মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ১১:২৮ অপরাহ্ন
ঈদে নতুন টাকা, যেখানে দেশের ঐতিহ্য ফুটে উঠবে!
অনলাইন ডেস্ক
আসন্ন ঈদে বাজারে আসছে সম্পূর্ণ নতুন ডিজাইনের টাকা, যেখানে আর থাকবে না কোনো ব্যক্তির ছবি বলে নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর।
শনিবার (২৪ মে) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পল্লী কর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশন-পিকেএসএফের ক্রেডিট এনহান্সমেন্ট স্কিম-সিইএস উদ্বোধনের পর তিনি এসব তথ্য জানান।
গভর্নর মনসুর জানান, নতুন নোটগুলোতে থাকবে দেশের ঐতিহ্যবাহী ও সাংস্কৃতিক স্থাপনা। ঈদের আগেই প্রথম বাজারে আসবে ১০০০, ৫০ ও ২০ টাকার নতুন নোট। তিনি আরও বলেন, নতুন নোটে থাকবে দেশের সংস্কৃতির অংশ হিসেবে বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ের প্রতীক, তা মসজিদ হোক বা মন্দির, যা আমাদের জাতীয় ঐতিহ্যেরই অঙ্গ।
টাকশাল সূত্রে জানা গেছে, ২০ টাকার নতুন নোটের মুদ্রণ প্রায় সম্পন্ন। আগামী সপ্তাহে তা বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এরপর ৫০ ও ১০০০ টাকার নোটও বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে দেওয়া হবে। তারপর কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজারে নতুন নোট ছেড়ার সময় নির্ধারণ করবে।
টাকশালের কর্মকর্তারা জানাচ্ছেন, নতুন নোটের নকশা ও ছাপাতে সাধারণত ১ থেকে দেড় বছর সময় লাগে। গত ডিসেম্বরে নতুন নকশার নোট বাজারে আনার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয় অন্তর্বর্তী সরকার। এর ধারাবাহিকতায় চলতি মাসেই টাকশালে নতুন নোট ছাপানো শুরু হয়েছে। বর্তমানে একবারে তিন ধরনের নোট ছাপানোর সক্ষমতা থাকায় প্রথম ধাপে ১০০০, ৫০ ও ২০ টাকার নোটগুলো তৈরি হচ্ছে।
অন্যদিকে, পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে গভর্নর মনসুর বলেন, এটি অন্তর্বর্তী সরকারের দৃঢ় রাজনৈতিক অঙ্গীকার। তিনি উল্লেখ করেন, বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলো অর্থ ফেরত আনার চাপ বাড়িয়েছে। রাজনৈতিক সদিচ্ছা অব্যাহত রাখতে হবে, না হলে পাচার অর্থ দেশে আসবে না। অর্থ ফ্রিজ করাই এখন পর্যন্ত প্রথম সফল ধাপ।
তিনি আরও বলেন, পাচার অর্থ দিয়ে বিদেশে গড়ে তোলা সম্পদ জব্দে সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রগুলোর সহযোগিতা ইতিবাচক। দ্রুত সময়ের মধ্যে এসব সম্পদ দেশে ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি অন্যান্য দেশেও বিক্রি না হওয়ার ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক ডিজিটাল ব্যাংক লাইসেন্স প্রদানের প্রক্রিয়া পুনর্বিবেচনা করবে জানিয়ে গভর্নর বলেন, পূর্বের অনুমোদন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার অভাব ছিল। আগের লাইসেন্স বাতিলের বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
পিকেএসএফ চেয়ারম্যান জাকির আহমেদ খানের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের বাংলাদেশ মিশনের কান্ট্রি ডিরেক্টর হোয়ে ইউন জং ও পিকেএসএফের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মশিয়ার রহমান বক্তব্য দেন।