বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ০২:৫২ পূর্বাহ্ন
ঢাকার বাতাসে বিষ—নিঃশ্বাসেই ঢুকে পড়ছে বিপদ!
অনলাইন ডেস্ক
বিশ্বজুড়ে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে বায়ুদূষণ। এর ছায়া বাংলাদেশেও, বিশেষ করে রাজধানী ঢাকায়, ক্রমেই ঘনিয়ে আসছে বিষাক্ত বাতাসের চাদর। বছরের শুরুতে কিছুটা স্বস্তিকর অবস্থা থাকলেও আজ সকালেই ঢাকার বাতাস ‘অস্বাস্থ্যকর’ মাত্রায় পৌঁছেছে।
সোমবার (২৮ জুলাই) সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন বায়ু বিশ্লেষণ প্রযুক্তি সংস্থা আইকিউএয়ার এ তথ্য জানায়।
আন্তর্জাতিক তালিকায় দেখা যায়, বায়ুদূষণে আজ শীর্ষে আছে পাকিস্তানের শহর লাহোর—যেখানে বায়ুমান সূচক (একিউআই) স্কোর দাঁড়িয়েছে ১৭৭। এরপর ১৭৩ স্কোর নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে বাহরাইনের রাজধানী মানামা। ১৭২ স্কোর নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে আফ্রিকার কিনশাসা। ঢাকার অবস্থান সাত নম্বরে, স্কোর ১৫৬—যা এক কথায় জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি।
আইকিউএয়ার অনুসারে, একিউআই স্কোর ০-৫০ হলে বাতাস ‘ভালো’, ৫১-১০০ হলে ‘মধ্যম’, ১০১-১৫০ হলে তা সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য বিপজ্জনক। ১৫১-২০০ হলে বাতাস ‘অস্বাস্থ্যকর’, ২০১-৩০০ হলে তা ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ আর ৩০১-৪০০ হলে সেই বাতাস ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে বিবেচিত হয়। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থদের জন্য এটি হতে পারে প্রাণঘাতী।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একিউআই নির্ধারণে মূলত পাঁচটি দূষক গ্যাস এবং কণার মাত্রা বিবেচনা করা হয়—PM10, PM2.5, NO2, CO, SO2 এবং ওজোন। এর মধ্যে সবচেয়ে ক্ষতিকর হচ্ছে পিএম২.৫ কণা, যা সহজেই ফুসফুসে প্রবেশ করে শরীরে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি করে।
গণমাধ্যম জানায়, ঢাকায় দিনের পর দিন এমন বায়ুদূষণ মানে নিঃশ্বাসে ধীরে ধীরে বিষ গ্রহণ। এমনকি ঘরবন্দি থাকলেও নিরাপদ নয়, কারণ ঘরের ভেতরেও এই কণাগুলো প্রবেশ করে। সবচেয়ে ঝুঁকিতে রয়েছে হৃদরোগী, অ্যাজমা ও ক্যান্সার আক্রান্তরা।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানায়, বায়ুদূষণ বিশ্বব্যাপী প্রতিবছর প্রায় ৭০ লাখ মানুষের মৃত্যুর পেছনে দায়ী। এটি শুধু শ্বাসযন্ত্র নয়—স্ট্রোক, হার্ট অ্যাটাক, সিওপিডি, ফুসফুসের ক্যান্সারসহ নানা প্রাণঘাতী রোগের জন্ম দেয়।
ঢাকার মতো ঘনবসতিপূর্ণ শহরে দূষণ মোকাবিলায় শুধু সচেতনতাই নয়, প্রয়োজন দৃঢ় নীতিমালা, পরিবেশবান্ধব গণপরিবহন, নির্মাণকাজে ধুলা নিয়ন্ত্রণ এবং কারখানাগুলোতে নির্গমন সীমা নিশ্চিত করা। না হলে আমরা প্রতিদিন একটু একটু করে শ্বাস নিচ্ছি মৃত্যুর দিকে।