান্তে মুখ থেকে বেরিয়ে আসে ‘ও মা!’—এই অভ্যাস যেন জন্মগত।
তাহলে আজ হঠাৎ মা নিয়ে এত কথা কেন? কারণ আজ বিশ্ব মা দিবস। প্রতি বছর মে মাসের দ্বিতীয় রোববারটি এই বিশেষ দিবস হিসেবে পালিত হয়। সেই অনুযায়ী, আজ ১২ মে, রোববার, বিশ্বজুড়ে মা দিবস উদযাপিত হচ্ছে। এই দিনটি কেবল উৎসব নয়, বরং ভালোবাসা আর শ্রদ্ধায় মাকে বিশেষভাবে স্মরণ করার একটি অনন্য সুযোগ।
এই দিবসের পেছনে রয়েছে চমৎকার এক ইতিহাস। ধারণা করা হয়, প্রাচীন গ্রিসে দেবী সিবেল এবং রোমানদের দেবী জুনোর পূজার মাধ্যমেই মা দিবসের ধারণার সূচনা।
ইংল্যান্ড ও ইউরোপেও বহু আগে থেকেই মায়েদের সম্মান জানাতে একটি নির্দিষ্ট রোববার পালন করা হতো। ষোড়শ শতকে ইংল্যান্ডে ‘মাদারিং সানডে’ নামে পরিচিত এই দিনটি ছিল ক্যাথলিক ক্যালেন্ডারের ‘লেতারে সানডে’—অর্থাৎ লেন্ট সিজনের চতুর্থ রোববার।
তবে আধুনিক মা দিবসের ভিত্তি গড়ে ওঠে যুক্তরাষ্ট্রে। ১৮৭০ সালে গৃহযুদ্ধের নিষ্ঠুরতা দেখে আমেরিকান লেখিকা জুলিয়া ওয়ার্ড হোই লেখেন ‘মাদার্স ডে প্রক্লামেশন’। এতে তিনি শান্তি ও মাতৃত্বের আহ্বান জানান।
পরবর্তীতে সমাজকর্মী আনা রিভিজ জার্ভিস এবং তার মেয়ে আনা মেরি জার্ভিস মা দিবসকে সাংগঠনিক রূপ দেন। ১৯০৫ সালে আনা রিভিজ মৃত্যুবরণ করলে, তার সম্মানে আনা মেরি জার্ভিস সরকারিভাবে মা দিবস পালনের আন্দোলন শুরু করেন।
১৯০৮ সালের ১০ মে পশ্চিম ভার্জিনিয়ার আন্দ্রেউজ মেথডিস্ট এপিসকোপাল চার্চে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রথম মা দিবস উদযাপন হয়। এর তিন বছর পর ১৯১২ সালে দিনটিকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য বড় পরিসরে প্রচার শুরু হয়।
এই আন্দোলন ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ে কানাডা, মেক্সিকো, চীন, জাপান, দক্ষিণ আমেরিকা ও আফ্রিকার নানা দেশে। অবশেষে ১৯১৪ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট উড্রো উইলসন মে মাসের দ্বিতীয় রোববারকে ‘মাদার্স ডে’ হিসেবে ঘোষণা দেন এবং এটি একটি জাতীয় ছুটির দিন হিসেবে স্বীকৃতি পায়।
এরপর থেকেই এই দিনটি বিশ্বের নানা দেশে মায়েদের সম্মান জানানোর বিশেষ দিন হিসেবে উদযাপিত হয়ে আসছে। আজ সেই হৃদয়ছোঁয়া মা দিবস—গণমাধ্যমসহ নানা মহলে মায়ের প্রতি ভালোবাসা জানানোর দিন।