শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ০৮:২৭ অপরাহ্ন
ঈদের আগে এমপিওভুক্তদের জন্য সরকারের দারুণ চমক!
অনলাইন ডেস্ক
বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটতে চলেছে পবিত্র ঈদুল আজহার আগেই। আন্দোলন, অভিযোগ আর অনিশ্চয়তার ভিড়ে এবার সত্যিকার অর্থেই ঈদের আগে শিক্ষকদের ঘরে আসতে চলেছে স্বস্তির বেতন ও বোনাসের খবর।
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আজাদ খান গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন, শিক্ষক-কর্মচারীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ঈদের ছুটি শুরুর আগেই বকেয়া বেতন এবং বর্ধিত বোনাস পরিশোধের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ৫ জুন থেকে শুরু হতে যাওয়া ঈদের ছুটির আগেই এই অর্থ ছাড়ের প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে।
জানা গেছে, এপ্রিল মাসের বেতন এবং ঈদুল আজহার বোনাস একসঙ্গে নাও আসতে পারে, তবে শিক্ষকদের মুখে হাসি ফোটাতে বোনাসের অর্থই আগে ছাড় হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। এবারের সুখবর শুধু সময় মতো বোনাস পাওয়ায় সীমাবদ্ধ নয়—এবার থেকে শিক্ষকদের বোনাস হবে তাদের মূল বেতনের ৫০ শতাংশ হারে, অর্থাৎ এই প্রথমবারের মতো বড় অঙ্কের বোনাসের মুখ দেখবেন তারা।
অর্থ মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যেই এ প্রস্তাবে সায় দিয়েছে। ফলে এবার কোরবানির ঈদে শিক্ষকরা পাচ্ছেন বাড়তি আনন্দের বার্তা। তবে কর্মচারীরা আগের নিয়ম অনুযায়ী পুরনো হারে বোনাস পাবেন।
মাউশি অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা আরও জানান, শুধু এপ্রিলের বেতন নয়—ডিসেম্বর থেকে এপ্রিল পর্যন্ত পাঁচ মাসের বকেয়া বেতন এবং বৈশাখী ভাতা পরিশোধে সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে আদেশ (জিও) জারি করা হয়েছে।
পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, এপ্রিল মাসের প্রথম ধাপে ৩ লাখ ৭৮ হাজার ৯০৭ জন শিক্ষক-কর্মচারীর অর্থ ছাড়ের সিদ্ধান্ত হয়েছে। পাশাপাশি, ডিসেম্বরের সপ্তম ধাপে ১ হাজার ২৪২ জন, জানুয়ারির চতুর্থ ধাপে ১ হাজার ৫৫৬ জন, ফেব্রুয়ারির তৃতীয় ধাপে ১ হাজার ৫৭৩ জন এবং মার্চের দ্বিতীয় ধাপে আংশিক ১ হাজার ৫৭৩ জন শিক্ষক-কর্মচারীর বকেয়া বেতন ও ভাতা ছাড় হবে।
এদিকে, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা যেখানে ইএফটির (ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার) মাধ্যমে বেতন-ভাতা পেয়ে আসছেন, সেখানে এখনও অনেক এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারী ভোগান্তিতে রয়েছেন অ্যানালগ পদ্ধতির কারণে। যদিও এখন ধীরে ধীরে অনেকে ইএফটি পদ্ধতির আওতায় আসছেন, তবুও ইএমআইএস সেলে নিয়োজিত কর্মীদের অবহেলা ও মাঠপর্যায়ে উপজেলা ও জেলা শিক্ষা অফিসারদের গাফিলতির কারণে অনেক শিক্ষক এখনও ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
এমতাবস্থায়, ঈদের আগেই বেতন-বোনাস হাতে পাওয়ার বিষয়টি যেন শিক্ষকদের জন্য এক রকম ‘ঈদ উপহার’। যারা মাসের পর মাস স্কুলে গিয়ে ক্লাস করেও পারিশ্রমিক পেতে হিমশিম খেয়েছেন, তাদের জন্য এই অর্থ শুধু একটা পরিমাণ টাকা নয়—বরং এটি স্বীকৃতি, স্বস্তি এবং মর্যাদার প্রতীক হয়ে উঠেছে।
বেসরকারি শিক্ষকদের এই বাস্তবতা যেমন ঈদের আনন্দ বাড়াবে, তেমনি নীতিনির্ধারকদেরও মনে করিয়ে দেবে—সম্মান আর প্রতিশ্রুতির জায়গায় শিক্ষকেরা যেন কখনো অবহেলার শিকার না হন।