শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ০৮:২৭ অপরাহ্ন
ভুয়া সনদে সরকারি চাকরি! সাবেক মন্ত্রীর আত্মীয়রা অভিযুক্ত
অনলাইন ডেস্ক
সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ভুয়া সনদ ব্যবহার করে চাকরি পাওয়া এবং নিয়োগে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে সাবেক সমাজকল্যাণমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদের ঘনিষ্ঠ চার আত্মীয়ের বিরুদ্ধে। বিষয়টি খতিয়ে দেখে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর তদন্ত প্রতিবেদন পাঠিয়েছে জেলা প্রশাসন।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, সাবেক মন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদের শ্যালিকার মেয়ে উম্মে হাবিবা, মামাতো ভাইয়ের মেয়ে আরিফা খানম ও তার স্বামী নুরুল আলম হবু এবং মামাতো ভাইয়ের ছেলের স্ত্রী আমিনা খাতুন বিভিন্ন সময় শেখ জায়েদ বিন সুলতান আল নাহিয়ান ট্রাস্ট এবং এর অধীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অনিয়মের মাধ্যমে নিয়োগ পান। অভিযোগে বলা হয়েছে, তাদের কারও নিয়োগেই প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত যোগ্যতা, সনদ কিংবা অভিজ্ঞতা ছিল না।
এ বিষয়ে লাভলু শেখ নামে স্থানীয় এক ব্যক্তি ৪২ পৃষ্ঠার লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। তার দাবি, ক্ষমতার অপব্যবহার করে অযোগ্য আত্মীয়দের নিয়োগ দিয়ে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে অপমান করা হয়েছে এবং যোগ্য চাকরি প্রত্যাশীদের সঙ্গে অন্যায় করা হয়েছে।
অভিযোগে যুক্ত দলিল থেকে জানা যায়, উম্মে হাবিবা ২০২১ সালের ৪ জানুয়ারি ট্রাস্টের প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে এইচএসসি সনদ নিয়ে নিয়োগ পান, যেখানে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি ছিল আবশ্যিক। তিনি অঙ্গীকার করেছিলেন ছয় মাসের মধ্যে সনদ জমা দেবেন, কিন্তু এখনো তা জমা দেননি। বরং তাকে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয় মিরপুর আল নাহিয়ান শিশু পরিবারের উপতত্ত্বাবধায়ক পদে। এমনকি ফ্ল্যাট ভাড়া বাবদ বরাদ্দকৃত অর্থ আত্মসাতের অভিযোগেও তার বিরুদ্ধে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়।
আরিফা খানমের বিরুদ্ধে ভুয়া বিএড সনদ, আমিনা খাতুনের বিরুদ্ধে বিএড ও এমএড ছাড়াই সহকারী প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ এবং নুরুল আলম হবুর বিরুদ্ধে যোগদানের তারিখ জালিয়াতির মাধ্যমে পদোন্নতির অভিযোগ রয়েছে। এসব অনিয়মে নিয়ম লঙ্ঘন, চাকরি বিধি ভঙ্গ ও সনদ জালিয়াতির নানা প্রশ্ন উঠেছে।
উম্মে হাবিবা বলেন, “আমি সনদ জমা দেওয়ার কথা বলেছিলাম, তবে সময়সীমা নির্ধারিত ছিল না। পূর্ব কর্মস্থল থেকে সনদ আনতে দেরি হয়েছে। আমি নিজ যোগ্যতায় চাকরি পেয়েছি, পরিবারের পরিচয়ের কারণে নয়।”
নুরুল আলম হবু বলেন, “আমার যোগদানের তারিখ ও পদোন্নতি নিয়ে অভিযোগের তদন্ত শেষে যদি কিছু প্রমাণ হয়, তখন সে অনুযায়ী ব্যবস্থা হোক। আপাতত আমি মন্তব্য করতে চাই না।”
আরিফা খানম ও আমিনা খাতুনের মোবাইলে একাধিকবার ফোন করা হলেও তারা কল রিসিভ করেননি।
লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক এইচ এম রকিব হায়দার গণমাধ্যমকে জানান, প্রাপ্ত অভিযোগ গুরুত্বসহকারে আমলে নিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। তারা প্রয়োজনীয় তদন্ত ও ব্যবস্থা নেবেন।
উল্লেখ্য, সাবেক মন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ বর্তমানে দুর্নীতি ও হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। সরকার পরিবর্তনের পর তার মেয়াদে হওয়া অনিয়মের নানা তথ্য এখন একে একে প্রকাশ পাচ্ছে।