রবিবার, ৩১ মে ২০২৬, ০৮:০১ অপরাহ্ন
বন্যা, নদীভাঙন, অভাব—সব প্রতিকূলতাকে পেছনে ফেলে সিরাজগঞ্জের তাঁতিরা গড়ছেন কোটি টাকার তাঁত সাম্রাজ্য!
অনলাইন ডেস্ক
বাংলাদেশের তাঁতশিল্প মানেই টাঙ্গাইল—এই ধারণা এখন পুরনো। কারণ, সিরাজগঞ্জ এখন দেশের বয়নশিল্পের প্রকৃত রাজধানী। একসময় পাবনার অন্তর্গত হলেও সিরাজগঞ্জের তাঁতিরা সব প্রতিকূলতাকে জয় করে গড়েছেন কোটি টাকার শাড়ির সাম্রাজ্য।
প্রতিবছরই বন্যা, নদীভাঙন আর অতি বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত হয় এখানকার জীবন। তবে এই সংকটই যেন তাঁতিদের প্রেরণা। গত ৪০ বছরে বেশ কয়েকটি বড় বন্যা এলেও তাঁতিরা হাল ছাড়েননি। বরং প্রতিটি দুর্যোগ শেষে নতুন উদ্যমে ফিরে এসেছেন তাঁতঘরে। ফলে আজ সিরাজগঞ্জের শাড়ি কেবল দেশের নয়, বিদেশের বাজারেও দাপটের সঙ্গে জায়গা করে নিয়েছে।
বেলকুচি, চৌহালী ও শাহজাদপুর—এই তিন উপজেলায় ছড়িয়ে আছে বয়নশিল্পের প্রাণ। বেলকুচির শেরনগর, তামাই আর মুকুন্দকাটি—তিনটি গ্রামের নামে এখন শাড়িরও নাম হয়! এক লাখের বেশি তাঁত শুধু বেলকুচিতে। তিন উপজেলা মিলিয়ে তাঁত, রঞ্জন, কাটুনি, শ্রমিক—সব মিলিয়ে প্রায় চার লাখ মানুষের জীবিকা এখন এই শিল্পের ওপর নির্ভরশীল।
শাড়ি, লুঙ্গি, গামছা, দোপাট্টা—সবই তৈরি হয় হাতে বোনা তাঁতে। এক টানায় ১৩টি লুঙ্গি বুনে ফেলেন নারী তাঁতিরা! সপ্তাহে তিন দিন হাট বসে, যার মধ্যে শাহজাদপুর হাট এখন দেশের সবচেয়ে বড় শাড়ির হাট। প্রতি হাটে রপ্তানি হয় প্রায় ২০০–৩০০ কোটি টাকার পণ্য। এর অন্তত ৩০ শতাংশ যায় ভারতের বাজারে।
অভিনব রঙ, আধুনিক মোটিফ, বৈচিত্র্যময় উপকরণে সিরাজগঞ্জের শাড়ির জনপ্রিয়তা দিন দিন বাড়ছে। তবে দুঃখজনকভাবে এই শিল্প এখনও ডিজাইনার ও প্রযুক্তিগত সহায়তা থেকে বঞ্চিত। আমদানিনির্ভর কাঁচামাল, অনুপ্রবেশকারী পাওয়ারলুম এবং সরকারি সহায়তার অভাবে হুমকির মুখে এই ঐতিহ্য।
এই গৌরবময় শিল্পকে বাঁচাতে প্রয়োজন সময়োপযোগী নীতিমালা ও সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা। কারণ, শুধু সিরাজগঞ্জ নয়—এই শিল্প বাঁচলে বাঁচবে বাংলাদেশের ঐতিহ্য, বাঁচবে লাখো মানুষের স্বপ্ন।