রবিবার, ৩১ মে ২০২৬, ০৮:০১ অপরাহ্ন
এক জীবনে দুটো মাকে পাওয়া কি আশীর্বাদ, নাকি যন্ত্রণার ওজন?
অনলাইন ডেস্ক
একটা শিশুর চোখে মা মানে যে শুধু আদর নয়, নিরাপত্তা, নিশ্চয়তা আর মমতার ছায়া—আমার জীবনে সেই ছায়া ছিল দুজনের। কিন্তু এই দুজনকে নিয়ে কোনো কবিতা শুনলে আমি আবেগে ভাসতে পারতাম না। কারণ তখনও বুঝতাম না, কোনজন আমার আসল মা?
ছোটবেলায় স্কুলে যাবার আগে যিনি গায়ে পানি ঢেলে দিতেন, নাশতা খাইয়ে চুল বেঁধে দিতেন—তাঁকে মা ভাবতাম। আবার স্কুল বন্ধ হলে যাঁর কাছে কয়েকটা দিনের জন্য যেতাম, যিনি আমাকে পেয়ে চোখ ভিজিয়ে দিতেন—তাঁকেও মা ডাকতাম। একটা বয়সে মনে হতো, আমার মা–বাবা বুঝি দুই সেট।
বড় হতে হতে একদিন বুঝলাম, যে মা সারাবছর আমার পাশে থাকেন, যাঁর বুকে মাথা রেখে ঘুমাই, তিনি আমাকে জন্ম দেননি। আমার পিসি, বাবার ছোট বোন। তাঁর সন্তান হওয়ার সৌভাগ্য হয়নি। আর তাই বাবার কোলে ঘুমন্ত আমায় তুলে দিয়ে মা বানিয়ে দেওয়া হয়েছিল তাঁকে।
তাঁর ভালোবাসা, পরিচর্যা, আত্মত্যাগ—সব ছিল নিখুঁত এক মায়ের চেয়ে কম কিছু নয়। তিনি আমার স্বপ্ন দেখার চোখ তৈরি করে দিয়েছেন, আমার হাত ধরে প্রথম কবিতার মঞ্চে নিয়ে গেছেন, জীবনের প্রতিটা বাঁকে ছিলেন আমার সবচেয়ে বড় সমর্থন।
আজ তিনি বৃদ্ধ, শ্রবণশক্তি কমে এসেছে, কথা ভুলে যান। তাঁকে আগলে রাখতে হয় আমাকে। হুডওয়ালা রিকশায় এবার আমি তাঁর হাত ধরি।
আর আমার জন্মদাত্রী মা? যিনি এক জীবনে হারালেন নিজের সন্তানকে। শরীর যেখানে, আত্মা তো থেকে গেল অন্য কোথাও। তাঁর জন্যও মনটা কাঁদে। কিন্তু এই সমাজে, এই বাস্তবতায় তাঁকে জড়িয়ে ধরার, ‘মা’ বলে ডাকার অধিকার যেন মুছে গেছে। তাঁকে বলা হয়নি, “তোমারও খুব দরকার ছিল, মা।”
না, মায়ের কোনো আসল-নকল হয় না। শুধু ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়, কে কাছে থাকবে, আর কে থেকে যাবে দূরে… বুকের গভীরতম চুপচাপ ভালোবাসার জায়গায়।