সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ১১:৩৩ পূর্বাহ্ন
৮.৮ মাত্রার ভূমিকম্পে বিশ্ব কেঁপে উঠল, সতর্ক থাকুন সবাই!
অনলাইন ডেস্ক
রাশিয়ার উপকূলের কাছে শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর বিশ্বের অন্তত ১৪টি দেশ ও অঞ্চলে জারি হয়েছে সুনামি সতর্কতা। রিখটার স্কেলে এই ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৮ দশমিক ৮। এর ধাক্কায় সবচেয়ে ঝুঁকিতে রয়েছে ওশেনিয়া অঞ্চলের তিন দেশ—পাপুয়া নিউ গিনি, সলোমন দ্বীপপুঞ্জ ও ভানুয়াতু। যুক্তরাষ্ট্রের আবহাওয়া কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানিয়েছে।
বুধবার (৩০ জুলাই) মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ওশানিক অ্যান্ড অ্যাটমসফেরিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এনওএএ) এই ভয়াবহ সতর্কতা জারি করে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এতটাই তীব্র ছিল ভূকম্পনটি যে, এর প্রভাব একাধিক মহাদেশে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
পাপুয়া নিউ গিনিতে মার্কিন দূতাবাস দেশটির মার্কিন নাগরিকদের জন্য কঠোর নির্দেশনা দিয়েছে। তারা বলেছে, “কেউ যদি উপকূলের আশপাশে থাকেন এবং অস্বাভাবিক ঢেউ, জলোচ্ছ্বাস বা দীর্ঘস্থায়ী কম্পন অনুভব করেন, তবে সঙ্গে সঙ্গেই উঁচু ও নিরাপদ স্থানে সরে যান।”
এছাড়া দূতাবাসের আরও বার্তা—“পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত উপকূল, সৈকত বা নদীর পাড়ে যাওয়া যাবে না। সবাইকে অনুরোধ করা হচ্ছে—পরিবারসহ প্রয়োজনীয় খাবার, পানি, ওষুধ ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র সংগ্রহ করে সতর্ক থাকা উচিত।”
এই ভূমিকম্পের পর এখন পর্যন্ত যেসব দেশ ও অঞ্চলে সুনামি সতর্কতা জারি হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে: রাশিয়া, জাপান, তাইওয়ান, ফিলিপাইন, চীন, পাপুয়া নিউ গিনি, সলোমন দ্বীপপুঞ্জ, ভানুয়াতু, হাওয়াই, গুয়াম, ক্যালিফোর্নিয়া, আলাস্কা, ওরেগন, ওয়াশিংটন, ব্রিটিশ কলাম্বিয়া (কানাডা), মেক্সিকো, পেরু, ইকুয়েডর ও নিউজিল্যান্ড।
যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের ভূকম্পন বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, ভূমিকম্পটির উপকেন্দ্র ছিল গভীর সমুদ্রের তলদেশে। সেখান থেকেই ছড়িয়ে পড়তে পারে বিশাল ঢেউ, যা তছনছ করে দিতে পারে প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলজুড়ে। বিশেষত ‘রিং অব ফায়ার’ অঞ্চলের দেশগুলো এই মুহূর্তে প্রবল ঝুঁকিতে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, রিখটার স্কেলে ৮.৮ মাত্রার ভূমিকম্প মারাত্মক ধরনের। এটি ১০ মিটার বা তারও বেশি উচ্চতার জলোচ্ছ্বাস সৃষ্টি করতে পারে, যা উপকূলীয় এলাকায় বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটাতে সক্ষম।
বিশ্বের ইতিহাসে এমন উচ্চমাত্রার ভূমিকম্প ও সুনামি আগেও বহু প্রাণ কেড়েছে। ২০০৪ সালের ইন্দোনেশিয়ায় ৯.১ মাত্রার ভূমিকম্পের পর ভয়াবহ সুনামিতে প্রাণ হারিয়েছিল দুই লক্ষাধিক মানুষ। তাই এবারও অনেকে বলছেন, সতর্কতাকে হালকাভাবে দেখলে ভুল হবে।
সিএনএন জানিয়েছে, এনওএএ এবং জাপানের আবহাওয়া সংস্থা নিরবিচারে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজনে আরও দেশ ও অঞ্চলে সতর্কতা জারি করা হতে পারে। পাশাপাশি উপকূলরক্ষী বাহিনী ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থাগুলোকে সর্বোচ্চ প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে।
“সতর্কতা মানেই বাঁচার সুযোগ”—এই বার্তা দিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জনগণকে অনুরোধ জানিয়েছে, যেন গুজবে কান না দিয়ে শুধুমাত্র সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ করে সকলে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যায়।