রবিবার, ৩১ মে ২০২৬, ০৯:৩২ অপরাহ্ন
ঈদের ভিড়ে আনন্দের সঙ্গেই ওত পেতে আছে বিপদের ছায়া—সাবধান না থাকলে উৎসব হতে পারে বিষাদময়!
অনলাইন ডেস্ক
ঈদের আগমন মানেই নতুন পোশাক, জমজমাট মার্কেট আর কেনাকাটার ধুম। কিন্তু এই রঙিন উৎসবের আবহেই গা ঢাকা দিয়ে থাকে কিছু অদৃশ্য ফাঁদ—পকেটমার, জাল টাকা, অতিরিক্ত খরচ কিংবা শিশু হারানোর মতো ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি। তাই আনন্দদায়ক ঈদ শপিং নিশ্চিত করতে চাই সজাগ দৃষ্টি ও একটু বাড়তি সতর্কতা।
১. ভিড় মানেই বিপদ—পকেটমার ও ছিনতাইকারীদের ফাঁদে পা দেবেন না
বিপণিবিতান, মার্কেট কিংবা ফুটপাতে ঈদের সময় পকেটমারদের সরব উপস্থিতি থাকে। বেশি নগদ টাকা বহন না করাই শ্রেয়। ব্যাগ শক্ত করে ধরুন, মানিব্যাগ রাখুন সামনের পকেটে। নারীরা কাঁধে না ঝুলিয়ে ব্যাগ জড়িয়ে রাখুন শরীরের সঙ্গে।
২. আরামে অনলাইন, তবে নিরাপদ কিনা দেখুন আগে
অতিরিক্ত ভিড় এড়িয়ে অনলাইন কেনাকাটা হালফিলের ট্রেন্ড হলেও প্রতারণার শিকার হচ্ছেন অনেকে। অর্ডার করুন যাচাই করা ওয়েবসাইট বা পরিচিত পেজ থেকে। ক্যাশ অন ডেলিভারি বা নিরাপদ পেমেন্ট মাধ্যম বেছে নিন।
৩. জাল নোটের ছোবল থেকে সাবধান থাকুন
ঈদের কেনাকাটায় টাকা লেনদেনে হেলাফেলা নয়। দোকানে টাকা নেওয়ার সময় যাচাই করে নিন। সাথে রাখুন নোট চেকার কলম বা কাউন্টারফিট ডিটেক্টর। ফুটপাতের দোকানে কেনাকাটা আরও সতর্ক থেকে করুন।
৪. ভিড়ের বাজারে শিশু যেন না হারিয়ে যায়
বাচ্চার পকেটে রাখুন আপনার ফোন নম্বরসহ ঠিকানা লেখা কাগজ। খুব ভিড় হলে শিশুকে বাজারে না আনা উত্তম। আনলেও তাদের হাত শক্ত করে ধরেই রাখুন।
৫. দীর্ঘক্ষণ কেনাকাটার ফলে হতে পারে অসুস্থতা
বিশেষ করে রোজা রেখে বাজার করতে গিয়ে অনেকেই হিট স্ট্রোকের শিকার হন। হালকা পোশাক পরুন, মাঝে মাঝে বিশ্রাম নিন এবং যথাসম্ভব দলবদ্ধভাবে চলুন।
৬. দরদাম না করে কিনলে ঠকতে হতে পারে
ঈদের বাজারে দাম বাড়িয়ে দেওয়া হয় প্রায় সব পণ্যের। বিভিন্ন দোকানে ঘুরে দাম যাচাই করে তবেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিন।
৭. নগদ নয়, ব্যবহার করুন ডিজিটাল পেমেন্ট
নগদ টাকার বদলে মোবাইল ব্যাংকিং, ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার নিরাপদ। একান্ত প্রয়োজন না হলে বেশি টাকা সঙ্গে রাখবেন না।
৮. চটকদার অফার মানেই সস্তা নয়
‘৮০% ছাড়’-এর মোহে পড়ে অপ্রয়োজনীয় কেনাকাটা করবেন না। অফার মানেই সবসময় লাভ নয়। যাচাই-বাছাই করে তবেই সিদ্ধান্ত নিন।
শেষ কথা
ঈদের কেনাকাটা হোক আনন্দময়, কিন্তু সতর্কতার ছাতার নিচে থেকেই। নিরাপত্তা, পরিকল্পনা আর সচেতনতা—এই তিনেই লুকিয়ে আছে ঝামেলামুক্ত উৎসবের মূল চাবিকাঠি!