বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ০১:৩৯ অপরাহ্ন
১৩ কোটি ভোটার, ভোটকেন্দ্র বাড়ছে নিরাপত্তায় জোর বাড়ানো হবে।
অনলাইন ডেস্ক
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটার সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে ধাপে ধাপে, যা এখন পৌনে ১৩ কোটির কাছাকাছি পৌঁছাতে চলেছে। এই ভোটার বৃদ্ধির ফলে ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা নিয়েও বাড়তি চাপ দেখা দিচ্ছে। ভোটার অনুপাতে নতুন করে প্রায় পৌনে ৩ হাজার কেন্দ্র যোগ করে মোট ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা বাড়ানো হচ্ছে ৪৫ হাজারের আশপাশে।
নির্বাচন কমিশন (ইসি) সূত্রের বরাতে জানা যায়, খুব শিগগিরই ভোটার সংখ্যা অনুযায়ী ভোটকেন্দ্র নির্ধারণ ও প্রস্তুতি নিয়ে সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হবে। সভায় ভোটকেন্দ্র নির্ধারণ ছাড়াও ভোটের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।
ইসির সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোট ভোটার ছিলেন ১২ কোটি ৩৭ লাখ ৪০ হাজার ৩৭৪ জন এবং মোট ৪২ হাজার ১৪৮টি ভোটকেন্দ্র ব্যবহৃত হয়েছিল। তবে ২০২৫ সালের ভোটার তালিকা হালনাগাদ শেষে সম্ভাব্য ভোটারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২ কোটি ৭৪ লাখ ৮৮ হাজার ৯৮৩ জনে। এর ফলে ভোটার বৃদ্ধির কারণে নতুন করে ২ হাজার ৭৮৬টি ভোটকেন্দ্র যুক্ত করতে হতে পারে, যা নিয়ে মোট ভোটকেন্দ্র দাঁড়াবে ৪৪ হাজার ৯৩৪টির মতো।
সম্প্রতি মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট বিভাগের সচিব এবং স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর ও শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীদের ইসি ভোটকেন্দ্র সংস্কার নিয়ে নির্দেশনা প্রদান করেছে।
ইসির উপসচিব দেওয়ান মো. সারওয়ার জাহানের পাঠানো নির্দেশনায় বলা হয়, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের জন্য ব্যবহৃত ভোটকেন্দ্র ও সম্ভাব্য নতুন ভোটকেন্দ্রের মধ্যে বেশ কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বাউন্ডারি দেয়াল নেই অথবা দরজা-জানালা পুরনো ও দুর্বল অবস্থায় রয়েছে। এসব স্থানে জরুরি সংস্কার ও মেরামতের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে নিজস্ব অর্থায়নে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
ইসি কর্মকর্তারা জানান, ভোটকেন্দ্র চূড়ান্ত করার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েনের বিষয়টিও ঠিক করবে সংস্থাটি। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আনসার-ভিডিপি থেকে শুরু করে কোস্টগার্ড, বিজিবি ও পুলিশের বিপুল সদস্য ভোট নিরাপত্তায় নিয়োজিত ছিল। মোট ছিল সাত লাখ ৪৭ হাজার ৩২২ জন সদস্য।
সেই নির্বাচনে আনসারদের জন্য জনপ্রতি ৬৩৭ থেকে এক হাজার টাকা, কোস্টগার্ডকে ৬৩৭ থেকে এক হাজার ৮২০ টাকা, বিজিবি ৪০০ থেকে এক হাজার ২২৫ টাকা এবং পুলিশকে ৪০০ থেকে এক হাজার ৬০৬ টাকা জনপ্রতি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। ত্রয়োদশ নির্বাচনে ভোটকেন্দ্র বৃদ্ধির কারণে নির্বাচন পরিচালনার খরচও বাড়বে, যা বরাদ্দ থেকে বহন করা হবে।
গণমাধ্যমে এ বিষয়ে নির্বাচনী প্রস্তুতি ও আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক সর্বশেষ তথ্য প্রকাশ করা হবে।